যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 09:28pm

|   লন্ডন - 04:28pm

|   নিউইয়র্ক - 11:28am

  সর্বশেষ :

  একসাথে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করবেন রোনালদিনহো!   কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪৯ জনের মৃত্যু   ট্রাম্প-কিম সম্মেলন বাতিলে উত্তেজনা-অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা   যুক্তরাজ্যে ফের মেয়র নির্বাচিত হলেন সিলেটের মুজিবুর   কানাডায় রেঁস্তোরায় বিস্ফোরণে আহত ১৫   ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হাসিনা-মোদির ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন   নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানালেন বি চৌধুরী   ইতালীতে আ.লীগ নেতার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল   বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী আজ   প্রফেসর ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানালেন ইতালীয় পার্লামেন্ট স্পীকার   জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত   নোয়াখালী সমিতি’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল   ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনার ফোন   শিক্ষা ছাড়া হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মে পরিণত হবে রোহিঙ্গা শিশুরা : প্রিয়াঙ্কা চোপড়া   কিমের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন ট্রাম্প

>>  লস এঞ্জেলেস এর সকল সংবাদ

ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী যুবলীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গত ৩০ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বাংলাদেশ থেকে আগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সম্মানিত সদস্য প্রলয় সমদ্দার বাপ্পী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উনার সহধর্মিনী বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সদস্য দীপিকা রানী সমদ্দার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক ডা: রবি আলম।
মতবিনিময়

বিস্তারিত খবর

বাঙালি একটি বীরের জাতি : বাফলা'র প্যারেডে কংগ্রেসম্যান

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-০৪ ১৬:০৪:৪৩

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এই আমেরিকার মেগাসিটি লস এঞ্জেলেস গত দুইদিন হয়ে উঠেছিল যেন বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। গত ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল লস এঞ্জেলেসের প্রবাসীরা মেতেছিল উৎসবে; উৎসাহ আর উদ্দীপনা ছিলো সর্বত্র। বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অত্যন্ত জমকালো, রঙিন, বর্ণাঢ্য ও বিশাল '১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল - ২০১৮' অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে গত এক দশক যাবৎ প্রবাসীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য প্যারেড ও ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস এঞ্জেলেস (বাফলা)। এবছরও দুই দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল - ২০১৮ সফলভাবে শেষ হলো। বর্ণালী ও বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে সমগ্র লস এঞ্জেলেসের বাংলাদেশী কমিউনিটি যেন রূপ নিয়েছিল প্রবাসীদের মিলনমেলায়।৩১ মার্চ শনিবার অনুষ্ঠিত হয় ১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড। দুপুর ৩টায় নরম্যান্ডি এবং থার্ড স্ট্রীট থেকে প্যারেড শুরু হয়ে 'লিটিল বাংলাদেশ' ঘুরে ভার্জিল মিডিল স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। প্যারেডে লস এঞ্জেলেসের রাজপথে নেমেছিল মানুষের ঢল। বাংলাদেশ ও আমেরিকার পতাকা, লাল-সবুজ পোষাক পরে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে উক্ত প্যারেডে অনেক বিদেশী নাগরিকদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। আমেরিকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন থিম নিয়ে চমৎকার করে সাজানো একাধিক ফ্লোটস, বর্ণিল পদযাত্রা,  ঢোল, ব্যান্ড দল ও ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে প্যারেডটি হয়ে উঠেছিল সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশালাকৃতির স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ, গ্রামীণ বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমারোহ ইত্যাদি ছিল এবারের প্যারেডের বিশেষ আকর্ষণ।
 
১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড মার্শাল ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ৩৪ কংগ্র্যাশনাল ডিস্ট্রিকের ইউএস কংগ্রেসম্যান জিমি গোমেজ। এছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী আন্তোনিও ভিয়াররাইগোসা, সানদিয়াগোর সাবেক কংগ্রেসম্যান জিম বেটস্, বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল  প্রিয়তোষ সাহা, কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ডঃ কালী প্রদীপ চৌধুরী, ঢাকা হোমসের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন এবং অন্যান্য সরকারি ঊর্ধতন করমকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, বাফলা'র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশী কম্যুনিটির নেতাদের সাথে প্যারেডে উপস্হিত ছিলেন। আরও উপস্হিত ছিলেন বাফলা'র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ক্যাবিনেট সদস্যরা।
এসময় কংগ্রেসম্যান জিমি গোমেজ বলেন, বাঙালি একটি বীরের জাতি। ১৯৭১ সালে ৯ মাস যুদ্ধ করে নিজেদের মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছে। আজ ৪৭ বছর পর আমেরিকায়ও তারা নিজের দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে এই বণ্যাঢ্য আয়োজনে। এটি তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমিও একটি দেশেরে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে এখানে আসতে পেরে গর্ববোধ করছি।

প্যারেডে সবার সামনে ছিল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বড় সাইজের দুটি পতাকা।  ৩টি ঘোড়া বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাফলা'র পতকা বহন করে, এছাড়াও প্যারেডে ছিল একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি, বাংলাদেশ ও আমেরিকার পতাকা সম্বলিত ১২টি হার্লে ডেভিডসন মোটরবাইক, লস এঞ্জেলেসে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৩টি ও শেরিফ ডিপার্টেমেন্টের ১টি কনভার্টেবল কার। বাফলা'র সকল সদস্য সংগঠনের সবাই পায়ে হেঁটে প্যারেডে অংশ গ্রহণ করেন। বিনোদনের জন্য প্যারেডের সাথে ছিলেন ২জন ঢোলবাদক, ভার্জিল মিডিল স্কুলের ব্যন্ড দল ও একটি ইয়ুথ সাংস্কৃতিক দল, তারা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ও কসরত দেখিয়ে সবাইকে আনন্দ দেয়। প্যারেডে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশীরা সবাই জাতীয় পতাকা, বিভিন্ন ধরণের প্ল্যাকার্ড, লাল-সবুজের পোষাক পরে নারী-পুরুষ, যুবক-তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরসহ সব সবয়সের প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশ নেন। এবারের প্যারেডে প্রচুর বিদেশী নাগরিককেও লাল-সবুজের পতাকা হাতে অংশ নিতে দেখা যায়। এসময় রাস্তার দু’পাশের বিদেশী নাগরিকরা জড়ো হয়ে হাত নেড়ে প্যারেডকে অভিনন্দন জানায়।

প্যারেড উপলক্ষে পুরো লস এঞ্জেলেসজুড়ে ছিল সাজ সাজ রব। প্যারেডের জন্য  পৃথিবীর অন্যতম বিনোদন নগরী ও ক্যালিফোর্নিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের মূল সড়কটি  ৪ ঘণ্টা বন্ধ করে রাখে সিটি কর্তৃপক্ষ। এবার প্রথমবারের মতো ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’ নামে বাংলাদেশী আমেরিকান নতুন প্রজন্মের একদল শিশু বঙ্গবন্ধুর বিশাল প্রতিকৃতি ও ব্যানার নিয়ে প্যারেডে অংশ নেয়।

প্যারেডের পর ফেস্টিভ্যালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং বাফলা'র থিম সং দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তিনটি সঙ্গীত বাজানোর সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও বাফলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করেন কংগ্রেসম্যান জিমি গোমেজ  এবং বাফলার পতাকা উত্তোলন করেন প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম। এসময় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত ও পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এরপর অতিথিরা সকলে মিলে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল ২০১৮-র উদ্বোধন ঘোষণা করা করেন। এসময় মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্ট ধর্মের তিনটি ধর্মগ্রসন্থ পবিত্র কোরআন, গিতা ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়।
বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যালে দুইদিনব্যাপি বিভিন্ন ফরম্যাল ইভেন্ট ছাড়াও শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেডের পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সেমিনার। এবারের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল 'What Examples do We want to present now for our Younger Generation'; সেমিনারটি পরিচালনা করেন আনিসুর রহমান। ১ম দিনেই প্রবাসীদের ভীড় ছিল মেলার বিভিন্ন স্টলগুলোতে। জমে উঠেছিল আড্ডা ও গান-গল্প। বিভিন্ন দেশি মুখরোচক খাবার, গহনা, হস্তশিল্পসহ রকমারী পণ্যের স্টল ছিল মেলায়। এদিন অত্যন্ত চমৎকারভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রশনি আলম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পীরা নাচ-গান-কবিতায় মাতিয়ে তুলেছিলেন দর্শক ও অতিথিদের। সাংস্কৃতিক পর্বের মূল দায়িত্বে ছিলেন বাফলা'র কালচারাল সেক্রেটারী আঞ্জুমান আর শিউলি। ১ম দিনের বিশেষ অতিথি শিল্পী ছিলেন জনপ্রিয় মিউজিক স্টার শাহ মাহবুব। তার কণ্ঠে গানের যাদুতে দর্শক-শ্রোতারা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন সুরের জগতে।
বাফলা'র প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম তাঁর বক্তব্যে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, যার নেতৃত্বে ৯ মাসের মুক্তিযোদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমান, শহিদ প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) জিয়াউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধের প্রধান সেনাপতি মেজর (অব.) এম এ জি ওসমানী, জাতীয় চার নেতাসহ  একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। উপস্থিত সবাইকে প্যারেডে অংশ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বাফলা'র কেবিনেট সদস্য, সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ যারা প্যারেড আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বাফলা'র সকল সদস্য, প্রবাসী কমিউনিটি, প্যারেডের অতিথি, সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মীসহ উপস্থিত সবাইকে এই সুন্দর আয়োজনকে সফল করার জন্য বাফলা'র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ এবং সকলকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

শেষদিন অনুষ্ঠান পরিচলনায় ছিলেন লস এঞ্জেলেসের জনপ্রিয় এমসি সাজিয়া হক মিমি। তার প্রাণবন্ত উপস্হাপনা দর্শক-শ্রোতা-অতিথিদের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। তাকে সাথে ছিলেন আরেক জনপ্রিয় এমসি মিঠুন চৌধুরী। এদিন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সেরা তিনটি সংগঠনকে ট্রফি দেয়া হয়। এবার কম্যুনিটিতে ভাল কাজ ও সার্ভিসের স্বীকৃতিস্বরূপ 'বাফলা পদক' প্রদান করা হয় বাফলার সাবেক ২ বারের প্রেসিডেন্ট, প্রবীন কমিউনিটি একটিভিস্ট, ডেন্টিস্ট ডা. আবুল হাসেম। উল্লেখ্য, প্রথম বাফলা পদক প্রদান করা হয় চ্যানেল আইয়ের ব্যাস্থাপনা পরিচালক শায়েখ সিরাজকে।

সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান স্থলে আসেন লস এঞ্জেলেসের দু'বার নির্বাচিত মেয়র এবং বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী আন্তোনিও ভিয়াররাইগোসা। সদর দরজায় গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান বাফলার প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম ও তাঁর পরিষদ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, কমিশনার মুজিব সিদ্দিকী। প্রধান অতিথিকে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে বরণ করে নেন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী আমেরিকান শেখ জিব্রান| 

ভার্জিল মিডল স্কুল মাঠে বাফলার মেলার সাজগোজ দেখে মেয়র অভিভূত হন এবং উনি সম্বোদনকারীদের ও প্রাক্তন সভাপতি সামসুদ্দিন মানিককে সাথে নিয়ে প্রায় ৫০ টা বুথের প্রতিটা প্ৰদৰ্শন করেন এবং সবার সাথে মত বিনিময় করেন এবং শত শত দর্শক উনার সাথে ছবি উঠাতে গেলে মেয়র নিজে তাদের ক্যামেরা হাতে নিয়ে সেলফি ছবি উঠান| তারপর শিপার চৌধুরী ও অন্যান্ন প্রাক্তন সভাপতিদের সাথে মতবিনিময়ের পর মেয়রকে নিয়ে নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উঠে যান |

সভাপতি আলম অপূর্বভাবে প্রধান অতিথিকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে কমিশনার মুজিব সিদ্দিকীকে বক্তব্য রাখতে বললে উনি মেয়র লিটল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ কমিউনিটিকে কিভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তার সংক্ষিপ্ত তথ্য প্রকাশ করেন| তারপর প্রাক্তন সভাপতি ডা. হাশেম ও জনাব চৌধুরী অতিথির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রধান অতিথিকে গভর্নর নির্বাচনে কমিউনিটির পক্ষ থেকে  সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন |

প্রধান অতিথি "আসসালামু আলাইকুম" ও বাংলায় "শুভ সন্ধ্যা" বলে তার ভাষণ শুরু করলে শত শত উপস্থিতি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে করতালি দিতে থাকে| তিনিদিনশেষে অনেক কাজের ফাঁকে এখানে আসতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন| "লিটল বাংলাদেশ" তৈরির ব্যাপারে উনি বাফলার প্যারেড ২০০৭ দেয়া প্রতিশ্রূতি রাখতে পেরে বেশ খুশি হয়েছিলেন বলে জানান| মেয়র হিসাবে তিনি যা উন্নয়ন করেছিলেন তার উল্লেখ করেন| তিনি বলেন, সব জাতির ও ধর্মের লোক এদেশে বসবাস করার অধিকার রয়েছে ও তাদের মেধা ও শ্রমের বিনিয়োগের  কারণেই ক্যালিফর্নিয়া বিশ্বের ৭ম ধনী দেশ। তিনি বলেন প্রত্যেক অভিভাসীদের এদেশে স্বাধীন ভাবে বসবাস করার অধিকার আছে| তিনি ক্যালিফর্নিয়ার নির্বাচনে গভর্নর হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা উল্লেখ করে উপস্থিত সবার সহযোগিতার আবেদন করলে দর্শশ্রোতাতারা উল্লাসপূর্ণ করতালি দিয়ে প্রধান অতিথিকে আশ্বস্ত করেন|
অনুষ্ঠানে বাফলার পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয় বাফলার সাবেক প্রেসিডেন্ট শিপার চৌধুরী, খন্দকার আলম ও ড. শাহ আলমকে। এছাড়াও সাংস্কৃতিক আয়োজনে পারফর্ম করতে বাংলাদেশ থেকে আসা কন্ঠশিল্পী শুভ্রদেব ও জিনাত আরা মুনা এবং নিউইয়র্ক আসা জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবকে বাফলার পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

প্যারেড ও ফ্যাস্টিভ্যাল উপলক্ষে প্রকাশিত হয় বাফলার বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অপরাজেয়’। অনুষ্ঠানের প্রাইম টাইমে উপস্থাপক মঞ্চে ডাকেন বাফলার পাবলিক রিলেশন অফিসার, এবারের ম্যাগাজিন কমিটির কোঅর্ডিনেটর ও এলএ বাংলা টাইমসের সিইও আব্দুস সামাদকে। তিনি মঞ্চে উঠে প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম ও ম্যাগাজিন কমিটির সদস্যদের নিয়ে ফিতা কেটে ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন। উল্লেখ্য, এবারের ম্যাগাজিনে বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুদজ্জামান নূর, ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এবং মার্কিন সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, এলএ সিটি মেয়রসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিরা।

এবারই প্রথম স্থানীয় শিল্পী যারা বাফলার বিভিন্ন প্রগ্রামে গান পরিবেশন করেন তাদেরকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিভিন্ন সময় বাফলার প্রগ্রামে মেডিক্যাল সহযোগিতার জন্য ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকাকে (বিএমএএনএ)’ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ফেস্টিভ্যালে চলাকালীন বিভিন্ন সময় অন্যান্যের মধ্যে গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী রেহানা মল্লিক, আরজিন কামাল, উপমা সাহা, সোনিয়া বড়ুয়া, ও নতুন প্রজন্মের ব্যান্ড শিল্পী আসিফ ইসলাম শুভ। বেশ কিছু চমৎকার নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। গ্রুপ ডান্স পরিবেশন করে জারা ও তার দল। এছাড়াও স্হানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বিভিন্ন জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়। শেষদিনের অন্যতম অতিথি শিল্পী ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জিনাত আরা মুনা। তার গান দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দ দেয়। প্রধান অতিথি শিল্পী ছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক গানের যুবরাজকখ্যাত তুমুল জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শুভ্রদেব । তার মিউজিক ও ড্যান্স দর্শক-শ্রোতাদের মন ভরিয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বাফলা পদকপ্রাপ্ত শায়েখ সিরাজ এবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক পাওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যালের মিডিয়া পার্টনার ছিল জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল 'বাংলা ভিশন' ও লসএঞ্জেলেসের ১ম ডিজিটাল বাংলানিউজ পোর্টাল 'এল এ বাংলা টাইমস'। সবকিছু মিলে অত্যন্ত সফল একটি প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল আবারও লস এঞ্জেলেসবাসীকে উপহার দিয়েছে বাফলা।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল শুরু আজ : লিটল বাংলাদেশে সাজ সাজ রব

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-৩১ ১১:১৪:০৩

আজ ৩১ মার্চ শনিবার শুরু হচ্ছে লস এঞ্জেলেসের ঐতিহ্যবাহী ১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল ২০১৮। ২ দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষ হবে আগামীকাল ১ এপ্রিল রবিবার। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে  বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব বাংলাদেশে (বাফলা)’র উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে বাংলাদেশী অধ্যুষিত লিটল বাংলাদেশ এলাকায়।

এই আয়োজনকে ঘিরে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী লস এঞ্জেলসের রাজপথে নামবেন রঙ-বেরঙের পোশাক আর লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে। অংশ নেবেন বিদেশীরাও। তাই কম্যুনিটিতে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

গত এক দশকের বেশীকাল যাবৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সুদূর প্রবাসে এই আমেরিকার অন্যতম প্রধান শহর মেগাসিটি লস এঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে জমকালো প্যারেডের আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস এঞ্জেলেস (বাফলা)। ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ আজ প্রবাসীদের তথা সমগ্র বাংলাদেশীদের জন্য গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশ ডে প্যারেডে আমন্ত্রিত অতিথিরা হচ্ছেন সিনেটর ডায়ান ফেইনস্টাইন, লস এঞ্জেলেস সিটির জননন্দিত মেয়র এরিক গারসেটি, কংগ্রেসম্যান ব্র‍্যাড শেরম্যান, কংগ্রেসম্যান জিমি গোমেজ, বাংলাদেশের মাননীয় কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা, ডেপুটি চিফ হোরেস ফ্রাঙ্ক, এলএ কাউন্টির বোর্ড সুপাভাইজার হিলডা সলিস প্রমুখসহ ক্যালিফোর্ণিয়া স্টেট এবং ফেডারেল গভর্নমেন্টের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

২ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও মার্কিন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ ভিন্ন দেশী প্রবাসীরাও অংশ নেবেন। সকল অনুষ্ঠান সবার জন্য জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন প্রকার বাংলাদেশি পণ্য, বই ও মুখরোচক খাবারের স্টল।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক আয়োজনে পারফর্ম করতে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন আধুনিক বাংলা গানের অন্যতম জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শুভ্রদেব ও জিনাত আরা মুনা, নিউইয়র্ক থেকে এসেছেন জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রকাশিত হবে বাফলা'র বার্ষিক ম্যাগাজিন ’অপরাজেয়’। থাকছে নাগরিক সচেতনতা ও শিক্ষামূলক সেমিনার ইত্যাদি। স্বাধীনতা দিবসের এই ফেস্টিভ্যালে দেশীয় হস্তশিল্প, বই, খেলনা, দেশি মুখরোচক খাবার, গহনা, আবাসন ও বিনিয়োগ প্রকল্পসহ রকমারী ধরনের ও পণ্যের স্টল থাকবে।

১৫২ নর্থ ভারমন্ট এভিন্যুতে, ভার্জিল মিডল স্কুলে অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজন সকলের জন্য উন্মুক্ত; থাকবে প্যারেড থেকে ফেস্টিভ্যাল গ্রাউন্ড পর্যন্ত ফ্রি শাটল সার্ভিস ও পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্হা।

এবছর মিডিয়া পার্টনার থাকবেন বাংলা ভিশন ও এল এ বাংলা টাইমস্।

এবছর বাংলাদেশ ডে ফেস্টিভ্যালে আইয়ুব বাচ্চুর অংশ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি আসতে পারছেন না।

২ দিনের এই ঝাকজমকপূর্ণ আয়োজনে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবান্ধব ও সপরিবারে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাফলার প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম ও জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার শহিদ আলমসহ বর্তমান ক্যাবেনটের সদস্যবৃন্দ।


এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাফলার ১২তম প্যারেডকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিবের শুভেচ্ছা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-৩০ ১৪:২২:০৪

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলেস (বাফলা)’র আয়োজনে লস এঞ্জেলেসে প্রতিবারের ন্যায় ও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আড়ম্বরপূর্ণ ২ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড অ্যান্ড ফ্যাস্টিভ্যাল’। আগামী ৩১ মার্চ শনিবার ও ১ এপ্রিল রবিবার লিটল বাংলাদেশ এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানমালার সব ধরণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফলা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বাফলার বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এবারের প্যারেড অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে প্রকাশিতব্য ম্যাগাজিন ‘অপরাজেয়’তে দেওয়া বাণীতে তাঁরা বাফলার এমন উদ্যোগকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এবার অপরাজেয়'তে বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুদজ্জামান নূর, ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এবং মার্কিন সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, এলএ সিটি মেয়রসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিরা।

বাফলার পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি ও এবারের ম্যাগাজিন কমিটির কোঅর্ডিনেটর আব্দুস সামাদ বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের এসব শুভেচ্ছা বানী পাওয়াতে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই মূল্যায়ন বাফলার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আমি মনে করি।

২ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও মার্কিন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ ভিন্ন দেশী প্রবাসীরাও অংশ নেবেন। সকল অনুষ্ঠান সবার জন্য জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন প্রকার বাংলাদেশি পণ্য, বই ও মুখরোচক খাবারের স্টল।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক আয়োজনে পারফর্ম করতে বাংলাদেশ থেকে আসবেন আধুনিক বাংলা গানের অন্যতম জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শুভ্রদেব ও জিনাত আরা মুনা, নিউইয়র্ক থেকে আসবেন জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব।

২ দিনের এই ঝাকজমকপূর্ণ আয়োজনে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবান্ধব ও সপরিবারে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাফলার প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম ও জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার শহিদ আলমসহ বর্তমান ক্যাবেনটের সদস্যবৃন্দ।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হলিউডে ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের ৪৮তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-৩০ ০৫:৪৩:৩০

আনন্দঘন পরিবেশে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগ গত ২৬শে মার্চ ২০১৮,সোমবার সন্ধ্যায় লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুবলীগ এবং ভ্যালী আওয়ামী যুবলীগের সার্বিক সহযোগিতায় লস এন্জেলেসের চার্চ অফ সাইন্টোলজিতে উদযাপন করলো ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক শ্রী সুবর্ন নন্দী তাপস এবং সন্চালনের দায়িত্বে ছিলেন অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব খন্দকার আহমেদ।

শুরুতেই পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব শেখ পলাশ পবিত্র কোরআনের আয়াত পাঠ করে শোনান এবং শ্রী শ্রীনাথ বন্ধু বিশ্বাস পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানটি ছিল দু'ভাগে বিভক্ত,প্রথম পর্বে ছিল স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা এবং দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংকৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই বাংলাদেশের এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়,এসময় অভ্যাগত অতিথিসহ আওয়ামী পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দ দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শণ করেন। তিরিশ লক্ষ শহীদের আত্নত্যাগ এবং দু'লক্ষ মা-বোনের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য উনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সুধীজনদের মাঝে উপস্হিত মহান বীর মুক্তিযাদ্ধা জনাব মজিবর রহমান খোকা সহ সকল মুক্তযোদ্ধাদের সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে এবং ব্যাপক করতালির মাধ্যমে অভিনন্দিত করা হয়।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুরুতেই আলোচনায় অংশ নেয় নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোর। তন্বী নন্দী স্বাধীনতা সংগ্রামের সেইসব ভয়ার্ত দিনগুলির কথা শ্রদ্ধাসহ স্মরন করে। নতুন প্রজন্মের আরেক আলোচক আলভী আহমেদ '৭০ এর ঐতিহাসিক নির্বাচন,৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে। এ প্রজন্মের শিশু-কিশোররা প্রমান করে দেয় যে,তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তারা জানে।

আলোচনা ও সাংকৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী যুবলীগের সংগ্রামী নেতা আহ্বায়ক এ.কে.এম.তারিকুল হায়দার চৌধুরী এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব মন্জুরুল আলম শাহীন ভাই।উনারা এ'অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন এবং ইচ্ছা থাকা সত্বেও ব্যস্ততার কারনে উপস্হিত থাকতে পারেন নি বলে দুংখ প্রকাশ করেছেন। নিউইর্য়ক থেকে দু'জনেই তাদের মূল্যবান বক্তব্য দেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক জনাব তারিকুল হায়দার চৌধুরী টেলিফোনে উপস্হিত নেতা-কর্মী এবং অভ্যাগত অতিথিদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা দেন। উনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্ত করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী হতে কাজ করবার আহবান জানান। তিনি আরো ঘোষণা দেন যে সুবর্ন নন্দী তাপসই হচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক এবং ২৯শে এপ্রিল সম্মেলন করবার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিউইর্য়ক থেকে মধ্যরাতের কিছু পরে টেলিফোনের মাধ্যমে ওনার মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। সুবর্ন নন্দী তাপস এর নেতৃত্বে ক্যালিফোর্নিয়াতে শক্তিশালী একটি যুবলীগ গঠনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিশেষে স্বল্প সময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে আসা ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের 'স্বাধীনতা দিবস' এর অনুষ্ঠানে আসবার আমন্ত্রণ গ্রহন করে উপস্থিত থাকতে পারেন নি বলে দুংখ প্রকাশ করেছেন। মুল মন্চ থেকে একে একে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক জনাব আলমগীর হোসেন,ভ্যালী আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক জনাব হাবিবুর রহমান ইমরান,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব শেখ পলাশ,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের অন্যতম উপদেষ্টা জনাব তৌহিদুজ্জামান খান,লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মাহাতাবউদ্দিন টিপু,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা বানু।
এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের অন্যতম  সহ-সভাপতি জনাব ফারুক খান। গেষ্ট অব অনারে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ড:রবিউল আলম উনার বক্তৃতায় '৭০ এর নির্বাচন পুর্ববর্তী এবং পরবর্তীতে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠির ষড়যন্ত্রের কথা উপস্হিত নেতা,কর্মী এবং অভ্যাগত অতিথিদের জানিয়ে দেন। ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক শ্রী সুবর্ন নন্দী তাপস উপস্হিত নেতা,কর্মী এবং অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভাটির সমাপ্তি হয়।

উপস্হিত নেতা,কর্মী ও অতিথিদের মাঝে যারা ছিলেন, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জনাব সোহেল রহমান বাদল,যুবলীগের ইলিয়াস শিকদার,সিটি আওয়ামী যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব বাবু ভুইয়া,ভ্যালী আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী অনির্বান সাহা টিটো,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের স্বাস্হ্য বিষয়ক সম্পাদিকা ড:মাহমুদা আলম কলি,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের কেয়া পলাশ,খুরশিদা আক্তার।আরো যারা ছিলেন বেঙ্গলী আমেরিকান হিন্দু সোসাইটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তিন বারের সভাপতি শ্রী অমর হাওলাদার। বরাবরের মত ছবি ফ্রেমে বন্দী করে রাখবার কঠিন দায়িত্বে ছিলেন ফটো সাংবাদিক শ্রী সুখেন্দ্র পাল।
দ্বিতীয় পর্বে ঘন্টাব্যাপী দেশাত্ববোধক এবং আধুনিক গান পরিবেশন করেন লস এন্জেলেসের খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী উপমা সাহা।'সব ক'টা জানালা খুলে দাও না ওরা আসবে চুপি চুপি' এই কালজয়ী গানটি দিয়ে আনন্দময় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল : আর বাকী দুইদিন, ব্যাপক প্রস্তুতি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-২৮ ১৪:৪১:০৯

আর মাত্র ২ দিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে লসএঞ্জেলেসের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল ২০১৮। দুইদিনব্যাপী নানান আয়োজনের মাধ্যমে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে উঠবে সমগ্র 'লিটিল বাংলাদেশ' এলাকা। হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীরা লসএঞ্জেলসের রাজপথে নানা উৎসবে, রঙে ও ঢঙে উদযাপন করবে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। তাই প্রবাসী বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে সাধারন নাগরিকদের মাঝে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যালকে ঘিরে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

গত এক দশকের বেশীকাল যাবৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সুদূর প্রবাসে এই আমেরিকার অন্যতম প্রধান শহর মেগাসিটি লস এঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে জমকালো প্যারেডের আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস এঞ্জেলেস (বাফলা)। ঐতিহ্যবাহী 'বাংলাদেশ ডে প্যারেড' আজ প্রবাসীদের তথা সমগ্র বাংলাদেশীদের জন্য গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল শনিবার ও রবিবার অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী এ বিপুল আয়োজনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ১ তারিখ ইস্টার সান ডে'র ছুটি থাকায় এবছর 'বাংলাদেশ ডে' প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে ৩১ তারিখ শনিবার।


এ বছর বাংলাদেশ ডে প্যারেডে আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিরা হচ্ছেন সিনেটর ডায়ান ফেইনস্টাইন, লস এঞ্জেলেস সিটির জননন্দিত মেয়র এরিক গারসেটি, কংগ্রেসম্যান ব্র‍্যাড শেরম্যান, কংগ্রেসম্যান জিমি গোমেজ, বাংলাদেশের মাননীয় কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা, ডেপুটি চিফ হোরেস ফ্রাঙ্ক, এলএ কাউন্টির বোর্ড সুপাভাইজার হিলডা সলিস প্রমুখসহ ক্যালিফোর্ণিয়া স্টেট এবং ফেডারেল গভর্নমেন্টের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

দুই দিনব্যাপী এই জামজমকপূর্ণ আয়োজনে আগত অতিথি শিল্পীরা ছাড়াও অনেক প্রবাসী শিল্পীরা বিভিন্ন পারফর্মেন্স করবেন। প্রবাসীদের মন মাতাতে বাংলাদেশ থেকে আসছেন আধুনিক বাংলা গানের অন্যতম জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, যার অসংখ্য-অগণিত গান ও জাদুকরী সুরের মাধ্যমে শুভ্রদেব বাংলাদেশের মানুষের মনে স্হান করে নিয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক থেকে আসবেন হালের দুইজন জনপ্রিয় শিল্পী জিনাত আরা মুনা ও শাহ মাহবুব, এরা দুজনই বর্তমানে দর্শকশ্রোতাদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রকাশিত হবে বাফলা'র বার্ষিক ম্যাগাজিন 'অপরাজেয়', থাকছে নাগরিক সচেতনতা ও শিক্ষামূলক সেমিনার ইত্যাদি। স্বাধীনতা দিবসের এই ফেস্টিভ্যালে দেশীয় হস্তশিল্প, বই, খেলনা, দেশি মুখরোচক খাবার, গহনা, আবাসন ও বিনিয়োগ প্রকল্পসহ রকমারী ধরনের ও পণ্যের স্টল থাকবে। ১৫২ নর্থ ভারমন্ট এভিন্যুতে, ভার্জিল মিডল স্কুলে অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজন সকলের জন্য উন্মুক্ত; থাকবে প্যারেড থেকে ফেস্টিভ্যাল গ্রাউন্ড পর্যন্ত ফ্রি শাটল সার্ভিস ও পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্হা। এবছর মিডিয়া পার্টনার থাকবেন বাংলা ভিশন ও এল এ বাংলা টাইমস্‌। এবছর বাংলাদেশ ডে ফেস্টিভ্যালে আইয়ুব বাচ্চুর অংশ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি আসতে পারছেন না। গত ২৫ মার্চ বাফলা'র ইসি মিটিংয়ে একথা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন বাফলার প্রেসিডেন্ট জনাব নজরুল আলম। তিনি জানান, আইয়ুব বাচ্চু আসবেন এ জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত সর্বাত্নক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভিসার জটিলতায় তা সম্ভব হচ্ছেনা। জানা যায়, ক্যালিফোর্ণিয়ার বাংলাদেশ ডে প্যারেডসহ আরও আটটি স্টেট এ বাচ্চুর পূর্ব ঘোষিত সকল অনুষ্ঠান বাতিল অথবা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশী কম্যুনিটির যেকোন সমস্যায় বাফলা নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে বাফলা কম্যুনিটির সুখ-দুঃখে প্রকৃত বন্ধু হিসাবে নিজেদের প্রমাণিত করতে পেরেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোনও বৃহৎ নগরীতে বাংলাদেশকে নিয়ে এত বড় বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য আয়োজন ধারাবাহিকভাবে একমাত্র বাফলা'ই করে থাকে, সেটি আজ সর্ব স্বীকৃত। হিংসা ও হানাহানির এই পৃথিবীকে  ভালবাসা দিয়ে যত্ন করে গড়ে তুলবার জন্যে নিরলস কাজ করছে বাফলা। পৃথিবীময় ঘৃনার বিরুদ্ধে ভালোবাসার বাণী ছড়িয়ে দিতে অগ্নি মশাল নিয়ে দাঁড়িয়েছে বাফলা। মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান এবং ভালবাসার ব্রতী নিয়ে এগিয়ে চলছে বাফলা।

মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে, বাফলা'র বর্তমান প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম তার ক্যাবিনেট ও বাফলার সকল সদস্যের পক্ষ থেকে প্রবাসের সকলকে ১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যালে সপরিবারে ও সবান্ধবে যোগদান করার আহবান জানিয়েছেন।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-১০ ১০:৪১:১৬

৭ই মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ এবং সদ্য ইউনেস্কো কতৃক  'বঙ্গবন্ধুর' ভাষন 'World Documentary Of Heritage' সংরক্ষনের ঘোষনায় আলোচনা সভা এবং সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করে বিনোদনের রাজধানীখ্যাত লস-এন্জেলেসের হডিউডের প্রানকেন্দ্রের Church Of Scientology এর মিলনায়তনে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই দিনটির উৎযাপন শুরু হয়।’

একক সংগীত পরিবেশন করেন লস-এন্জেলেসের প্রখ্যাত শিল্পী আবুল কালাম আজাদ। তিনি একের পর এক গন-সংগীত,দেশাত্ববোধক এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান গেয়ে উপস্হিত সুধীজনদের মুগ্ধ করেন,উনার সংগীত মনে করিয়ে দেয় নয় মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই দিনগুলোর কথা।অনেককেই উনার কন্ঠের সাথে তাল মিলিয়ে গান গাইতে দেখা যায়।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা নির্মনেন্দু গুনের বিখ্যাত কবিতাটি আবৃত্তি করেন শিউলী মিজান,উপস্হিত সুধীজন আবেগ আপ্লুত হয়ে উপভোগ করেন উনার আবৃত্তি। বঙ্গবন্ধুকে স্মরন করে আজমিরী রওশন আবৃত্তি করেন। প্রানবন্ত এবং আন্তরিকতার সাথে পর্বটি পরিচালনা করেন জনাব শাহীন মিজান।



 আলোচনার শুরুতেই বক্তব্য রাখেন স্হানীয় অন লাইন পত্রিকার সাংবাদিক জনাব হানিফ সিদ্দিকী,এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন সিটি আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক জনাব আলমগীর হোসেন,ভ্যালী যুব লীগের ইমরান আহমেদ,অভ্যাগত অতিথিদের মধ্য থেকে জনাব আবদুর রাজ্জাক,বীর মুক্তিযাদ্ধা জনাব ছামছুল আলম রানা,ক্যালিফোর্নিয়্ ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের অন্যতম আহ্বায়ক জনাব শেখ পলাশ,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের জৈষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব খন্দকার আহমেদ,ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ড:রবি আলম,অন্যতম সহ-সভাপতি জনাব নাজমুল চৌধুরী,সহ-সভাপতি জনাব আনিসুর রহমান,বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব মিজান শাহীন এবং সর্বশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন বয়োজৈষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সবার শ্রদ্ধাভাজন জনাব মোস্তাইন দারা বিল্লাহ। আলোচকরা ৭ই মার্চের আলেচনায় বার বার ঐ ঐতিহাসিক দিনটির কথা স্বরন করেছেন।কেউ রেশকোর্স মায়দানে স্বশরীরে উপস্হিত থেকে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শোনার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন,কেউ ঐতিহাসিক বক্তৃতাকেই স্বাধীনতার ঘোষনা বলে উল্লেখ করেছেন।বক্তাদের অনেকেই মনে করেন এই ঐতিহাসিক বক্তৃতা শূধু স্বাধীনতার ঘোষনাই নয়,ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ পরবর্তী রূপরেখা বা নির্দশনা।

আলোচনা অনুষ্ঠানটি সুনিপুণভাবে সন্চালন করেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব তোফাজ্জল হোসেন কাজল।

মন্চ সাজানো হয়েছিল জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং উনার সুযোগ্যা কন্যা বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনার নয়নাভিরাম প্রতিকৃতি দিয়ে,যা সত্যি প্রশংসনীয় এবং উপস্হিত সুধীজন দ্বারা সমাদৃত।
আলোচনা সভায় উপস্হিত ছিলেন সিটি যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব বাবু ভূইয়া,ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের কেয়া,খুরশিদা আক্তার।ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক তপস নন্দী বাংলাদেশে সফররত থাকায়,উনি উপস্হিত ছিলেন না।

সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মাহাতাবউদ্দিন টিপু।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

লস এন্জেসে কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-০৬ ১২:০৭:৪৪

এক ভাব গম্ভীর্য পরিবেশে লস এন্জেসের সাহিত্য প্রেমীরা স্মরন করলো সদ্য প্রয়াত নিভৃতচারী, বাংলাদেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর। অজানা অনেক তথ্য সমৃদ্ধ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও স্মরনে উপকৃত হলো এন্জোলিনোর বাংলা ভাষাভাষী সাহিত্যনুরাগীরা। আর এ স্মরন সভার আয়োজনকারী নতুন সংগঠন 'ক্রান্তি' নতুন এক ধারার অগ্রনী ভুমিকা পালন করে সাহিত্যনুরাগীদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হলো।

গত শনিবার ৩রা ফেব্রুয়ারী ২০১৮ 'ক্রান্তি:সেন্টার ফর বাংলাদেশ ডায়ালক,ইউ এস এ' র আয়োজনে লস এন্জেলেসের 'লেমন গ্রোব রিকক্রিয়েশন সেন্টার'এ স্মরন সভার পাশাপাশি উনার 'গ্রন্থ প্রদশর্নীর' আয়োজন আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক,যা সত্যি বিরল এবং নতুন সংযোজন।

এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে স্মরন সভার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে  স্মরন সভার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য রাখেন ক্রান্তির সভাপতি বীর মুক্তিযাদ্ধা শ্রদ্ধেয় জনাব মুজিবর রহমান খোকা।

তৃষা ভাওয়াল সদ্য প্রয়াত কথা সাহিত্যিক শওকত আলীর সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে আলোকপাত করেন,উপস্হিত সুধীজন পিনপতন নিস্তব্ধতার মাঝে খুঁজে পান নতুন করে সদ্য হারানো এই কথা সাহিত্যিককে। যা কোনদিনই পূরন হবার জন্য। উনি যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবেন পাঠকের মাঝে।

'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাস নিয়ে তরুন কথা সাহিত্যিক স্বকৃত নোমানের 'ইতিহাসের সংগে কল্পনার সংযোগ' শিরোনামে একটি লেখা তার অনুমতি নিয়ে পড়ে শোনানো হয়। পড়ে শোনান ক্রান্তির নির্বাহী পরিচালক শীলা মুস্তাফা।

শওকত আলীকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন ক্রান্তির পরিচালক শামীম রেজা। জনাব সামছুল ইসলাম 'ওয়ারিশ' উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন,যা সদ্য প্রয়াত শওকত আলীর অনবদ্য সৃষ্টি। হাসিনা বানু কবিতা আবৃত্তি করেন,উনাকে স্মরন করে।

শওকত আলীর 'দক্ষিনায়নের দিন' উপন্যাস নিয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কথা সাহিত্যিক ইমতিয়াজ শামীমের 'এইখানে প্রকৃত মানুষ' শিরোনামে একটি লেখা,উনার অনুমতি সাপেক্ষে পাঠ করা হয়। পাঠ করে শোনান বীর মুক্তিযাদ্ধা,সংগঠনটির সভাপতি জনাব মুজিবর রহমান খোকা।

শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন ক্রান্তির সহ-সভাপতি জনাব মোবারক হোসেন।

'লড়াই' উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন ক্রান্তির অর্থ বিষয়ক পরিচালক জনাব জাহাংগীর বিশ্বাস।

স্মরন সভায় সুধীজনদের আসবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ক্রান্তির সাংগঠনিক পরিচালক জনাব সিদ্দিকুর রহমান স্মরন সভাটির সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশীর মর্মান্তিক মৃত্যু!

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-২৩ ১৮:৩৩:১৭

ক্যালিফোর্নিয়ায় লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশী মর্মান্তিক ভাবে নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় রোববার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির ওয়েস্ট মিনিস্টার এলাকার ৪০৫ নং ফ্রিওয়ে সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পেশায় ট্যাক্সিচালক আজাদ তার যাত্রীবিহীন ট্যাক্সির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে আঘাত হানে। এতে তার ট্যাক্সিটি দুমরে মুচরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আবুল কালাম আজাদ ১৯৮৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের লস এঞ্জেলেসে বসবাস করে আসছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে স্ত্রী তামান্না রিমি, দুই ছেলে আজাদ অন্তু (২১) ও আবু আজাদ সন্তু (১৭)
নামে দুই ছেলে রয়েছে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার পলাশতলা গ্রামে। গ্রামের বাড়িতেও তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে।

ইউনাইটেড ট্যাক্সি কোম্পানির পক্ষ থেকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শামসুল আরেফিন হাসিব, কমিউনিটি নেতা আব্দুল মান্নান, মো: শাহ জালাল সহ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ নিহতের বাসায় গিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের স্বান্তনা ও সমবেদনা জানিয়েছেন। আজাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

বিস্তারিত খবর

নির্বাচনী ইশতেহার লঙ্ঘন করে লস এঞ্জেলেসে প্রেসক্লাব নির্বাচন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-২৩ ০১:৪৭:৩৯

লস এঞ্জেলেসে লিটল বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিতে অসন্তোষ ও বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত রবিবার বিকেলে স্থানীয় আপন বাজার মিলনায়তনে নবগঠিত লিটল বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন নিয়ে মিটিংয়ে হঠাৎ করে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তৎক্ষণাৎ ভোট গ্রহণ শেষে কমিটিও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই কমিটি গঠন নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, লস এঞ্জেলেসে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করে আসছেন। এখানে অনেক বাংলা ভাষাভাষি মিডিয়া এবং দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক রয়েছেন। কিন্তু  এতদিন কমিউনিটিতে কেনো প্রেসক্লাব গড়ে উঠেনি। প্রবাসীরা প্রয়োজনে কোনো সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে কোনো প্লাটফর্ম ছিলো না। তাই একটি প্রেসক্লাবের খুবই প্রয়োজন ছিলো কমিউনিটির। সম্প্রতি প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে একটি প্রেসক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠিত হয়। তাদের মাধ্যমে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

উক্ত কমিশন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।  এতে বলা হয়-  ১৭ ডিসেম্বর-৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ভোট সংক্রান্ত কারণে সদস্য পদ গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ জানুয়ারি ২০১৮। মনোনয়নপত্র বিতরণ ৭ জানুয়ারি-১৪ জানুয়ারি ২০১৮। মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ জানুয়ারি। মনোনয়ন প্রত্যাহার ২৮ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে ৩১ জানুয়ারি ২০১৮। এবং ৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুর ১২টা-বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা ছিলো।  

কিন্তু গত রবিবার অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে এই ইশতেহারের কিছুই মানা হয়নি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কথা থাকলেও হঠাৎ মিটিং ডেকে উপস্থিতিদের নিয়ে ভোট গ্রহণ করা হয়। মিটিং সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে মাত্র ৪ জন সাংবাদিক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ভোট প্রদান করেন ১২ জন। নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী সদস্য ফরম নিয়ে সদস্য হওয়ার কথা থাকলেও ৪ জনের বেশি তা করেননি। এছাড়া উপস্থিত অন্যদের মধ্যে অনেকেই ভিজিটর ছিলেন। তারাও ভোট দেন। এজন্য কমিউনিটিতে এই নির্বাচন নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রবাসীরা বলছেন, যেখানে সৃজশীলতার চর্চা হওয়ার কথা, প্রেসক্লাবের মতো সংগঠনে এরকম একটি নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বলছেন, ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থে একরকম একটি ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সুষ্ঠু একটি নির্বাচনের লক্ষ্যে পূর্ণ ইশতেহার শিডিউল করা ছিলো সেখানে হঠাৎ করে এরকম কমিটি গঠন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি নিছক লোক দেখানো নির্বাচন। এরকম হলে তারা নির্বাচন না দিলেও পারতেন।

কমিটি গঠনের পর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদকে বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসক্লাব সংশ্লিষ্ট অনেকে। তারা বলছেন, মানুষকে মিটিংয়ের কথা বলে ডেকে এনে হঠাৎ করে ভোট আয়োজন কোনো নির্বাচন হতে পারে না। উপস্থিত অনেকে কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা এই কাজ সম্পন্ন করে।

অনেক খ্যাতনামা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এই ঘটনার পর লিটল বাংলাদেশ প্রেসক্লাব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।

এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

লস এঞ্জেলেসে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৮ ১৬:১৩:০৩

লস এঞ্জেলেসে বেঙ্গলি আমেরিকান হিন্দু সোসাইটির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পৌষ সংক্রান্তি পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভেননাইস সিটির উডলি পার্কে এই উৎসবে নারী-পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরা অংশ নেন।

প্রবাসী মহিলারা নানা ধরণের পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশ গ্রহণ করেন। পরে সবার মধ্যে ফ্রি পিঠা পরিবেশন করা হয়।


উৎসবের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সুখেন্দ্র পাল ও রত্না পাল। সহযোগিতায় ছিলেন ওমর হালদার ও পঙ্কজ দাস।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবি এমি ঘোষ। পরিচালনা করেন লস এঞ্জেলেসের জনপ্রিয় উপস্থাপক মিঠুন চৌধুরী।
 

দেশি বিভিন্ন স্বাদের পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন লায়লা, রত্না, জয়া সরকার, শান্তনা, বিলকিস, চামেলী ও রিনা প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, আগামী বছর আরও পরিসরে এই উৎসব আয়োজন করা হবে।


উৎসবের শেষের দিকে খেলাধুলা ও আনন্দ আয়োজন করা হয়। এতে পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের জন্য পৃথক খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কারও বিতরণ করেন আয়োজকরা। সবার জন্য ডিনারের ব্যবস্থাও ছিল পিঠা উৎসেবে।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ ডে প্যারেড উপলক্ষে বাফলার ফান্ড রাইজিং অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৮ ১৫:৪৪:১৮

প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লস এঞ্জেলেসে আগামী ৩১ মার্চ শনিবার ১২তম বাংলাদেশ ডে প্যারেড এন্ড ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলেস-বাফলা’। এ উপলক্ষে গত রবিবার স্থানীয় গার্ডেন সুইট হোটেলের বলরুমে ফান্ড রাইজিং ডিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে বাফলা’র এক্সিকিউটিভ কমিটি, এডভাইজারি বোর্ড, বোর্ড অব ট্রাস্টি এবং বাফলার বিভিন্ন সদস্য সংগঠনসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন। লম্বা উইকএন্ড থাকায় প্রচুর প্রবাসীদের উপস্থিত হন ফান্ড রাইজিং ডিনারে।

অনুষ্ঠানে প্যারেডের জন্য ৩৫ হাজার ডলার সংগৃহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফলা কর্তৃপক্ষ।

বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত এবং বাফলা সংগীতের মাধ্যমে। প্রথম পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাফলা সভাপতি নজরুল আলম। এসময় তিনি বাফলার ক্যাবিনেট মেম্বারদের মঞ্চে ডেকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ফান্ড রাইজিং ডিনারে অংশ নেওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা এই দিবসের প্যারেড হচ্ছে প্রবাসে আমাদের জাতীয় গর্বের বিষয়। লস এঞ্জেলেসের মতো সিটির প্রধান সড়কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে কর্মসূচি পালন নিশ্চয়ই কম বড় ব্যাপার নয়। এই আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

এসময় তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণের জন্য সকল প্রবাসীদের আহ্বান জানান এবং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

২য় পর্বে বাফলার এক্সিকিউটিভ কমিউনিটির সদস্যদের এক এক করে মঞ্চে আসন গ্রহণ করে সবাই নিজ নিজ অনুদান প্রদান করেন। এরপর যথারীতি বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাফলার ফান্ডে অনুদান জমা হয়।

বাফলা ক্যাবিনেটের পক্ষ থেকে প্যারেডের ফান্ডে ১০ হাজার ডলার প্রদান করা হয়।

বিভিন্ন সংগঠনের অনুদান প্রদানের সময় ব্যারোমিটারের মাধ্যমে সবার অনুদানের পরিমাণ স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়ার  প্রেসিডেন্ট শিপার চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া’র প্রেসিডেন্ট আনওয়ার হোসেন রানা, বিএনপির (একাংশ) সেক্রেটারি বদরুল চৌধুরী শিপলু, উত্তরণের প্রতিষ্ঠাতা ডা. আবুল হাসেম, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার এন্ড আর্কিটেক্ট (অ্যাবে)-এর প্রেসিডেন্ট সাইফুল হক, মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা)-এর প্রেসিডেন্ট আকবর আশরাফ,  গ্রেটার ফরিদপুরের সেন্টু হক ও চিটাগাং ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের ইলিয়াস টাইগার প্রমুখ।

সবশেষে অতিথিদের জন্য ডিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মিতালী কাজল, রেহানা মল্লিক, উপমা সাহা, বাফলার সেক্রেটারি শহিদ আলম। কবিতা আবৃত্তি করেন রশনী আলম। ডান্স পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের শিল্পী শিমরিন।

ফান্ড রাইজিং ডিনারের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্যাবিনেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোর্শেদুল ইসলাম। পরিচালনা করেন বাফলার সেক্রেটারি শহিদ আলম ও কালচারাল সেক্রেটারি আন্জুমান আরা শিউলি।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ট্রাম্পের 'ফেক নিউজ অ্যাওয়ার্ড' ঘোষণা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৮ ১২:২২:৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম সারির কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে ‘সবচেয়ে অসৎ এবং ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘ফেক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’ ২০১৭ ঘোষণা করেছেন ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার টুইটারে ‘ফেক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ওয়েবসাইটে তিনি ১১ বিজয়ীর একটি তালিকাও দিয়েছেন । সেই ওয়েবসাইটের লিংক ট্রাম্প তার টুইটেও দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে আসা ট্রাম্প গত ৩ জানুয়ারিতে তার ভাষায় ‘ফেক’ সংবাদমাধ্যমগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী বুধবার রাতে তিনি এ পুরস্কার বিজীয়দের নাম ঘোষণা করলেন।

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম পুরস্কার পেয়েছে অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’। আর এতে নিয়মিত কলাম লেখক ও  অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী পল ক্রুগমানকেও শীর্ষে রেখেছেন তিনি। তালিকার ১০ম স্থানেও নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার নাম রয়েছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে এবিসি নিউজ। এছাড়া তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম স্থানে রয়েছে  সিএনএনের নাম। অর্থাৎ ১১ টির মধ্যে চারটি পুরস্কারই পেয়েছে এই সংবাদমাধ্যম। তালিকায় চতুর্থ স্থানে টাইম ম্যাগাজিন, পঞ্চম ওয়াশিংটন পোস্ট ও অষ্টম স্থানে নিউজ উইকের নাম রয়েছে।

১১তম বিজয়ী হিসেবে কোনো নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে ‘রাশিয়া কলিউশন’। অর্থাৎ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বা জড়িত থাকার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদসমূহের কথা বলা হয়েছে।

এই রুশ হস্তক্ষেপের বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড় চলেছে। এ নিয়ে ট্রাম্পের ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং এজন্য ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি। এটিকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের চিফ স্ট্র্যাটেজিস্টের পদ থেকে বিদায় নিতে হয় স্টিভ ব্যাননকে।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৮ ১২:১৯:২৬

গত ১৪ই জানুয়ারী রবিবার সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগ, সিটি যুবলীগ এবং ভ্যালী যুবলীগ লস-এন্জেলেসের সুনামধন্য আলাউদ্দিন রেষ্টুরেন্টে আয়োজন করে বিশেষ কর্মী সভার। কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সুবর্ন নন্দী তাপস, খন্দকার ইমতিয়াজ আহমেদ ইমু, তৌহিদুজ্জামান খান, ফারুক খান, সাইফুল আলম চৌধুরী, শেখ পলাশ , শচীন মজুমদার, হাবিবুর রহমান (ইমরান),আলমগীর হোসেন, রনি খান, বাবু ভুঁইয়ান, মো বাবুল শিকদার, মুহাম্মদ ইলিয়াস শিকদার, মোনামি শামস খান, শায়লা রুমী সহ আরও অনেকে। আয়োজিত এই কর্মী সভার প্রধান অতিথি হয়ে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহচর এবং সহকর্মী শরীয়তপুরের কৃতি সন্তান মরহুম এডভোকেট আবিদুর রেজা খানের পুত্র দীর্ঘদিন যাবত লস-এন্জেলেস প্রবাসী জনাব হাসান রেজা খান।

ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আহমেদের সঞ্চালনে শুরুতেই প্রানবন্ত বক্তব্য রাখেন ভ্যালী আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক জনাব ইমরান আহমেদ, এরপর বক্তব্য রাখেন সিটি আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক জনাব আলমগীর হোসেন, স্বল্পদীর্ঘ বক্তৃতায় উনি দেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব সাইফুল আলম চৌধুরীও উনার মূল্যবান বক্তৃতা প্রদান করেন।এই কর্মী সভায় আমন্ত্রণ গ্রহন করে আসবার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। আরো যারা তাদের মূল্যবান বক্তব্য দিয়েছেন তারা হলেন ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের উপদেষ্টা জনাব তৌহিদউজ্জামান খান, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগের উপদেষ্টা, ষ্টেট আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারন সম্পাদক জনাব ফারুক খান। উপস্হিত সুধীজনের মধ্য থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টরেন্স সিটি থেকে আগত জনাব শাহীন।

সভার প্রধান বক্তা ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব শেখ পলাশ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্তী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর আবদানের কথা যুবলীগ নেতাকর্মীদের মনে করিয়ে দেন। অধীর আগ্রহে অপেক্ষার পর গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচারন বক্তব্য দেন সবার বয়োজেষ্ঠ, বঙ্গবন্ধুর এবং মরহুম আবিদুর রেজা খানের রাজনৈতিক সহচর শরিয়তপুরের শ্রী রামনাথ নন্দী। উনি আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান প্রয়াত নেতা আবদুর রাজ্জাকের সাথে রাজনীতি করবার বিরল স্মৃতির কথা আবেগময় ভাষায় বর্ননা করেন। স্বাধীনতা পূর্ব এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পরিস্তিতির কথা উল্লেখ করে, সেইসব দিনগুলির ঐক্যের মত যুবলীগের সবাইকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হবার উদ্দাত্ত আহ্বান জানিয়ে উনি উনার মূল্যবান বক্তব্য শেষ করেন।

প্রধান অতিথি জনাব হাসান রেজা খান ক্যালিফোর্নিয়াতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবার আহবান জানান, উনি বলেন 'বিভাজন প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে',তাই তিনি মনে করে নির্বাচনী বৈতরনী পার করতে হলে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। উনার বাবা আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবি হয়ে মামলা লড়েছেন বলে সবাইকে অবহিত করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ধ্বংসস্তুপ থেকে দেশকে বঙ্গবন্ধু কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার বর্ননা দেন। যার ধারাবাহিকতায় দেশ আজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তা তিনি উল্লেখ করেন। এ কর্মী সভায় সব নেতা কর্মীরা সামনের ২০১৮ সনের নির্বাচনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবার আহ্বান জানায়। কর্মীসভার সভাপতি ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট যুবলীগের আহ্বায়ক সূবর্ন নন্দী তাপস এর শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ বক্তৃতার মধ্য দিয়ে রাত অব্দী চলা সভাটির পরিসমাপ্তি ঘটে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সাথে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির মতবিনিময়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১২ ১২:৫০:২৬

গত ৬ই জানুয়ারী সন্ধ্যায় হলিউডের স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে ৯০ এর ছাত্র-গণ আন্দোলনের সংগ্রামী ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সম্পাদক জনাব মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ক্যালিফোর্নিয়া বি এন পি নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারীর হঠকারিতার মধ্য দিয়ে এ অনির্বাচিত সরকার দেশ থেকে গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। এর পর থেকে দেশে একটিও সত্যিকার নির্বাচন হয়নি। এ সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন কথা জনগণ বিশ্বাস করে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ও তার প্রতিফলনের নিশ্চয়তা চায়। তাই জনগণকে সাথে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করে বি এন পি'কে নির্বাচনে যেতে হবে। তার মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সরকারকে সেই দাবি মানতে বাধ্য করতে প্রয়োজন ১৯৯০ সালের মত দুর্বার আন্দোলন। গণতন্ত্রমনা সকল দল ও কর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, শিক্ষক-কর্মকর্তা সকলকে নিয়ে ৯০ এর মত রাজপথে দুর্বার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি এ সময় ৯০এর আন্দোলনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অতীত বর্তমান তুলে ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এই প্রবাস থেকেই প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় নির্বাহী কমিটির পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ সম্পাদক জনাব মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ক্যালিফোর্নিয়া বি এন পি সাংগঠনিক বিষয়ে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করলে দলের সহ সভাপতি জনাব অপু সাজ্জাদ ১৯৯০ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বি এন পি গঠনের প্রেক্ষ্যাপট ও পরবর্তী কার্যক্রম তুলে ধরেন। দলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোহাইমেন ২০১২ সালে সম্মেলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে ২০১৭ সালের কর্মী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও প্রেক্ষ্যাপট তুলে ধরেন। কমিটির মেয়াদের পর ক্ষমতা কুক্ষিগত না রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকলের অংশ গ্রহণের সুযোগ রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার উপর জোর দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি সামসুজ্জোহা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান, সহ সভাপতি নিয়াজ মোহাইমেন, জুনেল আহমেদ, আফজাল হোসেন শিকদার, অপু সাজ্জাদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান জুয়েল,যুব বিষয়ক সম্পাদক: কোহিনুর রহমান প্রমুখ। ৯০ এর ছাত্র-গণ আন্দোলনের সংগ্রামী ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব ক্যালিফোর্নিয়ার সভাপতি জনাব শামসুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া বি এন পি নেতৃবৃন্দ ৫ই জানুয়ারি গনতন্ত্র হত্যা দিবসে এক বিবৃতিতে, একটি অনির্বাচিত সরকারকে এভাবে দীর্ঘদিন ক্ষমতা টেনে নেওয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমূহের উপর চরম হুমকি দাবি করে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি শামসুজ্জোহা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী চপল, আহসান হাফিজ রুমি, জুনেল আহমেদ, নুরুল ইসলাম, সবুর খান মামুন, মার্শাল হক, আফজাল হোসেন শিকদার, হাসানুজ্জামান মিজান, মিশর নুন, অপু সাজ্জাদ, শওকত হোসেন আনজিন, মোহাম্মদ মঞ্জু, আবুল হাসনাত মন্টু চৌধুরী, ইলিয়াস শিকদার, আমজাদ হোসেন, মোঃ রফিক, মেহেদী হাসান, আশরাফুল আলম হেলাল, এলেন ইলিয়াস খান, বাদল খান, মোহাম্মদ সেলিম রেজা পিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক: ফারুক হাওলাদার, রনি জামান, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান জুয়েল, আলমগীর হোসেন, আসাদুজ্জামান রাজু, দেলোয়ার চৌধুরী, সহ সাধারণ সম্পাদক: খন্দকার জাভেদ, হোসেন লিটু, শেখ সেলিম, হেলাল আহমেদ ভূইয়াঁ, মোহাম্মদ শাহানুর, মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক: শাহাদাত হোসেন শাহীন, লোকমান হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: নয়ন বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক: আবু তাহের সাজু, সহ দপ্তর সম্পাদক: মোশাররফ হোসেন ইমন, কোষাধক্ষ্: মোঃ আব্দুল মান্নান, সহ কোষাধক্ষ্: আক্তার মাতুব্বর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মোঃ শফিকুল ইসলাম পলাশ, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: আবুল কায়সার, তত্ব ও প্রযুক্তি সম্পাদক: শাহ নেওয়াজ, সহ তত্ব ও প্রযুক্তি সম্পাদক: এ কে এম আসিফ, ক্রীড়া সম্পাদক: ইফতেখার হোসেন ফাহিম, যুব বিষয়ক সম্পাদক: কোহিনুর রহমান,  স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক: মেহেদী হাসান, শিক্ষা সম্পাদক: সাঈদ খান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: হাফেজ মোহাম্মদ বেলাল, সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: মাহতাব কবির ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক: শাহনাজ বুলবুল, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক: সোহেল মিয়া, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক:ফেরদৌস কবির সুজন, সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক: রাজু ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা: ফরিদা বেগম, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা: মনিরা মিজান, আইন বিষয়ক সম্পাদক: ওমর ফারুক,  সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক: সারোয়ার সুমন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকঃ আবুল খায়ের, সহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকঃ ইয়াসির আরাফাত মুন্না, সমাজ কল্যাণ সম্পাদকঃ মোঃ খসরু রানা, সহ সমাজ কল্যাণ সম্পাদকঃ তানভীর আহমেদ প্রমুখ।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাফলার ফান্ডরাইজিং ডিনার আগামী রবিবার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১০ ১৩:১৩:৩১

প্রতিবারের ন্যায় বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলেস-বাফলা’র বাংলাদেশ ডে প্যারেড এন্ড ফ্যাস্টিভাল-২০১৮ উপলক্ষে বার্ষিক ফান্ডরাইজিং ডিনার আগামী ১৪ জানুয়ারি রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাফলার সকল স্তরের নেতৃবৃ্ন্দ ও সদস্যসহ সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাফলা কর্তৃপক্ষ।
 
ফান্ডরাইজিং ডিনারের সূচি নিম্নরূপ :
তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮। রবিবার
সময় : বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা
ভেন্যু : গার্ডেন সুইট হোটেলের বলরুম, ঠিকানা- 681 South Western Avenue, Los Angeles, CA 90006
প্রবেশমূল্য : ৩০ ডলার (Per Person)।

বিস্তারিত খবর

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রোধে ধর্ম চর্চা বাড়াতে হবে : লস এঞ্জেলেসে বড়দিন উৎসবে কন্সাল জেনারেল

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৯ ০০:৩১:১৩

যথাযথ মরযাদা ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যে লস এঞ্জেলেসে খৃষ্টান ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব বড়দিন পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে  আনন্দময় এক আয়োজন করে বাংলাদেশী খৃষ্টান ফেলোশীপ অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিসিএফসি)। ২৫শে ডিসেম্বর বিকেলে ট্রিনিটি ইপিস্কোপ্যাল চার্চে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতি বছর বড়দিন উৎসব উপলক্ষে খ্রিষ্টানদের ঘরে ঘরে বয় আনন্দধারা। বহুবর্ণ আলোকসজ্জায় সাজানো হয় চার্চ ও ঘরসহ নানা স্থাপনা। সাজানো হয় গোশালা ও ক্রিসমাস ট্রি। পাপীকে নয়, ঘৃণা করো পাপকে- এই আহ্বান নিয়ে যিশুখ্রিষ্ট এদিন আসেন এই পৃথিবীতে। তাই খ্রিষ্টান সমপ্রদায় নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালন করেন এই উৎসব। ধর্মীয় গান, কীর্তন, অতিথি আপ্যায়ন আর পরমানন্দে দিনটি উদযাপিত হয়।

খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ঈশ্বরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একজন নারীর প্রয়োজন ছিল। সেই নারীই কুমারী মেরি-মুসলমানদের কাছে যিনি পরিচিত বিবি মরিয়ম হিসেবে। ধর্ম বিশ্বাস বলে, ‘ঈশ্বরের অনুগ্রহে ও অলৌকিক ক্ষমতায়’ মেরি কুমারী হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবতী হন। ঈশ্বরের দূতের কথামতো শিশুটির নাম রাখা হয় যিশাস, যা বাংলায় ‘যিশু’। আজ থেকে দুই হাজার ১৩ বছর আগে জেরুজালেমের বেথলেহেম শহরের এক গোয়ালঘরে জন্ম হয়েছিল যিশুর। শিশুটি কিন্তু মোটেও সাধারণ শিশু ছিল না। ঈশ্বর যাঁকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। যিশু নামের সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনালেন। তিনি বললেন, ‘ঘৃণা নয়, ভালোবাসো। ভালোবাসো সবাইকে, ভালোবাসো তোমার প্রতিবেশীকে, এমনকি তোমার শত্রুকেও। মানুষকে ক্ষমা করো, তাহলে তুমিও ক্ষমা পাবে। কেউ তোমার এক গালে চড় মারলে তার দিকে অপর গালটিও পেতে দাও।’ তিনি বললেন, ‘পাপীকে নয়, ঘৃণা করো পাপকে। গরিব-দুঃখীদের সাধ্যমতো সাহায্য করো, ঈশ্বরকে ভয় করো।’ যিশুর কথা শুনে অনেকে তাদের মন ফেরাল। রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় এবং সমাজনেতারা এসব সহ্য করতে পারলেন না। যিশুখ্রিষ্টকে তারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করলেন। তারা যিশুকে বন্দী করে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করলেন। যিশুর জন্মের অনেক বছর পর থেকে খ্রিষ্টানরা এ দিনটিকে আনন্দ ও মুক্তির দিন হিসেবে পালন করতে শুরু করেন। ৪৪০ সালে পোপ এ দিবসকে স্বীকৃতি দেন। তবে উৎসবটি জনপ্রিয়তা পায় মধ্যযুগে। সে সময় এর নাম হয় ‘ক্রিসমাস ডে’।

লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এই উৎসবকে ঘিরে এক মিলনমেলা বসে খৃষ্ট ধর্মবালম্বীদের। এতে অংশ নেন অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও। অনুষ্ঠানের শুরুতে খৃষ্টান প্রতিনিধিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেন সবাই। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পিঠা পর্ব।

তারপর লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আয়োজকরা। তিনি এই উতসব উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে কন্সাল জেনারেল সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান। তিন বলেন, যিশু খ্রিস্টের জন্ম হয়েছিল শান্তির বাণী নিয়ে। তিনি সাবিইকে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়েছিলেন। আমরা যদি সম্মীলিতভাবে এই শিক্ষাকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে পারি তাহলে পৃথিবীতে শান্তির হাওয়া নেমে আসবে।

বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রিয়তোষ সাহা বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক কঠিন পরিস্থিতর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। দেশে ধর্মের নামে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এত্থেকে উত্তরণের জন্য ধর্ম চর্চা বাড়াতে হবে।  ধর্ম সবসময়ই মানুষকে সহনশীল করে তুলে।

প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আমি মনে করি, আপনারা বহির্বিশ্বে দেশের দূত হিসেব কাজ করছেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও দেশের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। কন্সাল জেনারেল এসময় দেশে বেশি বেশি বিনিয়োগ করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ একটি উদার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার দেশে সব দল-মত ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করেছে। এভাবে সম্মিলীতভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এসময় তিনি প্রবাসীদের সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কন্সাল জেনারেলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর পবিত্র উপাসনা পরিচালনা করেন ট্রিনিটি এপিস চার্চের সহকারী পুরহিত রেভাঃ বিরবল হালদার।উপাসনায় সহযোগিতায় ছিলেন মনি বোস। প্রার্থনা করেন মিসেস রোজী সরকার। এরপরে পবিত্র প্রভুর ভোজ অনুষ্ঠিত হয় এবং সকল খ্রিষ্টান সম্প্রদায় সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রার্থনার সময় পুরহিত রেভাঃ বিরবল হালদার বলেন, বড়দিনকে ঘিরে দীর্ঘ ১ মাস ধরে ঘরে ঘরে গিয়ে ধর্মের বাণী প্রচার করা হয়েছে। আজ  চূড়ান্ত উৎসব পালিত হচ্ছে। এসময় তিনি উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। এই উৎসবের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষকেও তিনি ধন্যবাদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন (বিসিএফসি) এর সহ-সভানেত্রী সোফিয়া কেকা মণ্ডল।

মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের পরিবেশনা, মহিলাদের দলীয় নৃত্য প্রভৃতি আয়োজন দিয়ে সাজানো ছিল অনুষ্ঠানটি।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে ছিল শিশুদের পরিবেশণায় অংশগ্রহণ করেন অক্ষর বোস, মেলিসা অন্তরা, নীল হালদার, বেথেল রায় ও শ্রেষ্ঠ কর্মকার।

এরপরে অনুষ্ঠিত হয় বড়দের পর্ব। প্রথমে মহিলাদের অংশগ্রহণে দলীয় নৃত্য পরিবেশন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফ্লোরেন্স নীতু হালদার। দ্বৈত নৃত্য পরিবেশন করেন হৃদি ও গল্প। কবিতা আবৃত্তি করেন জনি হালদার। একক নৃত্য পরিবেশন করেন রিমি মধু। দলীয় লোক সঙ্গীত পরিবেসন করেন মিন্টু  বৈদ্য ও তার দল। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্যামল পল। সমাপনিতে একটি দেশের গান পরিবেশন করেন জেমস হালদার সাবু।

সবশেষে উপস্থিত সবার জন্য আয়োজন ছিল নৈশ ভোজের। নৈশভোজে অতিথিসহ উপস্থিত সবাই অংশ নেন। এসময় শিশুদের বিনোদনের জন্য সান্টা উপস্থিত হন তার উপহার সামগ্রী নিয়ে এবং সব শিশুদের উপহার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিসিএফসি সাধারণ সম্পাদক মিঃ হিমাংশু ব্যানেট। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জুলি হালদার। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জন হালদার।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কন্সাল জেনারেলের অনুপস্থিতিতে লস এঞ্জেলেসে বিজয় বহর

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২১ ১৫:১৬:২৯

বাংলাদেশের ৪৬তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ৭ম বারের মতো বিশাল বিজয় বহর ও মোটর শোভাযাত্রা করল লস এঞ্জেলেসের বাংলাদেশি প্রবাসীরা। জাকজমকপূর্ণ শতাধিক গাড়ির এই বহরে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও তরুণ-বৃদ্ধ, ‍মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। লাল-সবুজের পতাকা হাতে লাল-সবুজ রঙের পাঞ্জাবী-শাড়ি, সাথে নানা ধরণের প্ল্যাকার্ডে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেন প্রবাসীরা। গত রবিবার লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের শোভাযাত্রাটি অাগের সব বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অন্য সব বছরের তুলনায় এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল। 
 
শোভাযাত্রায় অংশ নেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান ও সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্টসহ বিশিষ্টজনেরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকেন নারী-পুরুষ, তরুণ-শিশুসহ সব বয়সের প্রবাসীরা। সবার হাতে ছিল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা এবং রং বেরঙের ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড। বেশির ভাগের পরণে ছিল লাল-সবুজ রঙের পোষাক।

উপস্থিতি বাড়ার সাথে সাথে সবাই সারিবদ্ধভাবে গাড়িগুলো রাস্তায় দাঁড় করাতে থাকেন। দুপুর ১২টায় উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের এই পর্ব পরিচালানায় ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুজিব সিদ্দিকী। এসময় তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। বিজয় বহরে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস ওম্যান জুডি চু, কংগ্র্যাসম্যান জিমি গোমেজ, এলএ কাউন্সিল মেম্বার মিচ ও ফারেল, এলএ কাউন্টির চিফ অব ফায়ার, কোরিয়ান কমিউনিটির নেতা কমিশনার চেংলি ও ইলাইনিলি, শাহজাহান চৌধুরী, লিন্ডা ল্যকুড।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি কঠিন সময় পার করে মহান বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আজ এই বিজয়ের উদযাপন নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দের। আমরাও বাংলাদেশিদের এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রশংসা করে তারা বলেন,  লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি আসলে ‘লিটল’ নয়, এটি দিনদিন ‘বিগার’ হচ্ছে। দিনদিন এর ব্যপ্তি বাড়ছে। এখানকার বাংলাদেশ কমিউনিটি একটি শক্তিশালী কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে।

শোভাযাত্রা উপলক্ষে লস এঞ্জেলেস ট্রাফিক বিভাগ ঐ এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দেয়, শুধু শোভাযাত্রার গাড়ি চলালচল করে। এরপর দুপুর ২টায় ফিতা কেটে ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন এলএ সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও প্যারেড মার্শাল হার্ব জে উয়েসন। এরপর  প্যারেড কমান্ডার ছিলেন মেজর সাইফ কুতুবী তার অনুমতি নিয়ে প্যারেড শুরু করেন। গাড়ির বহরটি পুরো লিটল বাংলাদেশ এলাকা ঘুরে আবার শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারে এসে শেষ হয়। প্যারেড চলাকালে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে প্যারেডকে স্বাগত জানান।

মোটর শোভাযাত্রার বিশেষ আকর্ষণ ছিল আমেরিকার দামি ব্র্যান্ডের ১০/১২টি মোটরসাইকেল। যার নেতৃত্বে ছিলেন বিডি মোটরিস্ট মেহেদী হাসান। যেগুলো প্যারেডের সামনে অবস্থান করে। বহরে আরও আকর্ষণ ছিল ব্রান্ড নিউ ১০টা জিপ। যা স্পন্সর করে এলএ ভিলেজ।

ইংল্যান্ড ইম্পেয়ার এলাকা থেকে বিশাল একটি বহর নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ‘চন্দ্রবিন্দ’ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

শোভাযাত্রায় কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেনি। তার বদলে কমার্শিয়াল কন্সাল আল মামুনকে পাঠান।কন্সাল জেনারেল উপস্থিত না হওয়ায় প্রবাসীরা ক্ষোব্ধ হন। এব্যাপারে এলএ বাংলাটাইমস থেকে কন্সাল জেনারেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন প্রতিনিধি লস এঞ্জেলেসে থাকায় তাদের প্রটোকলে ব্যস্ত ছিলাম, তাই এই বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারিনি।’ এছাড়াও আমন্ত্রিত হয়ে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এর আসার কথা থাকলেও তিনি আসেন নি। তবে তিনি বিজয় বহরের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান।

এবারের শোভাযাত্রায় আরও অংশ নেন কোরিয়ান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। তারাও বাংলাদেশের  এমন আয়োজনে অভিভূত হন। তারা বলেন, আমরা সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব।

এরপর আয়োজকদের পক্ষ থেকে লাঞ্চ পরিবেশন করা হয়।

বিকেল ৬টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজয় বহর আয়োজক কমিটির বিগত দিনের বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর দায়িত্বে ছিলেন মিকায়েল খান রাসেল। এরপর জাতীয় কণ্ঠশিল্পী মিতালী কাজলসহ স্থানীয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করে। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যান্ড ‘স্বরাজ’-এর পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীতের পাশাপাশি বাংলাদেশি আমেরিকান নতুন প্রজন্মের শিশুরা গান, কবিতা ও অভিনয় পরিবশেন করে। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থান করেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিঠুন চৌধুরী এবং মডেল কন্যা সাদিয়া হক মিমি। অনুষ্ঠান চলাকালে শ্যাটো সেন্টার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
 
বিজয় বহর উপলক্ষে বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বিজয় দিবসে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২১ ০০:৩০:১৭

বিজয় দিবস উপলক্ষে গত সোমবার ১৮ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্নিয়া শাখা স্থানীয় বাংলাদেশ একাডেমী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি জনাব শামসুজ্জোহা বাবলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জনাব এম ওয়াহিদ রহমান এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বি এন পি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা জেলা বি এন পী'র সভাপতি সাবেক সাংসদ ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাহউদ্দিন বাবু।
বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন বিএনপির উপোদেস্টা ,কমিউনিটি নেতা মুক্তিযুদ্বা ড: জয়নাল আবেদিন এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আবুল ইব্রাহিম। বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সাবেক সাধারন সন্পাদক সিনিয়ন সহ-সভাপতি নেয়াজ মোহাইমেন ,সহ- সভাপতি সাইফুল আনসারি চপল, নুরুল ইসলাম,আফজাল হোসেন শিকদার,মুক্তিযাদ্ধা আবুল খায়র,আহসান হাফিজ রুমি,জুনেল আহমেদ,মার্শাল হক,শওকত হোসেন আনজিন,মো:দেলোয়ার চৌধুরী , আবুল হাসনাত মন্টু চৌধুরী, রফিকুজ্জামান জুয়েল, নয়ন বড়ুয়া প্রমখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাহউদ্দিন বাবু  বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন ,এই ভাবে গুম-খুন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু সহ বিভিন্ন প্রজেক্টে সরকার বারংবার বাজেট পরিবর্তন করে খরচ প্রাথমিক থেকে দ্বিগুন, দ্বিগুন থেকে চারগুন বাড়িয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকিতে দুর্নীতি করছে। প্রশাসনে দলীয় করণের যে সুফল এই স্বৈরাচারী সরকার ভোগ করছে সময়মত সেটাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। একটি মাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচনেই এই স্বৈরাচারের পতন ঘটবে এবং সে দিন আর দূরে নেই। সরকারের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা সর্বোচ্চ চল্লিশটি আসন পাবেনা। তাই সরকার চায় না বি এন পি নির্বাচনে আসুক। কিন্তু বি এন পি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। সরকার যথা সময়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। আর তার মধ্য দিয়ে দেশ এই গণতন্ত্রহীনতা থেকে মুক্তি পাবে। সভায় বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ জয়নুল আবেদীন মুক্তিযুদ্ধ এর স্মৃতি চারণ করে বলেন সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে আধুনিক টুলস ব্যবহার করে দলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারে। সংবাদ মাধ্যমের উপর সরকারের বাকশালী- স্বৈরাচারী আচরণ সাধারণ জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। মানুষ গুম-খুন-দুর্নীতি-ব্যাংক ডাকাতির বিরুদ্ধে রায় দেবার জন্য অপেক্ষায় ,আর  বিএনপিকে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে নির্বাচনে যায়া ছাড়া বিকল্প নাই।আরো উপস্হিত ছিলেন হাসানুজ্জামান মিজান, মিশর নুন, অপু সাজ্জাত ইলিয়াস শিকদার, আমজাদ হোসেন, মোঃ রফিক, মেহেদী হাসান, আশরাফুল আলম হেলাল, এলেন ইলিয়াস খান, বাদল খান, মোহাম্মদ সেলিম রেজা পিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক: ফারুক হাওলাদার, রনি জামান,আলমগীর হোসেন, আসাদুজ্জামান ,খন্দকার জাভেদ, হোসেন লিটু, শেখ সেলিম, হেলাল আহমেদ ভূইয়াঁ, মোহাম্মদ শাহানুর, মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ, শাহাদাত হোসেন শাহিন,দপ্তর সম্পাদক: আবু তাহের সাজু, মোশাররফ হোসেন ইমন, মোঃ আব্দুল মান্নান, আক্তার মাতুব্বর, প্মোঃশফিকুল ইসলাম পলাশ, আবুল কায়সার, এ কে এম আসিফ, ইফতেখার হোসেন ফাহিম, কোহিনুর রহমান,  স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক: মেহেদী হাসান, সাঈদ খান, হাফেজ মোহাম্মদ বেলাল, রহমান,শাহনাজ বুলবুল প্রমুখ।

এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের বিজয় দিবস উদ্‌যাপন

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৯ ১৩:৫৩:৩৬

১৫ই ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার সন্ধ্যায় লস-এন্জেলেসের বাংলাদেশ একাডেমী মিলনায়তনে ৪৬তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ আয়োজন করে বিজয় দিবসের তাৎপর্যমূলক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যার।

প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা, সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা ফাতেহা এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। তিরিশ লক্ষ শহীদ,বঙ্গবন্ধুর পরিবার, চার জাতীয় নেতা এবং সদ্য পরোলোকগত চট্টগ্রামের বর্ষিয়ান নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আত্নার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের পর পরই শুরু হয় বিজয় দিবসে তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি জনাব আনিসুর রহমান '৭১র ১৬ই ডিসেম্বরের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারন করেন।ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভানেত্রী হাসিনা বানুর ভয়াল স্মৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয় কি ভয়ার্ত ছিল '৭১র সেইসব দিনগুলি। ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাহানা পারভীন উনার পরিবারের উপর নির্মম অত্যাচারের কথা অশ্রু সজল নয়নে বর্ননা করেন। সিটি যুব লীগের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বিজয় দিবসের তাৎপর্যমূলক বক্তব্য রাখেন।


ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ ইকরামুল হক বাবু সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রামের বর্ষিয়ান নেতা এবং সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন যে,উনি শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, ছিলেন রাজনীতির বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার ইমতিয়াজ আহমেদ বিজয় দিবসের তাৎপর্যের উপর আলোকপাত করে বলেন 'আজ আমরা শূধু বিজয়ের কথা বলব'। ষ্টেট আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক সুবর্ন নন্দী তাপস এই বিজয়ের দিনে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাক থাকার আহ্বান জানান এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এক হয়ে কাজ করবার উপর গূরুত্ব আরোপ করেন। ডা:রবি আলম তার বক্তব্যে মেহনতী মানুষের জয়ের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। উনি প্রধান বক্তা হিসেবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেন আবার ক্ষমতায় যায় তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধান অতিথি জনাব মোস্তাইন দারা বিল্লা উনার নাতিদীর্ঘ ভাষনে সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়াও মূল্যবান বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব সোহেল রহমান বাদল, প্রাক্তন ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব ফারুক খান। জনাব তোফাজ্জল কাজলের প্রানবন্ত সন্চালনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সভাপতি ষ্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জনাব শাহীন মিজানের ধন্যবাদ  জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের সমাপ্তি হয়।
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের এই পৌষের মনোরম সন্ধ্যায় আরো যারা উপস্হিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলংকৃত করেছেন,তারা হলেন লস-এন্জেলেস সিটি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব মহাতাব টিপু, ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদিকা বৈশাখী, ভ্যালী যুবলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ইমরান, মহিলা আওয়ামী লীগের মনিকা আহমেদ এবং শহরের গন্যমান্য সুধীজন।

দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যায় দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের স্হানীয় শিল্পী তাবাসুম আলম। এরপর যারা সংগীতে হল পূর্ন মিলনায়তন মাতিয়ে রাখেন তারা হলেন লস-এন্জেলেসের খ্যাতনামা সংগীত শিল্পী জনাব আবুল কালাম আজাদ, অন্জলী রায় চৌধুরী, রনি চৌধুরী এবং অন্যান্য স্হানীয় শিল্পীবৃন্দ। এই মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যার পর্ব পরিচালনা করেন শিউলী মিজান, উনার সন্চলনা সবাইকে মুগ্ধ করে। সন্ধ্যা থেকে রাত অব্দী এই উপভোগ্য অনুষ্ঠানটি নৈশ ভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০৮ ২৩:১১:৩০

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, নন্দিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী, মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আনিসুল হকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

গত ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগ লিটল বাংলাদেশের আলাদিন রেষ্টুরেন্টে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদ হক বাবুর পরিচালনায় এবং ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক সুবর্ন নন্দী তাপসের সভাপতিত্বে শোক সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সোহেল রহমান বাদল, প্রধান বক্ত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ডাঃ রবি আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগের উপদেষ্টা তৌহিদুজ্জামান খান, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ, সহ-সভাপতি ফারুক খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক টি জাহান কাজল, সিটি আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহাতাবউদ্দিন টিপু, মহিলা আওয়ামীলীগের মনিকা আহমেদ সহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

বিস্তারিত খবর

San Fernando Valley তে ভয়াবহ দাবানল, উদ্বাস্তু ১ লক্ষের বেশি বাসিন্দা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০৭ ১৪:০৭:৪৬

গত মঙ্গলবার রাত ৪ টার দিকে Sylmar’এর পাদদেশ থেকে এক প্রলয়ঙ্করী দাবানল শুরু হয়। দমকা বাতাসে প্রচণ্ড গতিতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে এই অপ্রতিরোধ্য দাবানল। বাতাসের গতি বেশি থাকায় অগ্নিনির্বাপক কর্মীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারে নি। গত দুই দিনের আগ্রাসী এই দাবানলে San Fernando Valley’ র ১ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা উদ্বাস্তু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।    

প্রলয়ঙ্করী এই দাবানলে ১২ হাজার ৬০৫ একর এলাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সেইসাথে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কমপক্ষে ৩০ টি বাড়ি। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা প্রবল বাতাসের কারণে বাঁধার সম্মুখীন হয়। কিছু কিছু এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে বলে জানান, আবহাওয়া অফিস।

বেঁচে থাকতে wildland এলাকার বাসিন্দাদের গতকাল একচোখ খোলা রেখে ঘুমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, লস এঞ্জেলেস কাউন্টির অগ্নিনির্বাপক প্রধান Darly Osby. সেইসাথে গতকাল রাতে বাতাসের গতিবেগ বাড়বে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছিলেন লস এঞ্জেলেস ফায়ার বিভাগের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

ফায়ার ব্রিগেডের পাইলটরা হেলিকপ্টারের সাহায্যে অনবরত অগ্নিনির্বাপণ করার চেষ্টা করেন। বাসিন্দারা তাদের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করার চেষ্টা করছেন বলে জানান গণমাধ্যমগুলো। তবে এখনো অব্দি প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায় নি। গত দুইদিন ভয়াবহ দাবানলে পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দাদের চোখে ঘুম ছিল না। আগ্রাসী এই তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

গাঁজা চাষ ও বিক্রির বৈধতা দিল লস এঞ্জেলেস সিটি

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০৭ ১৪:০১:২২

গতকাল বুধবার গাঁজা চাষ ও বিক্রির বৈধতা বিষয়ে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এতে পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে গাঁজা বৈধ করার পক্ষে ভোট দিল লস এঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিল। ফলে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে আমোদকর গাঁজা সেবনের বৈধতা পেতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী লস এঞ্জেলেস সিটি। 
 
তবে সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট Herb Wesson’র অফিস থেকে জানা যায়, যত দ্রুত সম্ভব মেয়র Eric Garcetti স্বাক্ষরের পরই নিয়মটি কার্যকর করা হচ্ছে। এবং এই বিষয়ে তারা আশাবাদী।

গাঁজা বৈধতার সিদ্ধান্তে আমেরিকার অন্যত্র লস এঞ্জেলেস সিটি মডেল হয়ে থাকবে, ভবিষ্যৎদ্বানী করে সিটি প্রেসিডেন্ট Wesso বলেন, “অন্যান্য সিটিগুলো এই বৈধতার বিষয়ে লস এঞ্জেলেসের দিকে তাকিয়ে আছে”।

লস এঞ্জেলেস রেগুলেশন অনুযায়ী আবাসিক এরিয়ার আশপাশে পট ব্যবসা সীমাবদ্ধ থাকবে। এবং স্কুল, লাইব্রেরি ও পার্ক বাফার জোন হিসেবে সেট আপ দেওয়া হবে।


এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, লস এঞ্জেলেসে স্বীকৃতি উদযাপন

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০১ ১৪:১৫:২৯

৭ই মার্চ ১৯৭১ বাঙালির জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। এ দিন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালির ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার সমাবেশে তাঁর জাতির উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ রাখেন- ইতিহাসখ্যাত ৭ই মার্চের ভাষণ। তৎকালীন পাকিস্তানের জনগণই শুধু নয়, সারা বিশ্বের মানুষ ঔৎসুক্য নিয়ে তাকিয়ে ছিল- বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে কী বলেন। ঢাকায় তখন বিদেশি সব গুরুত্বপূর্ণ পত্রপত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য সেটি ছিল এক অন্তিম মুহূর্ত। অপরদিকে, স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতির জন্য ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের শৃঙ্খল ছিন্ন করে জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর চূড়ান্ত সংগ্রামের আহ্বান।

৭ই মার্চ নির্ধারিত সময়ে বঙ্গবন্ধু বিক্ষোভে উত্তাল রেসকোর্সের লাখো জনতার সভামঞ্চে এসে উপস্থিত হন। হৃদয়ে তাঁর বাঙালির হাজার বছরের মুক্তির আন্দোলন, সংগ্রাম ও স্বপ্ন। মাথার ওপর আকাশে ঘুরছিল পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান। এমনি এক সন্ধিক্ষণে তিনি তাঁর ১৮ মিনিটের সংক্ষিপ্ত অথচ জগৎবিখ্যাত ভাষণ রাখলেন। অসাধারণ এর বক্তব্য। যেমনি সারগর্ভ, ওজস্বী ও যুক্তিযুক্ত, তেমনি তির্যক, তীক্ষ্ণ ও দিক-নির্দেশনাপূর্ণ। অপূর্ব শব্দশৈলী, বাক্যবিন্যাস ও বাচনভঙ্গি। একান্তই আপন, নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাঙালিদের অবস্থা ব্যাখা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে বাঙালিদের দ্বন্দ্বের স্বরূপ তুলে ধরা, শান্তিপূর্ণভাবে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা, অসহযোগ আন্দোলনের পটভ‚মি ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা, সারা বাংলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ, প্রতিরোধ সংগ্রাম শেষাবধি মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়ার ইঙ্গিত, শত্রুর মোকাবেলায় গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন, যে কোনো উসকানির মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ, ইত্যাদি কিছুর পর ঘোষণা করেন- ‘… ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে… এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

দীর্ঘ ৪৬ বছর পরে হলেও জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো প্যারিসে অনুষ্ঠিত এর দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা সংস্থাটির ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। জাতিসংঘের মতো বিশ্বসংস্থার এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।এর উদযাপন চলছে দেশে বিদেশে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৫ নভেম্বর শনিবার লস এঞ্জেলেসে বর্ণাঢ্য শুভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিটল বাংলাদেশ সাইন এলাকায় এই শোভাযাত্রা শেষে কনসুলেট জেনারেল অফিসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কনসুলেট জেনারেলের উদ্যোগে আয়োজিত এই  শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় অংশ নেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেইট আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও আওয়ামীলীগের সমর্থক নয় কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন- এমন অনেককে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

আলোচনা সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

ডেপুটি কন্সাল জেনারেল আল-মামুন-এর পরিচালানায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় উপস্হিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান, সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ ও জাকির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল কাজল, যুগ্ম সম্পাদক দিদার আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিন, মিয়া আব্দুর রব, ফরহাদ হোসাইন, পশ্চিম অঞ্চল যুবলীগ সভাপতি কামরুল হাসান, সোহেল আহমেদ, আব্দুল আজিজ,  আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মোঃ শাহ্‌ আলম খান চোধুরী, মিজান আজাদ, তাওয়াজ্জাল জাহান কাজল, ড. রুবি হোসাইন, ড. মোয়াজ্জেম হোসাইন, মহিলা আওয়ামী লীগের নীনা শারমিন মুক্তা, মনিকা, ক্যালিফোর্নিয়া টেষ্ট আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক সূবর্ন  নন্দী তাপস, স্টেট যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক খন্দকার আহমেদ ইমু,  সিটি যুব লীগের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, ড্যানি তৈয়ব, সোহেল রহমান বাদল ও ঢাকা থেকে আগত মিসেস সাজেদা। তবে শুভাযাত্রার তুলনায় কনসুলেট জেনারেল অফিসে আলোচনা সভায় উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

উপস্থিত দলীয় নেতৃবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা উপস্থিত সকলকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সবশেষে কন্সাল জেনারেলের পক্ষ থেকে সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উদযাপনে লস এঞ্জেলেসে শোভাযাত্রা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২৮ ০৫:৫৮:৫২

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার-এ অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামান্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভের অসামান্য অর্জন উপলক্ষে লস এঞ্জেলেসে কনসুলেট জেনারেলের উদ্যোগে এক আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৫ নভেম্বর শনিবার বিকেলে লিটল বাংলাদেশ এলাকায় এই শোবাযাত্রা শেষে কনসুলেট জেনারেল অফিসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহাসহ কনসুলেট অফিসের কর্মকর্তা ও ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যার ভাষণে লক্ষ কোটি বাঙালী দেখেছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, যে ভাষনের শেষে ছিল স্বাধীনতার ষ্পষ্ট ঘোষণা, যিনি এভাবেই শেষ করেছিলেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ভাষন (UNESCO) ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে তাদের 'World's Documentary Heritage'এ। জাতির জনকের এই ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমরা সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন  ডেপুটি কন্সু্ল জেনারেল আল-মামুন।

শোভাযাত্রায় অন্যানে্যর মধ্যে  উপস্হিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল কাজল, যুগ্ম সম্পাদক দিদার আহমেদ, মহিলা আওয়ামী লীগের মনিকা, ক্যালিফোর্নিয়া টেষ্ট আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক সূবর্ন  নন্দী তাপস, সিটি আওয়ামী যুব লীগের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনসহ সিটি যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ আওয়ামী পরিবারের অসংখ্য নেতা ও কর্মীবৃন্দ।

'জয় বাংলা' য় মুখরিত ছিল এক ঘন্টাব্যাপী পথ শোভাযাত্রা। স্বল্প সময়ের এই আয়োজনে বিশিষ্ট জনেরা বক্তব্য রাখেন। পথ শোভা যাত্রার বিশেষ আকর্ষণ ছিল বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক (১৯৭১ সনের) ভাষণ, যা আজ বিশ্ব নন্দিত, যা শোভা যাত্রাটির গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি করেছিল। যার উদ্যোক্তা ছিলেন স্টেট আওয়ামী যুগলীগের আহ্বায়ক সুবর্ন  নন্দী তাপস। সর্বাত্মক সহযোগিতায় ছিলেন ষ্টেট যুবলীগের সংগ্রামী যুগ্ম-আহ্বায়ক খন্দকার আহমেদ ইমু,  সিটি আওয়ামী যুব লীগের সংগ্রামী আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনসহ যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী।


এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত