দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার তাপপ্রবাহ এখনো কাটেনি, তবে আসছে স্বস্তির শীতলতা
সারোগেসিতে জন্ম নেওয়া অন্তত ১৪ শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
ক্যালিফোর্নিয়ায় সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া অন্তত ১৪ শিশুকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। লস এঞ্জেলেস কাউন্টির আর্কাডিয়ার একটি প্রাসাদোপম বাড়িতে শিশুদের ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
অভিযুক্ত দম্পতি হলেন ৬৬ বছর বয়সী গুওজুন শুয়ান এবং ৩৯ বছর বয়সী সিলভিয়া ঝাং। লস এঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বাড়িটিকে শিশুদের জন্য একটি ‘হরর হাউস’ বা ভয়াবহ নির্যাতনের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতির অন্তত ২১টি শিশু ছিল। তাদের বেশির ভাগই সারোগেট মায়ের মাধ্যমে জন্ম নেয়। গত বছর তদন্তের সময় আর্কাডিয়ার বাড়ি থেকে ১৫ শিশুকে উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পরে আরও ছয় শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়। শিশুদের বয়স ছিল মাত্র দুই মাস থেকে ১৩ বছর। তাদের বেশির ভাগই ছিল এক থেকে তিন বছরের মধ্যে।
তদন্তকারীরা জানান, দম্পতির বাড়িতে ছয়জনের মতো লাইভ-ইন ন্যানি শিশুদের দেখাশোনা করতেন। বাড়িতে ৩০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা ছিল। এসব ক্যামেরার ফুটেজে শিশুদের মারধর এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দৃশ্য পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দম্পতি শুধু নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না, বরং কিছু ঘটনায় তা উৎসাহিতও করেছিলেন। একটি ভিডিওতে শুয়ানকে একজন ন্যানিকে একটি শিশুকে আরও জোরে মারতে বলার এবং পরে নিজেও শিশুটিকে মারধর করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। আরেকটি ঘটনায় ঝাংকে একটি শিশুকে জুতার আঘাতে মারধরের দৃশ্য দেখার সময় হাসতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের মে মাসে। তখন দুই মাস বয়সী একটি শিশুকে গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা শিশুটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের বিষয়টি শনাক্ত করার পর পুলিশকে খবর দেন। তদন্তে ওই শিশুকে একজন ন্যানির মারধরের অভিযোগ সামনে আসে।
এরপর পুলিশ দম্পতির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুদের জন্য শ্রেণিকক্ষের মতো কয়েকটি কক্ষ এবং ব্যাপক নজরদারি ব্যবস্থা দেখতে পায়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুদের নির্যাতনের বিষয়টি গোপন রাখতে তাদের এমনকি পুলিশকে মিথ্যা কথা বলতেও বলা হয়েছিল।
দম্পতি সারোগেসি ব্যবসাও পরিচালনা করতেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে সারোগেট মায়েদের নিয়োগ করতেন এবং নিজেদের পরিবার ও সন্তানসংখ্যা সম্পর্কে তাদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতেন। অন্তত আট নারী তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, তাদের পরিবারটির প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শুয়ানের আইনজীবী। তিনি দাবি করেছেন, তার মক্কেল শিশুদের নির্যাতনে জড়িত ছিলেন না এবং ন্যানিরাই নির্যাতনের জন্য দায়ী।
অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও সাক্ষীকে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন