মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা
১ অক্টোবর থেকে আরও ৩ শ্রেণির ভিসায় বাধ্যতামূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই যুক্তরাষ্ট্রে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের আওতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় পেশাজীবী এবং তাদের নির্ভরশীলদের জন্য নির্ধারিত তিন শ্রেণির ভিসা আবেদনেও অনলাইন উপস্থিতি যাচাই বাধ্যতামূলক হবে।
নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে আই ভিসা, টিএন ভিসা ও টিডি ভিসা। আই ভিসা দেওয়া হয় বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের। টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য এবং টিডি ভিসা টিএন ভিসাধারীদের স্বামী, স্ত্রী ও নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় এসব ভিসার সব আবেদনকারীকে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোর গোপনীয়তা সেটিংস ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ বা ‘পাবলিক’ করতে হবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি কার্যকরভাবে যাচাই করতে পারবেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের আওতায় এরই মধ্যে আরও কয়েকটি ভিসা শ্রেণি রয়েছে। এর মধ্যে কূটনৈতিক ও সরকারি কাজে ব্যবহৃত এ-৩, সি-৩ ও জি-৫ ভিসা, শিক্ষার্থীদের এফ-১, এম-১, এফ-২ ও এম-২ ভিসা এবং অস্থায়ী কর্মী ও প্রশিক্ষণার্থীদের এইচ-১বি, এইচ-৩ ও এইচ-৪ ভিসা রয়েছে।
এ ছাড়া বিনিময় কর্মসূচির জে-১ ও জে-২ ভিসা, বাগদত্তা ও নির্ভরশীলদের কে-১, কে-২ ও কে-৩ ভিসা, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কিউ ভিসা এবং ধর্মীয় পেশাজীবীদের আর-১ ও আর-২ ভিসাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। সাক্ষী, তথ্যদাতা ও নির্দিষ্ট ভুক্তভোগীদের জন্য দেওয়া এস, টি ও ইউ শ্রেণির ভিসাও এই তালিকায় রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর বিষয়ে পাওয়া সব ধরনের তথ্য বিবেচনা করা হতে পারে। এর মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়, যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য হতে পারেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন।
দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন যাচাই মূলত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সিদ্ধান্ত। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষতি করার বা দেশটির স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করতে চান কি না এবং যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন তার শর্ত মেনে চলার প্রকৃত ইচ্ছা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও যাচাই করা হবে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আই, টিএন ও টিডি ভিসার আবেদনকারীদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ফলে এসব ভিসায় আবেদনকারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা সেটিংস পরিবর্তন করা নতুন আবেদনপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন