ফোন ধরতে বাধ্য করা হচ্ছে সুবিধা প্রক্রিয়াকরণে নিয়োজিত কর্মীদের, বাড়ছে সোশ্যাল সিকিউরিটির জট
৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট—DOS) ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার কনস্যুলার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি গ্লোবাল মোবিলিটি ফ্ল্যাশ অ্যালার্ট-এ কেপিএমজি জানিয়েছে, এসব দেশকে ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।
এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে পেছনের তারিখ থেকে, অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আর্থিক স্বনির্ভরতা মূল্যায়নের পদ্ধতি নতুন করে পর্যালোচনা ও সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
তবে পরিবারভিত্তিক বা নিয়োগকর্তা-স্পন্সরকৃত ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন এখনও ইউএসসিআইএস (USCIS)-এ দাখিল করা যাবে। কিন্তু যারা কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় আছেন, তারা আপাতত ভিসা স্ট্যাম্প পাবেন না এবং নতুন করে কোনো ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টও নির্ধারণ করা হবে না।
প্রসঙ্গত, এই ৭৫ দেশের তালিকাটি আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে। তালিকাটি সাবেক প্রেসিডেনশিয়াল প্রোক্লামেশন ১০৯৯৮-এর আওতায় থাকা ৩৯ দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে আংশিকভাবে মিললেও পুরোপুরি এক নয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি কর্মী স্থানান্তর পরিকল্পনা এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রথমে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—যেমন L-1, E-2 বা O-1—নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে দেশে থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের পথ বেছে নিতে হতে পারে। এতে সময়, খরচ এবং ঝুঁকি—সবই বাড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসম্পদ (HR) বিভাগগুলোর উচিত তাদের গ্লোবাল মোবিলিটি পরিকল্পনা পুনরায় পর্যালোচনা করা এবং যেসব কর্মীর ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কনস্যুলার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা। পাশাপাশি অতিরিক্ত ফি, প্রিমিয়াম প্রসেসিং এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী বাসস্থানের খরচ হিসাবেও পরিবর্তন আনতে হবে।
এদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের সামগ্রিক স্থগিতাদেশ কার্যত একটি সামাজিক-অর্থনৈতিক筛筛 (litmus test) তৈরি করছে, যা বিদ্যমান অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পররাষ্ট্র দপ্তর কবে নাগাদ এই পর্যালোচনা শেষ হবে—সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন