এটিএম ফি দেওয়া গ্রাহকদের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ভিসা-মাস্টারকার্ড, আবেদন ২০২৭ পর্যন্ত
এটিএম ফি দেওয়া গ্রাহকদের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ভিসা-মাস্টারকার্ড, আবেদন ২০২৭ পর্যন্ত
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীন বা নন-ব্যাংক এটিএম ব্যবহার করে টাকা তুলতে গিয়ে যারা সারচার্জ বা অতিরিক্ত এটিএম ফি দিয়েছেন, তাদের জন্য ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের একটি প্রস্তাবিত সমঝোতা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নেটওয়ার্ক নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম অপারেটররা ভিন্ন নেটওয়ার্কে লেনদেন হলে গ্রাহকদের জন্য কম ফি নির্ধারণ করতে পারতেন না। এর ফলে এটিএম ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ফি নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়। ভিসা ও মাস্টারকার্ড অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং কোনো অনিয়মের দায় স্বীকার করেনি।
এই সমঝোতা Burke v. Visa Inc. মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। মামলাটি ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে চলছিল এবং এতে স্বাধীন এটিএম ব্যবহারকারী গ্রাহকদের একটি শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমঝোতার আওতায় ভিসা দেবে ৮ কোটি ৮৭ লাখ ৭৫ হাজার ডলার এবং মাস্টারকার্ড দেবে ৭ কোটি ৮৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার—মোট ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। তবে আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো বাকি।
যেসব গ্রাহক ২৪ অক্টোবর ২০০৭ থেকে ১৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা এর বিভিন্ন টেরিটরিতে স্বাধীন, নন-ব্যাংক এটিএম থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পিন-ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলেছেন এবং ওই উত্তোলনের জন্য সারচার্জ দিয়েছেন, তারা সাধারণত এই সমঝোতার আওতায় পড়তে পারেন। এখানে স্বাধীন এটিএম বলতে এমন মেশিন বোঝানো হয়েছে, যেগুলো কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়—যেমন গ্যাস স্টেশন, হোটেল, দোকান, বার বা অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা এটিএম।
তবে সব ধরনের এটিএম ফি এই সমঝোতার আওতায় পড়বে না। ব্যাংকের মালিকানাধীন এটিএম থেকে টাকা তোলার ফি, ক্রেডিট কার্ড ক্যাশ অ্যাডভান্স এবং প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। একইভাবে, কোনো ব্যাংক যদি ইতোমধ্যে ওই সারচার্জ পুরোপুরি ফেরত দিয়ে থাকে, সেই লেনদেনও সাধারণত যোগ্য হিসেবে ধরা হবে না।
দাবি করার ক্ষেত্রে এখনই রসিদ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যোগ্য গ্রাহককে মূলত কতবার এমন সারচার্জসহ টাকা তুলেছেন, সেই সংখ্যা জানাতে হবে। তবে পরে ক্লেমস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর প্রয়োজন মনে করলে লেনদেনের তথ্য বা প্রমাণ চাইতে পারে। অর্থাৎ কেউ পুরোনো এটিএম রসিদ সংরক্ষণ না করলেও বর্তমানে দাবি করার সুযোগ রয়েছে।
তবে প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কত টাকা পাবেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ সমঝোতার অর্থ অনুমোদিত দাবিদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ করা হবে এবং মোট কতটি যোগ্য লেনদেনের দাবি জমা পড়ে তার ওপর চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। আদালত, আইনজীবীদের ফি, মামলার খরচ, কর, নোটিশ ও প্রশাসনিক ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ থেকেই গ্রাহকদের অংশ নির্ধারণ করা হবে।
ক্লেম করার শেষ সময় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। অনলাইনে, ফোনে অথবা ডাকযোগে দাবি করা যাবে। সমঝোতার ওয়েবসাইটে অনলাইন ক্লেম ফর্ম দেওয়া হয়েছে এবং ক্লেম জমা দেওয়ার জন্য একটি নোটিশ আইডি থাকলে তা ব্যবহার করা যাবে; তবে নোটিশ আইডি না থাকলেও যোগ্য হলে দাবি করার সুযোগ রয়েছে।
সমঝোতাটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ বিকেল ৪টায় ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। আদালত অনুমোদন দিলে এবং বড় ধরনের আপিল না হলে এরপর দাবিদারদের অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাই বর্তমানে এটি একটি প্রস্তাবিত সমঝোতা এবং অর্থ পাওয়া এখনো নিশ্চিত নয়।
এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানে সারচার্জ দেওয়া কিছু গ্রাহকের জন্য আলাদা স্টেটওয়াইড ক্লাসও রয়েছে। যোগ্য ব্যক্তিকে সাধারণত একটি ক্লেমই জমা দিতে হবে। সমঝোতার অফিসিয়াল তথ্য ও দাবি করার ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে NonBankATMSurchargeSettlement.com ওয়েবসাইটে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন