লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ
রিপাবলিকান সিনেটরকে হারালেন ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থী জুলিয়া লেটলো লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডিকে প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত করেছেন। ২০২১ সালে ক্যাপিটল হামলার পর ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে তাকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকানদের মধ্যে বিল ক্যাসিডি ছিলেন অন্যতম। এবার সেই সিদ্ধান্তই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল।
শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। ফলে সর্বাধিক ভোট পাওয়া জুলিয়া লেটলো এবং আরেক ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ প্রার্থী জন ফ্লেমিং আগামী জুনের শেষ দিকে রান-অফ নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী পরবর্তীতে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
৬৮ বছর বয়সী বিল ক্যাসিডি দুই মেয়াদে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার হলে তিনি তাকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দেন। সে সময় সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন এখনও সিনেটে আছেন।
৪৫ বছর বয়সী জুলিয়া লেটলো লুইজিয়ানা থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম রিপাবলিকান নারী। ২০২০ সালে তার স্বামী কোভিড-১৯–জনিত জটিলতায় মৃত্যুবরণ করার পর ২০২১ সালের বিশেষ নির্বাচনে তিনি কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বিল ক্যাসিডিকে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি অবিশ্বস্ত বলে অভিযোগ করেন এবং ট্রাম্পকে দোষী বলার সিদ্ধান্তকে “বিশ্বাসঘাতকতা” হিসেবে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে জন ফ্লেমিংও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে কংগ্রেস সদস্য ছিলেন এবং ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনেও কাজ করেছেন।
নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিল ক্যাসিডিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি তাকে “লুইজিয়ানার জন্য ক্ষতিকর” এবং “খারাপ মানুষ” বলে উল্লেখ করেন। ফলাফল প্রকাশের পর ট্রাম্প আবারও মন্তব্য করেন, “দেখে ভালো লাগছে যে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে।”
বিল ক্যাসিডি পেশায় একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। কোভিড-১৯ টিকার প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের কারণেও তিনি রক্ষণশীল মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের কাছে হেরে যান।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন