ট্রপিক্যাল স্টর্ম র্যাচেলের জোয়ারে প্লাবিত নিউপোর্ট বিচ, স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা কর্তৃপক্ষের
ট্রপিক্যাল স্টর্ম র্যাচেলের আগমনে সতর্ক দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, কর্মকর্তা বললেন আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি আসছে
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রপিক্যাল স্টর্ম র্যাচেলের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, প্রবল ঢেউ ও উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝড়টি স্থলভাগে পৌঁছানোর আগেই লং বিচ ও নিউপোর্ট বিচসহ কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নিউপোর্ট বিচের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সামনে যে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতি তার তুলনায় কিছুই নয়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, র্যাচেল রোববার, ১১ অক্টোবর, ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকোর সীমান্তের কাছাকাছি উপকূলে পৌঁছাতে পারে। ঝড়টির প্রভাবে সান দিয়েগো কাউন্টিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতেও বৃষ্টি, প্রবল ঢেউ এবং বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় বন্যা দেখা দিতে পারে।
শুক্রবার থেকেই দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় বড় ঢেউ ও উচ্চ জোয়ারের কারণে পানি ঢুকতে শুরু করে। লং বিচের আলামিটোস উপদ্বীপে ঢেউ আছড়ে পড়ে বাড়িঘর ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। কিছু ভবনকে বসবাসের অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহর কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা বিতরণ করেছে এবং অতিরিক্ত পানি ঠেকাতে প্রস্তুতি নিয়েছে।
নিউপোর্ট বিচেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপকূলীয় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। শহর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। বাসিন্দাদের বাড়িঘর সুরক্ষিত রাখতে বালুর বস্তা সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পানি সরানোর জন্য পাম্প চালানো, সৈকতে বালুর প্রতিরোধক বাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল রাখার কাজ চলছে।
নিউপোর্ট বিচ শহরের মুখপাত্র জর্জিয়া রিওস বলেন, সমুদ্রের ঢেউ এত উঁচু হয়ে উঠবে, তা ছিল নজিরবিহীন। ট্রপিক্যাল স্টর্ম র্যাচেলের কারণে বড় ঢেউয়ের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রিওস সতর্ক করে বলেন, সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রোববার বৃষ্টির সঙ্গে ঢেউ ও জোয়ারের প্রভাব যুক্ত হলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।
উপকূলীয় বন্যা ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ঝড়টির গতিপথের ওপর নির্ভর করে সান দিয়েগো কাউন্টিতে বৃষ্টির পরিমাণ ও বাতাসের তীব্রতা পরিবর্তিত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকা, উপত্যকা ও মরুভূমি অঞ্চলে বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, কয়েকটি প্রাকৃতিক পরিস্থিতি একই সময়ে তৈরি হলে উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ঢেউ, প্রবল বাতাস, উচ্চ জোয়ার এবং বৃষ্টিপাত। বিশেষ করে লং বিচ, মালিবু ও অরেঞ্জ কাউন্টির দক্ষিণমুখী সৈকতগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। নিচু এলাকার বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং উপকূলীয় অবকাঠামো প্লাবিত হতে পারে। ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের বালু ক্ষয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
রোববার সকালে সমুদ্রের জোয়ার প্রায় ৭ ফুট বা তার বেশি হতে পারে। একই সময়ে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ঢেউ আরও উঁচু হতে পারে। ফলে সৈকত ও সমুদ্রতীরবর্তী সড়কে পানি ঢুকে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। সমুদ্রে বিপজ্জনক স্রোত তৈরি হওয়ায় সাঁতারু, সার্ফার এবং নৌযান ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সান দিয়েগো কাউন্টির উপকূলীয় এলাকা, উপত্যকা, পাহাড় ও মরুভূমি অঞ্চলের জন্য ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ জারি করা হয়েছে। ঝড়ের গতিপথে পরিবর্তন এলে বাতাসের গতি ও বৃষ্টির পরিমাণের পূর্বাভাসও বদলে যেতে পারে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার এবং জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। প্লাবিত সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো কিংবা পানির গভীরতা না জেনে জলমগ্ন এলাকায় প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের দেয়াল, পাথুরে বাঁধ ও জেটি থেকেও দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এসব স্থানে বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
র্যাচেলের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপপ্রবাহের পর আবহাওয়াও ঠান্ডা হতে শুরু করেছে। সপ্তাহের শুরুতে যে অঞ্চলে অস্বাভাবিক গরম ছিল, সেখানে এখন বৃষ্টি, বাতাস ও সমুদ্রের ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রোববারের পরও কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, ট্রপিক্যাল স্টর্ম র্যাচেলের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকাগুলো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। ঝড়টির গতিপথের অনিশ্চয়তার কারণে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট মাত্রা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে বড় ঢেউ, উচ্চ জোয়ার ও বৃষ্টিপাত একসঙ্গে দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন