দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ওসি ফেয়ারে ৪০০ কর্মী নিয়োগ, ঘণ্টায় মজুরি ১৭ ডলার থেকে
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু যৌন নির্যাতনবিষয়ক অভিযানে মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকসহ ৪২ জন গ্রেপ্তার
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের California অঙ্গরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়ানোর অভিযোগে পরিচালিত এক বড় অভিযানে মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক, করপোরেট কর্মকর্তা এবং ডাক বিভাগের কর্মীসহ ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এক বছরব্যাপী এই অভিযানের নাম ছিল “অপারেশন ভলকানো”। এটি পরিচালনা করে Riverside County Child Exploitation Team। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ৫০০-এর বেশি সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, যারা ইন্টারনেটে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করছিল। গোয়েন্দারা ডার্ক ওয়েবে সক্রিয় বিভিন্ন নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করে আইপি ঠিকানার মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেন।
দলের তত্ত্বাবধায়ক তদন্তকারী Liam Doyle বলেন, উদ্ধার করা ছবিগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। এগুলোতে শিশুদের ওপর নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য পেশায় কর্মরত ছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিশু মনোবিজ্ঞানী, একজন প্রাকৃতিক চিকিৎসক (ন্যাচারোপ্যাথিক ডাক্তার), অবসরপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য, দুটি প্রতিষ্ঠানের দুইজন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং United States Postal Service-এর একজন কর্মী রয়েছেন।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, জব্দকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রায় ৪০০টি স্মার্টফোন পূর্ণ ডেটার সমান।
এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করেছে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা OUR Rescue। সংস্থাটির সাইবার কৌশল ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা Jim Cole বলেন, অপরাধীরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের সঙ্গে পরিচিত হয়।
তিনি জানান, তারা প্রথমে শিশুর আগ্রহের বিষয়গুলো খুঁজে বের করে এবং সেই আগ্রহকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ধীরে ধীরে শিশুকে অন্য আরও গোপন যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ে গিয়ে তাদের শোষণ করার চেষ্টা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অভিভাবকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা। শুধু প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বা সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে শিশুদের অনলাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।
তাদের মতে, অনেক শিশু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সহায়ক ও বিশ্বাসভিত্তিক পারিবারিক যোগাযোগ শিশুদের অনলাইন শোষণ থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন