লস এঞ্জেলেসে অভিযানে প্রায় ২ লাখ ডলারের চোরাই পণ্য উদ্ধার
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে একাধিক অভিযানে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের চোরাই পণ্য উদ্ধার করেছে কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা। এসব অভিযানে অন্তত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের বিভাগ।
শেরিফের কর্মকর্তারা বুধবার জানান, গত ৪ আগস্ট ম্যাকআর্থার পার্ক এলাকার সাউথ সেরানো অ্যাভিনিউ ও আলভারাডো স্ট্রিটের ৭০০ ব্লকে প্রথম অভিযান চালানো হয়। এতে লুলুলেমন, টার্গেট, আলো, টিজে ম্যাক্স ও মেসিসহ কয়েকটি বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করে।
অভিযানের সময় প্রায় ৩৯ হাজার ২৩৮ ডলার মূল্যের চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল পোশাক, রান্নাঘরের সামগ্রী, প্রসাধনী এবং ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিভিন্ন পণ্য।
এ ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী সিজার সান্তিয়াগো এবং ২২ বছর বয়সী আদ্রিয়ানা সান্তিয়াগোকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত খুচরা চুরি এবং চোরাই পণ্য গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর পরদিন, ৫ আগস্ট সিটি অব কমার্সের একটি বড় গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের চোরাই দাঁত সাদা করার পণ্য উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে ২২টি এডিফায়ার স্পিকারও পাওয়া যায়, যার মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ডলার।
শেরিফ বিভাগের অর্গানাইজড রিটেইল ক্রাইম টাস্ক ফোর্স ওই দিনই ১৮ বছর বয়সী এক যুবককে হেফাজতে নেয়। তদন্তকারীদের দাবি, রিভারসাইড, সান বার্নার্ডিনো ও লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ধারাবাহিক খুচরা চুরির ঘটনায় ওই যুবক জড়িত এবং সে একটি দক্ষিণ আমেরিকান চক্রের সদস্য।
এ ছাড়া ৬ আগস্ট সান্তা ক্লারিটা এলাকায় সন্দেহভাজন একটি চুরি চক্রের ওপর নজরদারি চালানোর সময় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শেরিফ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দারা ওই তিন ব্যক্তিকে একটি আবাসিক এলাকায় ঘোরাঘুরি করে বাড়িতে চুরির প্রস্তুতি নিতে দেখেন। এ সময় তারা একটি ওয়াই-ফাই জ্যামার ব্যবহার করছিল বলেও দাবি করেন তদন্তকারীরা। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সান্তা ক্লারিটা শেরিফ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে সংগঠিত খুচরা চুরি দমনে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অর্গানাইজড রিটেইল ক্রাইম টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। সে সময় দোকানে দলবদ্ধ হামলা, লুটপাট ও ‘ফ্ল্যাশ মব’ ধরনের চুরির ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনার অনেকগুলোই নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে।
বিশেষ করে ম্যাকআর্থার পার্ক এলাকায় চোরাই পণ্য ও মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও এই এলাকার ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের মেজর ক্রাইমস ব্যুরোর ক্যাপ্টেন ক্যালভিন মাহ বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পণ্যবাহী চালান এবং আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সংগঠিত চুরি চক্র শনাক্ত ও তাদের কার্যক্রম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন