ককপিটে পাইলটদের সংঘর্ষের পর সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ ইসরায়েলগামী বিমানের
এলএপিডিতে শ্বেতাঙ্গরা আর সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, তবু বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বা এলএপিডি একসময় সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তাদের বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত কয়েক দশকে এর জনসংখ্যাগত চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে বাহিনীতে শ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তারা আর সংখ্যাগরিষ্ঠ নন; বরং হিস্পানিক কর্মকর্তারাই সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। কিন্তু বাহিনীর বৈচিত্র্য বাড়লেও বর্ণবৈষম্য ও পক্ষপাতের অভিযোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক এক কেলেঙ্কারি সেই বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে।
এলএপিডির ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাহিনীর প্রায় ৫৬ শতাংশ কর্মকর্তা হিস্পানিক বংশোদ্ভূত। শ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তাদের হার প্রায় ২৬ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গ ৯ শতাংশ এবং এশিয়ান/প্যাসিফিক আইল্যান্ডার প্রায় ৮ শতাংশ। কয়েক দশক আগের চিত্রের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের বড় পার্থক্য রয়েছে। ১৯৯৪ সালে এলএপিডির শপথ নেওয়া কর্মকর্তাদের প্রায় ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ ছিলেন শ্বেতাঙ্গ।
তবে বাহিনীর এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এলএপিডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাত বা বর্ণভিত্তিক আচরণের ৪ হাজার ৮৭৮টি অভিযোগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র তিনটি অভিযোগ তদন্তে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাম্প্রতিক আরেক ঘটনায় এলএপিডির নিয়োগ বিভাগকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ফ্লোরেস গোপনে রেকর্ড করা কথোপকথনে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো, নারী ও অন্যান্য গোষ্ঠীকে নিয়ে বর্ণবাদী, যৌন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ তোলেন। রেকর্ডিংগুলো তিনি ২০২৫ সালের শুরুতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেন।
পরে ফ্লোরেসকেই গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করার অভিযোগে ১৬টি গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হলে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় পরে অভিযোগগুলো গুরুতর অপরাধ থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর ধারায় নামিয়ে আনে এবং ফ্লোরেসকে ডাইভারশন কর্মসূচির সুযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে, এলএপিডির বিরুদ্ধে বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিংয়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। লস এঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো বাসিন্দারা শহরে পুলিশের থামানো, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হন শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি হারে—যদিও এলএপিডির সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্বের কেউ কেউ ব্যাপক বা পদ্ধতিগত বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফলে এলএপিডির বর্তমান চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে—বাহিনী আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হলেও কর্মকর্তাদের আচরণ, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন