স্যান্ডি দাবানল লস এঞ্জেলেসের দিকে, পুড়েছে ১,৩০০ একরের বেশি
ওপেনএআই মামলায় আদালতে হারলেন ইলন মাস্ক
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে করা বহুল আলোচিত মামলায় বড় ধাক্কা খেয়েছেন ইলন মাস্ক। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি সর্বসম্মতিক্রমে রায় দিয়েছে যে, তিনি মামলা করতে অনেক বেশি দেরি করেছেন। ফলে তার আনা সব অভিযোগ আইনগতভাবে অকার্যকর হয়ে গেছে।
মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, স্যাম অল্টম্যান ওপেনএআই-এর মূল অলাভজনক লক্ষ্য থেকে সরে এসে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক কাঠামোর দিকে নিয়ে গেছেন। তার দাবি ছিল, মানবকল্যাণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ওপেনএআই-এর শুরুর দিকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।
তিন সপ্তাহ ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ পর্যালোচনার পর জুরি মাত্র দুই ঘণ্টায় সিদ্ধান্তে পৌঁছে। মামলায় মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেল্লাও সাক্ষ্য দেন। মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, মাইক্রোসফট ওপেনএআইকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহায়তা করেছে। তবে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ খারিজ হয়ে যাওয়ায় মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধেও আনা অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়।
রায় ঘোষণার পর মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত কয়েক বছর গোপন রাখতে পারলে দাতব্য প্রতিষ্ঠান লুট করার “মুক্ত লাইসেন্স” তৈরি করেছে। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন। আরেক পোস্টে তিনি জানান, জুরি মামলার মূল বিষয়বস্তু নয়, বরং একটি “ক্যালেন্ডার-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয়ের” ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
আদালত জানায়, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা করতে হয়। সেই সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালত মাস্কের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিস্তারিত বিচার করার প্রয়োজন দেখেনি।
আদালতে মাস্ক বলেন, “কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা গ্রহণযোগ্য নয়। যদি এটি বৈধ হয়ে যায়, তাহলে দাতব্য অনুদানের পুরো ভিত্তিই ধ্বংস হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে স্যাম অল্টম্যান আদালতে বলেন, ওপেনএআইকে লাভজনক কাঠামোতে নেওয়ার ধারণাকে মাস্ক নিজেই সমর্থন করেছিলেন। এমনকি তিনি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণও চেয়েছিলেন। অল্টম্যানের ভাষায়, মাস্ক এক পর্যায়ে বলেছিলেন যে তার মৃত্যুর পর হয়তো নিয়ন্ত্রণ তার সন্তানদের কাছে যেতে পারে।
মাস্ক ও অল্টম্যান ২০১৫ সালে যৌথভাবে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে ২০১৮ সালে মাস্ক সরে দাঁড়ান। পরে চ্যাটজিপিটির সাফল্যের মাধ্যমে অল্টম্যান প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং দুজনের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে ওঠে।
ওপেনএআই এই রায়কে “বিরাট বিজয়” বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করে মানবজাতির কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জুরির এমন তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত আপিলে বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও মাস্কের আইনজীবী বলেছেন, “এই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন