সান্তা মনিকায় ফ্রাইং প্যানের আঘাতে শিশুর মৃত্যু, মাকে গ্রেপ্তার
বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের দাবি
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ (পিওবি)। এ দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনসুলেটে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পিওবি’র চেয়ারম্যান আবদুল কাদের স্মারকলিপিটি বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক চৌধুরী মোহাম্মদ কাজলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হয়ে আসছে। এই সুযোগে তারা বিপুল অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জন করলেও নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। অনেক অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। অথচ ভারতে, এমনকি কলকাতাতেও কখনো বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভারতের কিছু ইউটিউবারও বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। তারা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কটূক্তি করতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রচারিত রাজনৈতিক আলোচনা ও তথাকথিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে এবং অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটাচ্ছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও অস্থিরতা বৃদ্ধির পেছনেও ভারতীয় অপসংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে।
আবদুল কাদের আরও বলেন, বর্তমানে ভারতে হিন্দু মৌলবাদীরা রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে এবং সে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যেভাবে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল বলেন, “যেভাবে দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়। এ ধরনের ঘটনা অতীতে ভারতে বহুবার ঘটেছে, কিন্তু বাংলাদেশে কখনো ঘটেনি।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যা ও উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ভারতে নিয়মিত ঘটলেও বাংলাদেশে এমন নজির নেই। আমরা মনে করি, ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও ইউটিউবারদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে এই অপসংস্কৃতি ও সহিংসতা বাংলাদেশে আরও বাড়বে। তাই মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান—এই অমানবিক অপকর্ম ও অপসংস্কৃতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আগেই কঠোর হাতে তা দমন করা হোক।”
চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল বলেন, অতীতে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখিয়েছে। এখন আর সেই নমনীয়তা কাম্য নয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকারকে এবার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন পিওবি’র সদস্য দীপন গাজী, সৈয়দ নাঈম, আলী আহমেদ কাশেমী, মশিউর রহমান লিটন, বুলবুল আহমেদ, রুহুল খান এবং আলোকচিত্রী নিহার সিদ্দিক।
বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন