মালিবুতে কিশোর চালকের গাড়ির ধাক্কায় নোবুর দীর্ঘদিনের শেফ নি হ ত
চীনে ৩০ কোটি ডলারের এআই প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগে লস এঞ্জেলেসে প্রযুক্তি কোম্পানির সিইও গ্রে প্তার
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
ক্যালিফোর্নিয়ার সান গ্যাব্রিয়েল ভ্যালির একটি প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীকে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সার্ভার চীনে পাচারের অভিযোগে গ্রে প্তার করা হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এসব সার্ভারে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি শক্তিশালী জিপিইউ ছিল, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা যায়।
গ্রে প্তার ব্যক্তির নাম গ্রেগ লুই, যিনি ইউ কং লুই নামেও পরিচিত। ৩৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সান গ্যাব্রিয়েলের বাসিন্দা এবং সিটি অব ইন্ডাস্ট্রিতে অবস্থিত আর্থমেড কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের মালিক। ১ অক্টোবর তাকে গ্রে প্তার করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে লুই কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে উচ্চক্ষমতার কম্পিউটার সার্ভার সংগ্রহ করে চীনে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এসব সার্ভারে এনভিডিয়ার এ১০০ ও এইচ১০০ জিপিইউ ছিল, যেগুলোর চীনে রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, লুই ও তাঁর সহযোগীরা মার্কিন নির্মাতাদের কাছে পণ্যগুলোর প্রকৃত গন্তব্য সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন। কাগজপত্রে সার্ভারগুলোর গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশের নাম দেখানো হলেও পরে সেগুলো চীনে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে একটি চালানের উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, লুইয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্মাতার কাছে প্রায় ৭৬ লাখ ডলারে ২৭টি সার্ভারের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। এসব সার্ভারে এনভিডিয়ার জিপিইউ ছিল। পরে সার্ভারগুলো লস এঞ্জেলেস এলাকা থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পাঠানো হয়। তবে পরে এক সহযোগী মালয়েশিয়ার এক কর্মকর্তাকে ইমেইলে জানান, ২৭টি সার্ভারই চীনে পাঠানো হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালে লুইয়ের কোম্পানি মালয়েশিয়াভিত্তিক দুটি শিপিং কোম্পানির কাছ থেকে এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিল। পুরো কার্যক্রমে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সার্ভার চীনে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লুইয়ের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবৈধভাবে পণ্য পাচার এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্র। সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপ ও কম্পিউটার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিযোগ, এই প্রযুক্তি চীনে পৌঁছানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
তবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুইকে আইনের চোখে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন বিচার বিভাগও জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে থাকা তথ্য কেবল অভিযোগ এবং তা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন