আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৯.৭৫ ডলার

        লস এঞ্জেলেসের আলোচিত ‘আবর্জনার বাড়ি’ আবারও ময়লায় ঢেকে গেছে

        বাবাকে দিয়ে ১৪ বছরের মেয়েকে নি র্যাতন ও গর্ভবতী করার ঘটনায় গ্রে প্তার মা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় পানির বিল দেশের সবচেয়ে বেশি: বাড়ছে বাসিন্দাদের খরচ

        লস এঞ্জেলেসের উপকূলে আঘাত হানছে ‘কেলভিন ওয়েভ’, এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

        জরিপে উদ্বেগ: ট্রাম্প ও কংগ্রেস এআইয়ের ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না

        ট্রাম্পের বার্তা: ইরান লস এঞ্জেলেস বা সান দিয়েগোতে হা মলা চালাতে পারবে না

        ট্রাম্পের বিলাসবহুল ফ্লোরিডা গলফ ক্লাবেই হতে পারে নতুন ‘ক্যাম্প ডেভিড’

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার তাপপ্রবাহ এখনো কাটেনি, তবে আসছে স্বস্তির শীতলতা

        সিলভার লেকে বাড়িতে আগুন, চার এলএফডি ফায়ারফাইটারসহ আহত ৫

        প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দুই কিশোর লস এঞ্জেলেসের এলাকায় থাকতে পারে

        কুলভার সিটি বাসচালক ব্রুস রদ্রিগেজকে হত্যার অভিযোগে লস এঞ্জেলেসের ব্যক্তি অভিযুক্ত

        সারোগেসিতে জন্ম নেওয়া অন্তত ১৪ শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে

        মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, এক সপ্তাহ পর জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের

        ট্রাম্প রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারের কর্মীর মৃত্যু নিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন

        ৮০ পেরোলেই জুরি ডিউটি থেকে স্থায়ী অব্যাহতি, নতুন আইন ক্যালিফোর্নিয়ায়

        সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় আঘাত হানতে পারে শক্তিশালী এল নিনো, প্রস্তুতি নিচ্ছে লস এঞ্জেলেস

        ট্রাম্পের মন্তব্যে লস এঞ্জেলেস নিয়ে ক্ষোভ, কড়া জবাব নিউজম ও বাসের

        ফ্রিওয়েতে ভয়াবহ সংঘ র্ষের ভিডিও, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রা ণ গেল একজনের

        ‘লস এঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোতে হামলা হতে দিন’ ট্রাম্পের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া

জরিপে উদ্বেগ: ট্রাম্প ও কংগ্রেস এআইয়ের ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না

জরিপে উদ্বেগ: ট্রাম্প ও কংগ্রেস এআইয়ের ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না

ছবিঃ ফাইল ফুটেজ

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়লেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও কংগ্রেস এই প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মনে করছেন বেশিরভাগ মার্কিন ভোটার। নতুন এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না। একইভাবে ৫৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন, কংগ্রেসও এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ছয় দিন ধরে পরিচালিত এই জরিপে মোট ৪ হাজার ৫০৬ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫২৬ জন ছিলেন নিবন্ধিত ভোটার। জরিপটির ভুলের সীমা প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট।

এআই নিয়ে মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। জরিপে ৮৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মার্কিন কর্মীদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিদেশি কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে ৭৪ শতাংশ এবং অবৈধ অভিবাসনকে ৬০ শতাংশ ভোটার মার্কিন কর্মীদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছেন।

এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও বড় হয়ে উঠেছে। জরিপে ৬২ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ভবিষ্যতে এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এআই ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়েও ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকার পক্ষে সমর্থন বেশ শক্তিশালী। জরিপে ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৬১ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার এআইয়ের ওপর আরও কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিয়েছেন। অর্থাৎ দুই দলের ভোটারদের বড় একটি অংশই মনে করছেন, শুধু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।

এআই পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে ৫৬ শতাংশ ভোটার নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে সীমাবদ্ধতা আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই সমর্থন ৬৯ শতাংশ, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ। ডেটা সেন্টারগুলো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, ফলে বিদ্যুতের খরচ এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়েও বিভিন্ন এলাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এআই সামরিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও ভোটারদের উদ্বিগ্ন করছে। ৫৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, কোনো সামরিক আক্রমণের লক্ষ্য নির্ধারণে মার্কিন সরকারের এআই ব্যবহার করা উচিত নয়। ২০২৫ সালের আগস্টে করা একই ধরনের জরিপে এই মত দিয়েছিলেন ৪৯ শতাংশ ভোটার।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এআইয়ের দ্রুত উন্নয়নকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের লক্ষ্য হলো এআই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখা। ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে বড় এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক নিরাপত্তা নীতিতে সম্মতির ওপরও জোর দিয়েছে। তবে সেই ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক আইনগত শাস্তির কাঠামো নেই।

এদিকে কংগ্রেসেও এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। কিছু আইনপ্রণেতা কঠোর নিরাপত্তা নীতির পক্ষে থাকলেও, এআই উন্নয়নে অতিরিক্ত সরকারি বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের তুলনায় পিছিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করা হবে, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম বড় নীতিগত প্রশ্ন। 

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত