ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি: ‘জানতাম, এবার মারা যাব’—নেপালের বন্যা থেকে বাঁচার গল্প
ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি: ‘জানতাম, এবার মারা যাব’—নেপালের বন্যা থেকে বাঁচার গল্প
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের মধ্যে পড়ে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতি। হিমালয় থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতকে তাদের কাছে মনে হয়েছিল ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু একটি কালো সুনামি।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে দম্পতির একজন পট্টাভিরামান ভেঙ্কটেশন বলেন, ‘আমি জানতাম, এবার মারা যাব।’
রাজা ও তার সঙ্গী ভেঙ্কটেশন প্রথমবারের মতো তিব্বতে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। তিব্বত থেকে ফেরার পথে তারা নেপালের রাসুয়া জেলার চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ট্যুর বাসে ছিলেন।
বাসটি টিমুরে গ্রামের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি, বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসতে শুরু করে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ভেঙ্কটেশন বলেন, দূর থেকে পানির স্রোতটিকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু মনে হচ্ছিল।
‘এটা দেখতে সুনামির মতো ছিল, তবে পুরোটা ছিল কালো। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, বিশাল এক দানবের মতো কিছু আমাদের দিকে নেমে আসছে। তখন বুঝতে পারছিলাম না এটা পানি নাকি আগুন। প্রথমে আমার মনে হয়েছিল, হয়তো বনভূমিতে আগুন লেগেছে।’
বিপদ বুঝতে পেরে রাজা তার সঙ্গীর কলার ধরে টেনে বলেন, ‘দৌড়াও।’ এরপর দুজন বাস থেকে নেমে প্রাণপণে উঁচু জায়গার দিকে ছুটতে শুরু করেন।
তখন আশপাশের হাজারো মানুষও জীবন বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিলেন। মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ কেউ প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন। আবার অনেকে কোনোমতে উঁচু জায়গায় উঠে প্রাণে বেঁচে যান। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়।
দম্পতিটি একটি সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের ওপরের দিকে উঠতে থাকেন। কিন্তু পথটি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ভেঙ্কটেশন বলেন, ‘পথে বাড়িঘর ভেঙে পানির সঙ্গে ভেসে আসছিল।’
আর রাজা বলেন, নিচে বন্যার স্রোতে মানুষ ভেসে যাওয়ার সময় তাদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন তিনি।
‘আমি নিজের চোখের সামনে মৃত্যু দেখেছি,’ বলেন রাজা।
একপর্যায়ে এক গাইড তাদের কাছের একটি পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পথ ছিল সরু, পিচ্ছিল এবং কাদামাটি ও পাথরে ভরা।
রাজা বলেন, ‘কীভাবে এত ওপরে উঠেছি, আমি নিজেও জানি না। খুব কঠিন ছিল।’
ভেঙ্কটেশনও জানান, পাহাড়ে ওঠার সময় তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত তারা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের সঙ্গে একটি ছাগলের ঘরে রাত কাটান। পরদিন হেলিকপ্টারে করে তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
তাদের ট্যুর বাসে থাকা সবাই বেঁচে গেছেন বলেও জানান এই দম্পতি।
ভেঙ্কটেশন বলেন, ‘আমরা যে বেঁচে ফিরেছি, এটা কোনো অলৌকিক ঘটনা ছাড়া আর কিছু নয়।’
এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর জীবনের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। ভেঙ্কটেশন বলেন, এই ঘটনা তাকে জীবনের মূল্য নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে।
তার ভাষায়, ‘ভালো থাকুন, ভালো কাজ করুন, ভালো চিন্তা করুন। বাকিটা যিনি আমাদের ওপরে আছেন, তাঁর ওপর ছেড়ে দিন।’
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন