লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ
নস্যাৎ হওয়া সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্য ছিল লস এঞ্জেলেসের ইহুদি প্রতিষ্ঠান
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি নস্যাৎ করা একটি বড় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসের একটি ইহুদি প্রতিষ্ঠানও ছিল। এই ঘটনায় ইরাকের নাগরিক ও কাতাইব হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
নিউইয়র্কের দক্ষিণ জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটন বলেন, আল-সাদি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করে আসছিলেন। তিনি শুধু বিদেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কর্মকর্তাদের মতে, নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস এবং অ্যারিজোনার স্কটসডেলের বিভিন্ন ইহুদি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্থাপনা তার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল।
তদন্তে জানা গেছে, গত তিন মাসে আল-সাদি ইউরোপজুড়ে অন্তত ১৮টি সন্ত্রাসী হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এসব হামলার মধ্যে বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ এবং মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনা ছিল। মার্চ মাসে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে মার্কিন ব্যাংক ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলনের একটি শাখায় বোমা হামলা চালানো হয়। এপ্রিল মাসে লন্ডনে দুই ইহুদি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়, যাদের একজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আল-সাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থকদের হত্যা করার আহ্বান জানাতেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আরবি ভাষায় একটি পোস্টে ইরাকের শিয়াদের উদ্দেশে বলেন, “আমেরিকা ও ইসরায়েলের সমর্থনকারীদের হত্যা করো, কাউকে বাঁচিয়ে রেখো না।”
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি ছিল ম্যানহাটনের একটি সিনাগগ বা ইহুদি উপাসনালয়। গত ৩ এপ্রিল আল-সাদি একজন গোপন আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং নিউইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনাগগের ছবি ও মানচিত্র পাঠান। তবে লস এঞ্জেলেস ও অ্যারিজোনায় কোন নির্দিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এই মামলায় আল-সাদির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটি এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্স তদন্ত করছে। এতে এফবিআই, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগসহ ৫০টিরও বেশি ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থা অংশ নিচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন