৮০ পেরোলেই জুরি ডিউটি থেকে স্থায়ী অব্যাহতি, নতুন আইন ক্যালিফোর্নিয়ায়
‘লস এঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোতে হামলা হতে দিন’ ট্রাম্পের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে সোমবারের সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান চাইলে লস এঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোকে ‘নিতে’ পারে—এমন ক্ষতি নাকি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ‘খুব ছোট মূল্য’।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য বর্তমান পরিস্থিতি একটি ছোট মূল্য। এরপর তিনি বলেন, ‘তারা একটি শহরকে নিতে পারে। লস এঞ্জেলেসকে নিতে দাও, সান ডিয়েগোকেও নিতে দাও।’ সমাবেশে উপস্থিত অনেকেই তখন উল্লাস করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। তবে তার বক্তব্যের অর্থ নিয়ে পরে বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচকেরা বলেন, কথাগুলোকে সরাসরি নিলে মনে হয় তিনি দুটি বড় মার্কিন শহরের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতিকে মেনে নেওয়ার কথা বলছেন।
তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বক্তব্যের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, ট্রাম্প আসলে বোঝাতে চেয়েছেন—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিলে দেশটি ভবিষ্যতে লস এঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোর মতো মার্কিন শহরকে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা পেতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ক্যালিফোর্নিয়ার নেতারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম মন্তব্যটিকে ‘বিপজ্জনক’ বলে সমালোচনা করেন। লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস বলেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেশের মানুষকে রক্ষা করা, মার্কিন নাগরিকদের ওপর সম্ভাব্য হামলাকে উৎসাহিত করা নয়।
সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়াও মন্তব্যটির প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, সান ডিয়েগো কোনো ‘কল্যাটেরাল ড্যামেজ’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি নয় এবং শহরটির মানুষকে কোনোভাবেই ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
লস এঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগো দুটিই ক্যালিফোর্নিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর। সান ডিয়েগো এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো রয়েছে। অন্যদিকে লস এঞ্জেলেসে মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ফেডারেল গবেষণা অবকাঠামো রয়েছে।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে বলেছেন, ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দিয়ে সরাসরি মার্কিন মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্যটি কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
নেব্রাস্কার এই সমাবেশটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ট্রাম্পের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন করে ক্যালিফোর্নিয়া ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন