আপডেট :

        সিলিকন ভ্যালিতে ১০০ জনের বেশি নামের ‘যৌন নিপীড়ন’ তালিকা ছড়ানোর দাবি

        শুক্রবার থেকেই উষ্ণ হবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, ফিরছে গ্রীষ্মের আবহ

        কোভিড ঋণ জালিয়াতিতে সাড়ে ৩ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ জনের দোষ স্বীকার

        এটিএম ফি দেওয়া গ্রাহকদের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ভিসা-মাস্টারকার্ড, আবেদন ২০২৭ পর্যন্ত

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ছোট বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২

        ইয়োসেমাইটে পড়ে ১৯ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার কলেজ কুস্তিগিরের মৃত্যু

        আমেরিকার শ্রমিক সংকট স্থানীয় কর্মীর ঘাটতির চেয়েও বড়

        লা ভার্নে ব্যাটারি আগুনে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত, বাড়ি ফিরতে লাগতে পারে কয়েক দিন

        পলাতক আসামি ভেবে মার্কিন নাগরিককে মাটিতে ফেলে মারধর, রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে গেল আইসি

        ‘সম্ভবত ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক কম দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার’ :ওবামা

        মেক্সিকোর উপকূলে হারিকেন পোলো, এল নিনোর প্রভাবে শক্তিশালী ঝড়

        সাবেক ফক্স নিউজ প্রযোজক জেনিফার একহার্টের মৃ ত্যু আ ত্ম হ ত্যা হিসেবে নিশ্চিত

        সাইকেলের হেলমেট হাতে ছুটে এসে ফিলাডেলফিয়ায় নারীকে যৌন হেনস্তা থেকে রক্ষা করলেন পথচারী

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐতিহাসিক সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা, হুমকিতে থাকা প্রজাতির বিস্তারে নতুন আশা

        ‘এ যাবৎকালের অন্যতম শক্তিশালী’ হারিকেন পোলো, ক্যালিফোর্নিয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে

        তীব্র গরমের পর ক্যালিফোর্নিয়ার লাখো পরিবার পাচ্ছে স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ বিল ক্রেডিট

        ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের পর রাশিয়ার হামলায় কিয়েভ ও দোনেৎস্কে নিহত ৬

        সুপার এল নিনোর প্রভাবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

        যৌন নিপীড়নের মামলায় হার্ভি ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

        ব্রুকলিনের সৈকতে ডাস্টবিন থেকে ৫ সন্তানের মায়ের মরদেহ উদ্ধার, শোকস্তব্ধ নাইটক্লাব অঙ্গন

যেভাবে ১০০ রোগী হত্যা করেছেন এই নার্স

যেভাবে ১০০ রোগী হত্যা করেছেন এই নার্স

জার্মানিতে সাবেক একজন নার্স স্বীকার করেছেন যে তিনি ১০০ রোগীকে হত্যা করেছেন। উত্তরাঞ্চলীয় ওল্ডেনবুর্গে নতুন করে তার বিচার শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই তিনি আদালতের কাছে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

গোয়েন্দারা বলছেন, ৪১ বছর বয়সী নার্স নিলস হোগেল জার্মানির দুটো হাসপাতালে, তিনি যেসব রোগীর সেবা-যত্ন করছিলেন, তাদের মধ্যে ১০০ জনের শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করে তাদেরকে হত্যা করেছেন।

সরকারি কৌসুলিরা বলছেন, রোগীদের শরীরে অতিরিক্ত ডোজের ওষুধ দেওয়ার পর তাদের জ্ঞান ফিরিয়ে এনে তিনি তার সহকর্মীদের চমকে দিতে চেয়েছিলেন। এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

হাসপাতালে নার্স হোগেলের সেবা যত্নে থাকা এরকম লোকজনকে হত্যার দায়ে ইতোমধ্যেই তার যাবজ্জীন কারাদণ্ড হয়েছে।

নতুন করে বিচার শুরু হওয়ার পর আদালতকে তিনি বলেছেন, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেছেন যে ওল্ডেনবু্র্গে তিনি ৩৬ জন এবং পার্শ্ববর্তী ডেলমেনহোর্স্টে তিনি আরো ৬৪ জন রোগীকে হত্যা করেছেন।

আদালতের বিচারকরা তার কাছে তখন জানতে চেয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে হত্যার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেসব সত্য কিনা। তখন নার্স হোগেল আদালতের কাছে এসব অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, "মোটামুটি ঠিকই আছে।"

তার এই স্বীকারোক্তির ফলে নার্স নিলস হোগেল হয়ে ওঠলেন যুদ্ধোত্তর জার্মানির সবচেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার।

তার এই বিচার আগামী মে মাস পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচার চলাকালে নিহতদের কবর থেকে তাদের মৃতদেহ তুলে টক্সিকোলজি পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

বার্লিন থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জেনি হিল বলছেন, এই মামলাটি জার্মানির স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষের জন্যে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ নিহতদের পরিবার থেকে নার্স হোগেলের বিরুদ্ধে এর আগে যখন অভিযোগ তোলা হয়েছিলো, কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে খুব একটা আমলে নেয়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, নার্স হোগেল হয়তো আরো বেশি রোগীকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের অনেককেই হয়তো দাহ করা হয়েছে। ফলে সেসম্পর্কে জানার সুযোগ খুব কমই আছে।

নার্স হোগেলের হাতে যারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের আত্মীয় স্বজনরা এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

হোগেলকে প্রথম ধরা হয় ২০০৫ সালে যখন তিনি একজন রোগীকে প্রেসক্রাইব করা হয়নি এরকম একটি ইঞ্জেকশন দিয়েছিলেন। হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ২০০৮ সালে তার সাত বছরের সাজা হয়েছিল।

পরে তার আরো একটি বিচার হয় ২০১৪-২০১৫ সালে। ওই বিচারের সময় প্রমাণ হয় যে তিনি দুজনকে হত্যা করেছেন এবং আরো দুজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেসময় তাকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছিল।

নার্স হোগেল বলেছেন, তিনি এখন সত্য কথাটা বলে দিয়েছেন এবং আশা করছেন যে তার হাতে নিহত রোগীদের পরিবারের সদস্যরা এখন কিছুটা হলেও শান্তি পাবেন।

তিনি বলেছেন, খুব বেশি চিন্তাভবনা করে নয়, অনেকটা স্বতস্ফূর্তভাবেই তিনি এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

বিচার শুরু হওয়ার পর প্রথমে তিনি মনোবিজ্ঞানীদের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি প্রায় ৩০ জন রোগীকে হত্যা করেছেন।

পরে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের পরিসর আরো বাড়ানো হয়। কবর থেকে ১৩০ জনের মৃতদেহ তুলে পরীক্ষা করে দেখা হয় কী কারণে তারা মারা গিয়েছিলেন।

হাসপাতালের পুরনো কাগজপত্রও তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাতে দেখা গেছে, নার্স হোগেল যখন ডিউটিতে ছিলেন তখন মৃত্যুর হার ছিল দ্বিগুণের মতো।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত