ব্যর্থ দণ্ড কার্যকরের পর সংকটাপন্ন ক্রাইস্টা পাইক অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরে
৫ কোটি ডলারের গোপন লবিং কাণ্ডে সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ১০ বছরের জেল
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেসম্যান ডেভিড রিভেরাকে ৫ কোটি ডলারের একটি গোপন লবিং কার্যক্রম এবং বিদেশি এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধন না করে কাজ করার মামলায় ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৬১ বছর বয়সী রিভেরা ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সাত সপ্তাহের বিচার শেষে গত মে মাসে তাকে অর্থপাচার ও বিদেশি এজেন্ট হিসেবে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রিভেরা ও রাজনৈতিক পরামর্শক এসথার নাফার তিন মাসের কাজের জন্য ৫ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিলেন। অর্থটি এসেছিল ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।
প্রসিকিউটররা বলেন, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের স্বার্থে রিভেরা ও নাফার যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নত করা।
এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা তৎকালীন সিনেটর মার্কো রুবিও এবং সাবেক হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কেলিয়ান কনওয়ের কাছে লবিং করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
রুবিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ও রিভেরা একসময় একই বাসায় থাকতেন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে বিচার চলাকালে রুবিও আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, রিভেরা ভেনেজুয়েলার হয়ে লবিং করছেন—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। রুবিও নিজে এই মামলায় কোনো অনিয়মের জন্য অভিযুক্ত নন।
রিভেরার আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, চুক্তিটি ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে নয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হওয়ায় তাদের বিদেশি এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের প্রয়োজন ছিল না।
তবে শুক্রবার সাজা ঘোষণার সময় বিচারক মেলিসা ড্যামিয়ান বলেন, অর্থটি মাদুরো সরকারের কাছ থেকেই এসেছিল—এ বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই।
রিভেরার পাশাপাশি একই মামলায় বিচার হওয়া নাফারও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। রিভেরাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফ্লোরিডায় থাকা তার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
মামলাটি এমন এক সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন