লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিযান, জব্দ ৫০ লাখ ডলারের বেশি নকল বিলাসপণ্য
বেইজিং সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সিইওরা, তবু বড় কোনো অর্থনৈতিক চুক্তি হয়নি
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
দুই দেশের নেতাদের বৈঠকে সৌহার্দ্যপূর্ণ বক্তব্য, জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য দেখা গেলেও প্রত্যাশিত বড় ধরনের বাণিজ্য অগ্রগতি হয়নি।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা হয়। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “অত্যন্ত ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে।
এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীও ছিলেন। Elon Musk, Jensen Huang এবং Kelly Ortberg সফরে অংশ নেন।
ইলন মাস্কের টেসলা চীনের সাংহাই কারখানার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। অন্যদিকে এনভিডিয়া-র উন্নত চিপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে। ফলে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর খাত এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।
ট্রাম্প ফক্স নিউজ-কে জানান, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা কম হওয়ায় বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়।
বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি না হলেও উভয় দেশ গত অক্টোবরে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ স্থগিত রাখে এবং চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি শিথিল করে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই দেশ একটি “বোর্ড অব ট্রেড” গঠনে সম্মত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী Scott Bessent বলেন, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
চীন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানি বাড়াবে। বিশেষ করে সয়াবিন, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে।
শিনহুয়া নিউজ এজেন্সির মতে, শি জিনপিং মার্কিন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুও গুরুত্ব পায়। শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়। এটি সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতও হতে পারে।
প্রযুক্তি খাতে বিরোধ এখনও দুই দেশের সবচেয়ে বড় মতপার্থক্যের জায়গা। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, চীন ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে।
বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্প শি জিনপিংকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেই বৈঠকের আগে আরও আলোচনা হবে, যেখানে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি একটি বড় বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন