কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্র্যাটার্নি হাউসে যৌ ন নি পী ড়নের অভিযোগ: দুই বছর পর কেন আবার তদন্ত
আলতাডেনায় সরিয়ে নিতে ব্যর্থতা, প্যাসিফিক প্যালিসেডসে অব্যবস্থাপনা: দাবানল তদন্তে উঠে এল নানা ভুল
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
লস এঞ্জেলেস এলাকায় ভয়াবহ দাবানলের সময় আলতাডেনা ও প্যাসিফিক প্যালিসেডসের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাপনায় একাধিক ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার বিষয় উঠে এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভুল সিদ্ধান্ত, প্রস্তুতির ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি শুরু হওয়া ভয়াবহ দাবানলে আলতাডেনা ও প্যাসিফিক প্যালিসেডসসহ লস এঞ্জেলেসের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মোট ৩১ জনের মৃ ত্যু হয় এবং ১৬ হাজারের বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয়।
২০২৬ সালের ২ অক্টোবর প্রকাশিত ৭২৪ পৃষ্ঠার স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে দাবানল মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি, যোগাযোগব্যবস্থা ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলতাডেনার পশ্চিমাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে যথাসময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
তদন্ত অনুযায়ী, আগুনের ফুলকি ও বাড়িঘরে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলেও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কেন্দ্র পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। আগুন পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাত ২টা ১৯ মিনিটে রেডিওতে খবর পাওয়ার পর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর নির্দেশ জারি করতে আরও এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। পশ্চিম আলতাডেনার অধিকাংশ এলাকার জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয় রাত ৩টা ২৫ মিনিটে। ততক্ষণে আগুন অনেক বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল।
প্যাসিফিক প্যালিসেডসের ক্ষেত্রে তদন্তে লস এঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের প্রস্তুতি ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ১ জানুয়ারি লাগা একটি আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার পরও সেটির কিছু অংশ ধিকিধিকি জ্বলছিল। আগুনের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে একাধিক সতর্কসংকেত পাওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে সেই আগুনই ভয়াবহ প্যালিসেডস দাবানলে রূপ নেয়।
এ ছাড়া বড় আকারের দাবানল পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ ও পুলিশ পৃথকভাবে কাজ করছিল। এমনকি আগুনের সময় দুই সংস্থার ব্যবহৃত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার মানচিত্রেও পার্থক্য ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডারদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের যোগাযোগ ও আস্থার সংকটও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের মতে, আগুনের ভয়াবহতা ও প্রবল বাতাসের মতো প্রাকৃতিক পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছিল। তবে এসব পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রশাসনিক দুর্বলতা, তথ্য আদান-প্রদানে ব্যর্থতা এবং জরুরি পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাও বিপর্যয় মোকাবিলাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সতর্কবার্তা, স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন জরুরি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন