চীনা প্রচারণা চালানোর অভিযোগে দোষ স্বীকারে রাজি ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়র
গ্রিনল্যান্ডে নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আলোচনা
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
United States গ্রিনল্যান্ডে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে Denmark–এর সঙ্গে গোপনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে এবং আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায় গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে। এই আলোচনা শুরু হয় মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর বিতর্কিত বক্তব্যের পর। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া বা চীন যাতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চল “অধিকার” করা উচিত। তিনি বলেন, এটি “সহজ উপায়ে” অথবা “কঠিন উপায়ে” হতে পারে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে। তবে বর্তমানে দুই দেশই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। যদিও তারা আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা BBC-কে বলেছেন, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে বলে তারা আশাবাদী।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক আগেও সেখানে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী Jens-Frederik Nielsen কোপেনহেগেনে এক গণতন্ত্র সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা “সঠিক দিকেই কিছুটা অগ্রসর হয়েছে।” তবে তিনি আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছে যেখানে নতুন তিনটি সামরিক ঘাঁটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রস্তাবিত ঘাঁটিগুলোর মূল লক্ষ্য হবে উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য নৌ তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথ—যা “GIUK Gap” নামে পরিচিত—সেখানে নজরদারি জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য একটি ঘাঁটি হতে পারে দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের Narsarsuaq এলাকায়। সেখানে আগে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল এবং একটি ছোট বিমানবন্দরও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অবকাঠামো তৈরির চেয়ে পুরোনো বিমানঘাঁটি ও বন্দর উন্নত করা কম ব্যয়বহুল হবে।
তবে আলোচনায় গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি তোলা হয়নি বলে জানা গেছে। ডেনমার্ক এবং NATO আগেই এমন কোনো সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই সংবেদনশীল আলোচনা পরিচালনা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা Michael Needham। তার দায়িত্ব হলো এমন একটি সমঝোতা তৈরি করা, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্কের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টিও সম্মান করবে।
জানা গেছে, গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত পাঁচবার বৈঠক হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাধারণত স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তারা থাকেন। অন্যদিকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত Jesper Møller Sørensen এবং ওয়াশিংটনে গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক Jacob Isbosethsen এসব আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—Pituffik Space Base। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে প্রায় ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ছিল। বর্তমান ঘাঁটিটি মূলত ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কূটনৈতিক চাপ বা সামরিক হুমকি ছাড়াই সহজে গ্রিনল্যান্ডে তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারত। তবে অন্যরা বলছেন, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।
এই আলোচনা মূলত ১৯৫১ সালের একটি নিরাপত্তা চুক্তির ভিত্তিতে এগোচ্ছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, যদিও ডেনমার্কের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
সবশেষে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন বলেন, “আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে সেটি অবশ্যই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে। আমরা বিক্রির জন্য নই, আমাদের দখলও করা যাবে না।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন