ল্যাঙ্কাস্টারের প্রত্যন্ত সম্পত্তিতে মাটির নিচে পাওয়া দুই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত
নিজেদের জ্বালানি সংকট সামলাতে ইউরোপের ডিজেল মজুত চায় ট্রাম্প প্রশাসন
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিতে ইউরোপকে মজুত জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে বলছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের সম্ভাবনা ঘিরে ইউরোপের দেশগুলোকে আগেভাগেই জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির পর ইউরোপে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবিলম্বে তাদের মজুত থেকে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ একা বহন করতে দেওয়া উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে তাদের ডিজেল মজুতের একটি অংশ ছাড়ার অনুরোধ জানাতে পারেন তিনি। এর আগে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলেছিলেন তিনি।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এদিকে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। ফলে দেশটি রপ্তানি বন্ধ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে বিভিন্ন দেশে ডিজেলের দাম আরও বেড়ে যাবে।
যুক্তরাজ্যও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মার্টিন ম্যাকক্লাসকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া বিচক্ষণতার পরিচয় হবে। তবে বছরের শুরুর দিকে সমন্বিতভাবে কৌশলগত জ্বালানি মজুত ছাড়ার পরও ইউরোপে কিছু মজুত অবশিষ্ট রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে এরই মধ্যে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির মোটরিং সংস্থা আরএসি জানিয়েছে, প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম বেড়ে ১৯৯ দশমিক ৭৯ পেনিতে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে এই দাম ছিল ১৪২ দশমিক ৩৮ পেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের সরবরাহ কমে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। কারণ কৃষি, পণ্য পরিবহন ও ভারী যানবাহন চলাচলে ডিজেলের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেট্রলের তুলনায় ডিজেলের চাহিদা দ্রুত কমানোও কঠিন।
বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ডিজেল আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। দেশটির চারটি তেল শোধনাগার নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেট্রল উৎপাদন করলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল উৎপাদন করতে পারে না।
তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যদিও পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ধরে রেখে দাম কমানোর লক্ষ্যেই রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন