ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৯.৭৫ ডলার
ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৯.৭৫ ডলার
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষিশ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৯ দশমিক ৭৫ ডলার নির্ধারণ করে নতুন আইন করা হয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম গত ৩০ সেপ্টেম্বর অ্যাসেম্বলি বিল ২৬৪৬-এ স্বাক্ষর করেছেন। নতুন মজুরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
নতুন আইনের আওতায় মূলত ফেডারেল এইচ-২এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় অস্থায়ী বা মৌসুমি কৃষিকাজে আসা শ্রমিকরা থাকবেন। একই নিয়োগকর্তার অধীনে একই বা প্রায় একই ধরনের কাজ করা স্থানীয় কৃষিশ্রমিকদের ক্ষেত্রেও এই মজুরি প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে এইচ-২এ কর্মীদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্ধারিত মজুরি ঘণ্টায় ১৬ দশমিক ৯০ ডলার। নতুন আইনে সেটি ১৯ দশমিক ৭৫ ডলারে উঠবে। অর্থাৎ ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ২ দশমিক ৮৫ ডলার বাড়ছে। ৮ ঘণ্টার কর্মদিবস হিসেবে হিসাব করলে দৈনিক মজুরি প্রায় ২২ দশমিক ৮০ ডলার বেশি হবে।
আইনটির সমর্থকেরা বলছেন, কৃষিশ্রমিকদের মজুরির আগের স্তর ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিলটির লেখক অ্যাসেম্বলিমেম্বার ম্যাগি ক্রেল জানিয়েছেন, কৃষিখাতে কঠিন ও দক্ষতার কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ১৯ দশমিক ৭৫ ডলারকে ন্যূনতম মজুরির ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিখাতে এইচ-২এ কর্মসূচির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কৃষিশ্রমিক এই কর্মসূচির আওতায় কাজ করেন। এর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্থানীয় শ্রমিকও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো শুধু বিদেশ থেকে আসা অস্থায়ী কর্মীদের নয়, একই ধরনের কাজ করা স্থানীয় কর্মীদের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
তবে আইনটি নিয়ে কৃষক ও কৃষি সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের দামে পড়তে পারে। কিছু কৃষক আশঙ্কা করছেন, বাড়তি শ্রম ব্যয় সামলাতে তাদের কর্মীর সংখ্যা, কাজের ঘণ্টা বা মৌসুমি কর্মসংস্থানের সময় কমাতে হতে পারে।
ফ্রেসনো কাউন্টির এক কৃষক জো দেল বস্কও জানিয়েছেন, জ্বালানি, সারসহ কৃষি উৎপাদনের অন্যান্য খরচ ইতোমধ্যে বেড়েছে। নতুন মজুরি আইন কার্যকর হলে শ্রম ব্যয়ও বাড়বে, যা কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, ইউনাইটেড ফার্ম ওয়ার্কার্সসহ আইনটির সমর্থকেরা বলছেন, কৃষিশ্রমিকরা দীর্ঘ সময় কঠিন পরিবেশে কাজ করেন এবং তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, নতুন মজুরি কৃষিশ্রমিকদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।
নতুন আইনে শুধু ২০২৭ সালের জন্য ১৯ দশমিক ৭৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়নি। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এবং পরবর্তী প্রতিটি বছর জানুয়ারিতে এই মজুরি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার জন্য নির্ধারিত জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় অনুযায়ী বাড়ানো হবে। ফলে ভবিষ্যতেও কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন