দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ, স্বস্তি ফিরবে সপ্তাহান্তে
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিলাসবহুল পোশাক ব্র্যান্ডের মালিক দম্পতি নিহত, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড-আত্মহত্যা নিয়ে তদন্ত
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিলাসবহুল নারীদের পোশাকের ব্র্যান্ড ব্রিন ওয়াকার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক দম্পতিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে অকল্যান্ড হিলসের তাদের বাড়ির বাইরে থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন ৬১ বছর বয়সী ব্রায়ান ওয়াকার এবং তার স্ত্রী ৬৩ বছর বয়সী মিশেল মিন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্যাশন জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন এবং একসঙ্গে ব্রিন ওয়াকার ব্র্যান্ড পরিচালনা করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার পর অকল্যান্ড ও বার্কলের সীমান্তবর্তী প্যানোরামিক হিল এলাকায় গুলির খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তারা এক নারী ও এক পুরুষকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কে গুলি চালিয়েছে বা কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যা—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। একই সঙ্গে অন্য কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মিশেল মিনের ভাই পল মিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রায়ান ওয়াকার আর্থিক সমস্যার মধ্যে ছিলেন এবং তার মানসিক অবস্থাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, ব্রায়ানকে মানসিক চিকিৎসার আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং ঘটনার দিনই মিশেল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা ভাবছিলেন। তবে এসব তথ্য পরিবারের সদস্যের বক্তব্য এবং এখনো পুলিশের চূড়ান্ত তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
ব্রায়ান ও মিশেল ১৯৮০-এর দশকে পরিচিত হন এবং পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসতি স্থাপন করেন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তারা বার্কলেতে পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন। মিশেলের নকশা করা পোশাক ধীরে ধীরে তাদের ব্যবসার মূল আকর্ষণে পরিণত হয় এবং ব্রিন ওয়াকার ব্র্যান্ডটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচিতি লাভ করে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডটির ছয়টি নিজস্ব দোকান রয়েছে এবং দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার বুটিকের মাধ্যমে তাদের পোশাক বিক্রি হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশীরা নিহত দম্পতির স্মরণে ফুল ও কার্ড রেখে একটি স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করেছেন।
অকল্যান্ড পুলিশ বিভাগ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও গুলি চালানোর পরিস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ এখনো ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড-আত্মহত্যা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন