বেলফ্লাওয়ারে আগুনের ঘটনায় গু লি বি দ্ধ ব্যক্তি, মুখোশধারী দুইজনকে সন্দেহ
৩১ বছর আগের হ ত্যা মামলায় মৃ ত্যুদণ্ড, শৈশবের নি র্যাতনকে সামনে আনছেন ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
টেনেসিতে ৩১ বছর আগে এক কিশোরীকে হ ত্যা করার দায়ে মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে প্রা ণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার আইনজীবীরা দণ্ড স্থগিত বা কমানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রিস্টা পাইকের বয়স এখন ৫০ বছর। ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে নি র্যাতন ও হ ত্যা করেন। তিনজনই কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত একটি কর্ম প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ছিলেন।
ঘ ট নাটি টেনেসির নক্সভিলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কলিনের বুকে শয়তানপূজার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রতীক খোদাই করা অবস্থায় তার ম রদেহ পাওয়া যায়। আদালতে সাক্ষীরা জানান, পাইক হ ত্যার আগে ও পরে এ ঘটনা নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং কলিনের মাথার খুলির একটি অংশ অন্যদের দেখিয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালে পাইককে মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় তার বয়স ১৮ হলেও শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। শিপকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়।
পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর কোনো নারীর মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। ১৯৭০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৬৬৩ জন পুরুষের বিপরীতে মাত্র ১৮ জন নারীর মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
তবে পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, তার শৈশবের ভয়াবহ নি র্যাতন ও মানসিক সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার মূল বিচারে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
আইনজীবীদের ২২৬ পৃষ্ঠার দয়া প্রার্থনার আবেদনে বলা হয়েছে, পাইক ছোটবেলা থেকেই যৌ ন নি র্যাতন, অবহেলা ও পারিবারিক পরিত্যাগের শিকার ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তার জন্য কাজ করা ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী ডায়ানা ম্যাককয় জানিয়েছিলেন, পাইক তার মা ও মায়ের বিভিন্ন স্বামী ও প্রেমিকের কাছ থেকে শারীরিক ও যৌ ন নি র্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরে জানা যায়, ছোটবেলায়ও তিনি একাধিকবার ধ র্ষণের শিকার হয়েছিলেন।
তবে পাইকের মূল বিচারে ম্যাককয়কে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি। তার সুপারিশ করা অনেক সাক্ষীকেও আদালতে হাজির করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য আদালতে উঠে এলেও নতুন আইনজীবীদের করা আইনি যুক্তি গ্রহণ করা হয়নি।
কারাগারে ২০২১ সালে পাইকের বাইপোলার ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয় এবং এরপর থেকে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০২৩ সালে আরেক ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী বেথানি ব্র্যান্ড তাকে মূল্যায়ন করে বলেন, পাইকের শৈশব ছিল শারীরিক, যৌ ন ও মানসিক নি র্যাতনে ভরা। তার মতে, চিকিৎসাবিহীন বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি হ ত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের আচরণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।
পাইকের আইনজীবী ও কর্নেল ল স্কুলের অধ্যাপক স্যান্ড্রা ব্যাবকক মনে করেন, এত অল্প বয়সে ভয়াবহ নি র্যাতনের ইতিহাস ও মানসিক সমস্যার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হলে আজ একই অপরাধে পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকত না।
অন্যদিকে, টেনেসির আদালতগুলো এখন পর্যন্ত তার সাজা পরিবর্তনের আবেদন নাকচ করেছে। রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতও চলতি সপ্তাহে মৃ ত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ফেডারেল আপিল আদালত এর আগে বলেছিল, বিচারের সময় জুরি পাইকের কঠিন শৈশব সম্পর্কে কিছু তথ্য শুনেছিল এবং পরবর্তী সময়ে পাওয়া বাইপোলার ডিসঅর্ডার, পিটিএসডি ও মস্তিষ্কের ক্ষতির তথ্য মূল মামলার সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার মতো ছিল না।
পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছ থেকে শেষ মুহূর্তে ক্ষমা বা সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে হবে। এখন পর্যন্ত মৃ ত্যুদণ্ডের কোনো মামলায় তিনি ক্ষমা দেননি।
এদিকে নি হত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে রয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি বলেছিলেন, পাইক অ প রাধ করেছেন এবং তার শাস্তি পাওয়া উচিত। কলিন যে ভয়াবহ নি র্যাতনের শিকার হয়ে মা রা গেছেন, পাইককেও মৃ ত্যুর আগে একই ধরনের যন্ত্রণা অনুভব করতে হবে—এমন কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
মার্টিনেজ বলেছেন, মেয়ের মৃ ত্যুর কথা তিনি প্রতিদিন মনে করেন এবং এই অধ্যায়ের সমাপ্তি চান।
অন্যদিকে, কারাগারে পাইকের সঙ্গে পরিচিত অ্যাশলি সেলার্স মনে করেন, কলিনের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অনুভূতির অধিকার যেমন আছে, তেমনি পাইকেরও পরিবর্তনের সুযোগ থাকা উচিত।
সেলার্স কারাগারে ২৫ বছরের সাজা ভোগ করার সময় পাইকের সঙ্গে পরিচিত হন। বর্তমানে তিনি বিচারব্যবস্থা সংস্কার ও অ প রাধের শিকার ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন।
সেলার্স বলেন, মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, কলিনের জীবন যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি পাইকও এখন নিজের জীবনের মূল্য প্রমাণের জন্য লড়ছেন।
পাইক জানিয়েছেন, মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তিনি নারী কারারক্ষীদের একটি দল চান। পুরুষদের দিয়ে তাকে চেপে ধরে রাখলে তার পুরোনো ট্রমা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। টেনেসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারী কারারক্ষীদের মাধ্যমে তাকে মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে, তবে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন