ক্যালিফোর্নিয়ায় কিছু টায়ার বিক্রিতে নতুন নিয়ম, বাড়তে পারে দাম
কানাডার ওপর নতুন শুল্ক তিন দিন পিছিয়ে দিলেন ট্রাম্প, চুক্তির কাছাকাছি দুই দেশ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা একটি বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে—এমন দাবি করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, আগামীকাল সকাল থেকে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করার সুযোগ দিতে তিনি শুল্ক আরোপ তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।
প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসে।
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কানাডার গাড়ি রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক এবং কানাডার বেশ কয়েকটি প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন শুল্কের হুমকির পর গত জুলাই থেকে দুই দেশের কর্মকর্তারা টানা আলোচনা চালিয়ে আসছেন। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দুইবার ফোনে কথা বলেছেন।
কার্নি এক চিঠিতে বলেছেন, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্ভাব্য চুক্তিতে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিবহনের জন্য পরিকল্পিত এই পাইপলাইন প্রকল্পটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে আটকে যায়।
পরিবেশবাদী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিরোধিতাও রয়েছে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে। ট্রাম্প অবশ্য বহুবার প্রকল্পটি পুনরায় চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পাইপলাইনটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জামিসন গ্রিয়ারের কার্যালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন পণ্যের জন্য কানাডার বাজারে ব্যাপক প্রবেশাধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে সমন্বয়ের বিষয় থাকতে পারে।
এ ছাড়া মার্কিন বাজার ও দেশটির শ্রমিকদের সুরক্ষায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নতুন শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্তকে কানাডার আলোচনাকারী দল এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে দুই দেশের অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ট্রাম্পের হুমকি দেওয়া নতুন শুল্কের আওতায় কানাডার বিভিন্ন পণ্য পড়ার কথা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জাম।
এসবের পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান শুল্কও রয়েছে। কানাডা এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের জন্য চুক্তি করতে চাইছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কাছ থেকে কয়েকটি ছাড় দাবি করছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন গাড়ির ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার, মার্কিন চিজ উৎপাদকদের জন্য কানাডার দুগ্ধবাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারের সময়সীমার আগে দুই দেশের আলোচনায় কানাডার গাড়ির ওপর মার্কিন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল।
তবে কোন কোন গাড়ি এই সুবিধা পাবে, তা নিয়ে দুই দেশ একমত হতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, যেসব গাড়িতে বেশি পরিমাণ মার্কিন তৈরি যন্ত্রাংশ রয়েছে, কেবল সেগুলোকেই কম শুল্কের আওতায় আনা হোক।
এদিকে কানাডায় মদ বিক্রির বিষয়টিও সহজ নয়। কারণ দেশটিতে মদ বিক্রির নিয়ন্ত্রণ ফেডারেল সরকারের হাতে নয়, প্রাদেশিক সরকারের হাতে। ফলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে প্রাদেশিক সরকারগুলোর সমর্থন নিতে হবে।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানিয়েছেন, ‘ন্যায্য চুক্তি’ হলে তিনি মার্কিন মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সও দুই দেশকে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, আরও বেশি শুল্ক আরোপ হলে দুই দেশের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মার্কিন পরিবারের খরচ বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা আরও ব্যাহত হবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (USMCA) আওতায় বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ট্রাম্প জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়ছে। তার ব্যাপক শুল্কনীতির কারণে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মুক্তবাণিজ্য সম্পর্কও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
নতুন শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত হওয়ায় এখন দুই দেশের আলোচনাকারীদের হাতে চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় এসেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন