আপডেট :

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফের তীব্র গরম, ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে তাপমাত্রা

        যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করছেন অনেক কানাডিয়ান, ভ্রমণে বেছে নিচ্ছেন নতুন গন্তব্য

        ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গুলিতে আহত ৫, একাধিক সন্দেহভাজন পলাতক

        হাওয়াইয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় লালা, ৩৪ বছর পর সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা

        দক্ষিণ লস এঞ্জেলেসের স্কুলে বন্দুকসহ শিক্ষার্থী আটক

        ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে বেসেরার বড় ব্যবধান, পিছিয়ে হিলটন

        লস এঞ্জেলেসে অভিযানে প্রায় ২ লাখ ডলারের চোরাই পণ্য উদ্ধার

        হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট পদ ছাড়ছেন

        টেক্সাসে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

        ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার-লিফট চালকদের ইউনিয়ন গঠনের পথে বড় অগ্রগতি

        লস এঞ্জেলেস বিমানবন্দরে ফেডারেল সরকারের ২৬৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান

        লস এঞ্জেলেসের সান ভ্যালিতে গৃহহীনদের জন্য নতুন ছোট ঘরের গ্রাম

        ২০২৭ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বনিম্ন মজুরি হবে ঘণ্টায় ১৭.৪০ ডলার

        ই-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১, গুরুতর আহত ১

        জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল না ট্রাম্প প্রশাসন

        যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিস্ফোরণধর্মী ডায়রিয়া’ সৃষ্টিকারী পরজীবীর প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত হতে পারেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ

        ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

        বর্ডার প্যাট্রোল পর্যবেক্ষণের পর গ্লোবাল এন্ট্রি বাতিল, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে নারীর মামলা

        ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক বৈঠক জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর, আলোচনায় ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ

        ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, ফের উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করছেন অনেক কানাডিয়ান, ভ্রমণে বেছে নিচ্ছেন নতুন গন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করছেন অনেক কানাডিয়ান, ভ্রমণে বেছে নিচ্ছেন নতুন গন্তব্য

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কানাডা নিয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের প্রতিবাদে অনেক কানাডিয়ান এখন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ বয়কট করছেন। এর পরিবর্তে তাঁরা নিজেদের দেশ কিংবা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যকে ভ্রমণের জন্য বেছে নিচ্ছেন।

অন্টারিওর লন্ডনের বাসিন্দা কেন্ট ট্রাসকট ও তাঁর পরিবার আগে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক—বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন তাঁরা। কিন্তু ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

ট্রাসকটের পরিবার গত বসন্তে টেক্সাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ দেখার কথা ছিল। টরন্টো থেকে বিমানে গিয়ে গাড়ি ভাড়া করে প্রায় এক সপ্তাহ থাকার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এতে কয়েক হাজার কানাডিয়ান ডলার খরচ হওয়ার কথা।

শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ কানাডাতেই খরচ করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাসকট ও তাঁর স্ত্রী। তাঁরা ঘুরতে যান আটলান্টিক কানাডার নোভা স্কশিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে।

ট্রাসকট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য তাঁদের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রে কানাডিয়ান পর্যটক কমেছে

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পরও অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ওপর বয়কট ধরে রেখেছেন।

জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে সড়কপথে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সামান্য বাড়লেও ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় কানাডিয়ানদের যুক্তরাষ্ট্র সফর কমেছে প্রায় ৮ লাখ।

গত বছর কানাডিয়ান পর্যটকদের ভ্রমণ বয়কটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা ২.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রাজস্ব কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও অঙ্গরাজ্য কানাডিয়ান পর্যটকদের ফিরিয়ে আনতে বিজ্ঞাপন ও বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। জুলাইয়ে নিউইয়র্ক সিটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ কানাডিয়ান পর্যটকদের জন্য ব্রডওয়ের টিকিট ও হোটেল কক্ষে ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

তবে শুধু ট্রাম্পের নীতিই নয়, কানাডিয়ান ডলারের দুর্বল অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকে অনেকের কাছে ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

টেক্সাসের বদলে আটলান্টিক কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের বদলে নিজ দেশেই ঘোরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাসকট ও তাঁর স্ত্রী নোভা স্কশিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে যান।

তাঁরা গাড়ি ভাড়া করে মনোরম ক্যাবট ট্রেইলে হাঁটেন এবং আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে নারীদের পরিচালিত একটি রিসোর্টে থাকেন।

ট্রাসকট বলেন, সেখানে তিনি জীবনের সেরা হ্যালিবাট মাছের খাবার খেয়েছেন। মাছটি সেদিনই উপসাগর থেকে ধরা হয়েছিল।

তবে ভবিষ্যতে তিনি আবার কবে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত নন। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের মধ্যে একটি ‘মৌলিক ভাঙন’ তৈরি হয়েছে।

নিউইয়র্কের বদলে রোম ও বার্সেলোনা

অবসর নেওয়ার আগে লিন্ডা রুশো ও তাঁর স্বামী জো ১৯ বছর টেক্সাসে বসবাস করেছিলেন। পরে কানাডায় ফিরে আসেন তাঁরা।

ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ক্ষোভ থেকে তাঁরা নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডায় ফিরে আসেন।

পরে ট্রাম্প কানাডাকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করলে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর নিউইয়র্ক থেকে পানামা খাল হয়ে যাওয়ার একটি ক্রুজ বাতিল করে একই কোম্পানির অন্য একটি ক্রুজে বুকিং করেন তাঁরা। নতুন ভ্রমণে রোম ও বার্সেলোনা ঘুরে প্রাচীন স্থাপনা দেখেন এবং স্থানীয় খাবার উপভোগ করেন।

রুশো বলেন, নিউইয়র্কের নিজের কোনো দোষ নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে পুরো দেশের ওপরই এর প্রভাব পড়ছে।

এই দম্পতি আগে শীতকালে ফ্লোরিডা বা অ্যারিজোনার মতো উষ্ণ অঙ্গরাজ্যে কয়েক মাস কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। ‘স্নোবার্ড’ নামে পরিচিত এই জীবনযাপনও এখন তাঁরা বাদ দিয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার বদলে মরক্কো

ভ্যানকুভারের অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা নিক স্মিথও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সন্তানদের নিয়ে সিয়াটল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানে সড়কপথে ভ্রমণ বন্ধ করেছিলেন।

জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ফের ভ্রমণ বয়কট করছেন।

এমনকি অন্য দেশে যাওয়ার সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহরে ট্রানজিট ফ্লাইট নিতে চান না তিনি। গত শরতে মেক্সিকো সিটিতে যাওয়ার সময় ভ্যানকুভার থেকে সরাসরি ফ্লাইট নিয়েছিলেন।

চলতি বছরের শুরুতে স্ত্রী সিলভিয়াকে নিয়ে প্রথমবার মরক্কো ভ্রমণ করেন স্মিথ। মারাকেশ, ফেজ ও এসাওইরা শহর ঘুরে দেখেন তাঁরা। রমজান মাসে সেখানে থাকা তাঁর ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে জানান তিনি।

স্মিথ বলেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়লেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—বিষয়টি এত সহজ নয়। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান তিনি।

লাস ভেগাসের বদলে স্পেনে দীর্ঘ পদযাত্রা

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পাওয়েল রিভারের বাসিন্দা ক্রিস্টি মিচেল জীবনে অসংখ্যবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেছেন। জাতীয় উদ্যান ঘোরা, আমেরিকান ফুটবল ম্যাচ দেখা এবং আরভি নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে ফ্লোরিডা যাওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতির কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ খরচ করতে চান না তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ বয়কটের ফলে নিজের দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণের সুযোগ পান মিচেল। ৫০তম জন্মদিন উদযাপনে লাস ভেগাসে যাওয়ার বদলে তিনি স্পেনে ৭৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ জনপ্রিয় ‘কামিনো ফ্রান্সেস’ পথ হেঁটে পাড়ি দেন।

মিচেল বলেন, এই ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো দিক ছিল পথে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং অপরিচিতদের সঙ্গে গভীর ও সুন্দর কথোপকথনের সুযোগ পাওয়া।

তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। হোয়াইট হাউসে নতুন প্রেসিডেন্ট আসা এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে আবার দেশটি ভ্রমণের কথা ভাবতে পারেন বলে জানান মিচেল।

সব মিলিয়ে, অনেক কানাডিয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বয়কট এখন শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের দেশকে নতুন করে আবিষ্কার করছেন এবং বিশ্বের অন্য প্রান্তের গন্তব্যগুলোকেও ভ্রমণের তালিকায় যুক্ত করছেন।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত