ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৯.৭৫ ডলার
লস এঞ্জেলেসের উপকূলে আঘাত হানছে ‘কেলভিন ওয়েভ’, এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তিশালী একটি ‘কেলভিন ওয়েভ’। এটি সাধারণ সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তীরে আছড়ে পড়বে না। বরং বিশাল এলাকাজুড়ে উষ্ণ পানি ও অতিরিক্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে ধীরে ধীরে উপকূল বরাবর এগিয়ে যাবে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সাময়িকভাবে কয়েক ইঞ্চি থেকে এক ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা উচ্চ জোয়ার ও ঝড়ের সময় উপকূলীয় বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াবে।
কেলভিন ওয়েভ আসলে কোনো বিশাল দৃশ্যমান ঢেউ নয়। এটি সমুদ্রের ভেতর দিয়ে চলা উষ্ণ পানি ও শক্তির একটি বিশাল পালস। এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে গেলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানি পূর্বদিকে সরে যায়। এই পানির একটি অংশ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে পৌঁছে উত্তর দিকে ঘুরে মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল বরাবর এগিয়ে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন বা নোয়ার তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কেলভিন ওয়েভ ঘণ্টায় প্রায় ৬ মাইল গতিতে এগোতে পারে। একবার উপকূলের কাছে পৌঁছালে এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি বাড়াতে পারে। একা এই পরিবর্তন সাধারণত বড় ধরনের বিপদ তৈরি করে না। কিন্তু এর সঙ্গে যদি উচ্চ জোয়ার, শক্তিশালী ঢেউ বা ঝড়ের জলোচ্ছ্বাস যোগ হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, উপকূল ইতোমধ্যেই অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ সমুদ্র, উচ্চ জোয়ার এবং সাম্প্রতিক শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। লস এঞ্জেলেস, অরেঞ্জ কাউন্টি, সান দিয়েগোসহ বেশ কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় এরই মধ্যে সৈকত ক্ষয়, বন্যা এবং অবকাঠামোর ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে ২০২৬-২৭ সালের এল নিনোও ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। নোয়ার জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর গোলার্ধের শরৎ ও শীত মৌসুমে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি আধুনিক রেকর্ডে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এল নিনোর প্রভাব শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এটি শীতকালে শক্তিশালী ঝড়, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে উষ্ণ সমুদ্রের ওপর দিয়ে তৈরি হওয়া ঝড় বেশি আর্দ্রতা বহন করলে উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের ওপরও কেলভিন ওয়েভের প্রভাব পড়তে পারে। এটি উপকূলের পানির তাপমাত্রা বাড়ায় এবং ঠান্ডা, পুষ্টিসমৃদ্ধ পানি আরও গভীরে ঠেলে দেয়। এর ফলে মাছ, কেল্প বনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। নোয়া জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কেলভিন ওয়েভ নিজে সুনামির মতো সরাসরি বিপজ্জনক কোনো ঢেউ তৈরি করে না। মূল উদ্বেগ হলো—এটি যখন ইতোমধ্যে উঁচু সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর আরও পানি যোগ করে, তখন ঝড় ও উচ্চ জোয়ারের প্রভাব অনেক বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে সৈকত ক্ষয় বা উপকূলীয় বন্যার সমস্যা রয়েছে, সেখানে সামান্য অতিরিক্ত সমুদ্রপৃষ্ঠও বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ তাই সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতির জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং উপকূলীয় বন্যা, ক্ষয় ও শক্তিশালী শীতকালীন ঝড় মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই শীত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন