মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা
মেক্সিকোর উপকূলে ভয়ংকর হারিকেন পোলোর তাণ্ডব, ‘প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়’
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে শক্তি বাড়িয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে হারিকেন পোলোর। মঙ্গলবার ঝড়টি ক্যাটাগরি ৫ মাত্রায় পৌঁছায়। সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল বা প্রায় ২৮০ কিলোমিটারে উঠেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র।
পোলো চলতি মৌসুমে প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া তৃতীয় ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন। এর আগে জেনেভিভ ও লোয়েল একই মাত্রায় পৌঁছেছিল। স্যাফির-সিম্পসন মাত্রায় ক্যাটাগরি ৫ হলো সর্বোচ্চ স্তর, যেখানে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৫৭ মাইল বা ২৫৩ কিলোমিটারের বেশি থাকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পোলো মেক্সিকোর জিহুয়াতানেহো শহর থেকে প্রায় ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর অবস্থান করছিল। ওই সময় ঝড়টি প্রায় স্থির ছিল। তবে পরবর্তী কয়েক দিনে এটি সাধারণত পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী ঝড়টি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত নাও করতে পারে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুয়েরেরো ও মিচোয়াকান অঙ্গরাজ্যের বন্দরগুলো বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে পোলোর কারণে। মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। উপকূলের সৈকতগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় এবং উত্তাল সমুদ্রের ওপর কালো মেঘ জমতে দেখা যায়।
মিচোয়াকান অঙ্গরাজ্যের লাজারো কার্দেনাস শহরের বাসিন্দা ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী কনসেপসিওন লোপেস ভিলেগাস বলেন, শক্তিশালী ঢেউ ইতোমধ্যেই উপকূলে আছড়ে পড়ছে। কয়েক দশকের পরিশ্রমে গড়ে তোলা তার ব্যবসা বড় ঢেউয়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।
জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে ওই অঞ্চলে তৈরি হওয়া মাত্র কয়েকটি হারিকেনের সঙ্গে পোলোর বাতাসের গতির তুলনা করা যায়। এর মধ্যে ২০১৫ সালের হারিকেন প্যাট্রিসিয়ার বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১৫ মাইল বা ৩৪৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টেন এল করবোসিয়েরো পোলোর বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার অন্যতম শক্তিশালী ঝড়।
মেক্সিকোর ওহাক্সাকা, কোলিমা ও হালিসকো অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গুয়েরেরো ও মিচোয়াকানে প্রায় ৮ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র।
ঝড়টি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না করলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মেক্সিকোতে থাকা মার্কিন দূতাবাস। ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে। পাশাপাশি উত্তাল সমুদ্রে প্রাণঘাতী স্রোত ও অস্বাভাবিক বড় ঢেউ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পোলোর দ্রুত শক্তি বাড়ানোর ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেছে জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র। কলোরাডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলবিষয়ক গবেষক ফিলিপ ক্লটজবাখের মতে, এল নিনোর প্রভাবে ওই অঞ্চলের সমুদ্রের পানি তুলনামূলক উষ্ণ হয়ে ওঠা এবং বাতাসের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় হারিকেনটির দ্রুত শক্তি বাড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পোলোর কারণে মেক্সিকোর অনেকের মনে ২০২৩ সালের ভয়াবহ হারিকেন ওটিসের স্মৃতি ফিরে এসেছে। ওই ঝড় আকাপুলকো শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। দ্রুত শক্তি বাড়ানোর কারণে বাসিন্দাদের প্রস্তুতি নেওয়া, নৌকা নিরাপদ স্থানে সরানো কিংবা এলাকা ছাড়ার জন্য খুব কম সময় পেয়েছিলেন।
এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরেই ওডালিস নামে আরেকটি ক্রান্তীয় ঝড় রয়েছে, যদিও সেটি স্থলভাগ থেকে অনেক দূরে। ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং এটি হারিকেনে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র। অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে ফে নামের ঝড়টি দুর্বল হয়ে অবশিষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন