. শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে শীতে আবহাওয়ার রেকর্ড ভাঙার ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে আলোচিত ফোর্ট হুড হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা পেন্টাগনের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ জনকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ছয় দশকের বেশি সময় পর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগকে ঘিরে দেশটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জনসাধারণের সামনে উন্মুক্ত রাখা হবে। পরদিন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। তবে সম্প্রচারটি কোন প্ল্যাটফর্মে হবে, কারা তা দেখতে পারবেন এবং সম্প্রচারের বিস্তারিত নিয়ম কী হবে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হয়নি।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসান ১৩ জনকে হত্যা করেন এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন। ওই সময় তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সামরিক ঘাঁটির ভেতরে সংঘটিত ওই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
হামলার পর হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতের জুরি তাঁকে পরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করারও চেষ্টা করেননি তিনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফোর্ট হুডেই আগামী ৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে আইনি আবেদন বা অন্য কোনো বিচারিক পদক্ষেপের কারণে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল। দেশটির সামরিক বাহিনীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির নেই বলে জানিয়েছেন হেগসেথ। সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালের ১৩ এপ্রিল। সে সময় সেনাসদস্য জন বেনেটকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। একদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, জনসাধারণকে বিষয়টি দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, এমন একটি শাস্তি সরাসরি সম্প্রচার করা নৈতিকতা, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় শাস্তির প্রকাশ্য প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংগঠনগুলোও এ ধরনের উদ্যোগের সমালোচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচারব্যবস্থা, মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রীয় শাস্তির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে সম্প্রচারের পদ্ধতি ও দর্শকদের প্রবেশাধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। নির্ধারিত দিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন