লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে হাম আতঙ্ক: ২০২৬ সালের পঞ্চম রোগী শনাক্ত
কঙ্গোতে ইবোলা আতঙ্ক: অন্তত ৬ মার্কিন নাগরিক ভাইরাসের সংস্পর্শে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (Democratic Republic of the Congo) ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক এসেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News জানিয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের শরীরে ইবোলার উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও তিনজন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শে ছিলেন। তবে তারা সত্যিই আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মার্কিন Centers for Disease Control and Prevention (সিডিসি) জানিয়েছে, তারা আক্রান্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করছে। তবে ঠিক কতজন মার্কিন নাগরিক এতে জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি সতর্কতা
World Health Organization (ডব্লিউএইচও) কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত ৩৩৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) নামের ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই।
এদিকে প্রতিবেশী Ugandaতেও দুইজন আক্রান্ত এবং একজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে সিডিসি।
মার্কিন নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার পরিকল্পনা
মার্কিন সরকার আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের একটি নিরাপদ কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম STAT-এর তথ্য অনুযায়ী, তাদের Germanyতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
সিডিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বর্তমানে সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম। তবুও কঙ্গো ভ্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘লেভেল ফোর’ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।
বড় আকার ধারণ করতে পারে প্রাদুর্ভাব
ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে যত রোগী শনাক্ত হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে এটি স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক Jean Kaseya বলেছেন, যেহেতু এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা বা ওষুধ নেই, তাই জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকারের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই না, জানাজা ও দাফনের সময় আরও মানুষ আক্রান্ত হোক।”
সীমান্তে নজরদারি জোরদার
ডব্লিউএইচও কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ভাইরাস অন্য দেশে ছড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেশী Rwanda ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কঙ্গো সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে।
ইবোলা কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসে আগের বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।
এই রোগ সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, ঘাম, লালা বা অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও শরীর ব্যথার মতো ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ দেখা দেয়। পরে বমি, ডায়রিয়া, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ হতে পারে।
সংক্রমণের লক্ষণ সাধারণত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে দেখা দেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলার প্রাদুর্ভাব প্রায়ই শুরু হয় আক্রান্ত বন্য প্রাণী—বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড়—থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস প্রবেশের মাধ্যমে।
বর্তমানে ইবোলার ‘জায়ার’ প্রজাতির বিরুদ্ধে টিকা থাকলেও বুন্ডিবুগিও প্রজাতির জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন