‘শত্রু আর কেউ নয়, আমরাই’, ট্রাম্প শিবিরের ভেতরের ব্যর্থতার চিত্র প্রকাশ্যে
হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত, যু দ্ধ বন্ধে ইরানের চাপ অব্যাহত
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পরও পারস্য উপসাগরে সংঘাতের উত্তেজনা কমেনি। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। এতে স্পষ্ট হয়েছে, যু দ্ধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখেই থাকবে।
নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল। এর ফলে যু দ্ধের রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টে বলেছেন, যু দ্ধের কারণেই নির্বাচনে তার দলের পরাজয় হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বৃহস্পতিবার ভ্যান্সের বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভ্যান্স যু দ্ধকে ভুল মনে করলেও ট্রাম্পকে আরও হা মলার পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতে পারছেন না। ট্রাম্পকে তিনি ‘পরাজিত জুয়াড়ির’ সঙ্গে তুলনা করেন।
কালিবাফ বলেন, ভ্যান্স যদি সত্যিই মনে করেন যু দ্ধটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তাহলে তার উচিত ট্রাম্পকে যু দ্ধ বন্ধ করতে রাজি করানো। তিনি বলেন, “টেড টক বাদ দিন। কথাটা আপনার বসকে বলছেন না কেন?”
গত কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প হয়তো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হা মলা শুরু করতে সতর্ক হবেন। তবে বৃহস্পতিবার তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। তা সত্ত্বেও গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলারের বেশি কম রয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যু দ্ধ বন্ধে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কথা হলেও এখনো কোনো বড় অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরে।
হরমুজে ট্যাংকারে হা মলা অব্যাহত
যু দ্ধের মধ্যেই পারস্য উপসাগরে ট্যাংকারে হা মলার ঘটনা প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, রোববার থেকে অন্তত পাঁচটি জাহাজে হা মলা বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
অক্টোবর মাসে ৩৫টি জাহাজে হা মলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছিল সংস্থাটি, যা যু দ্ধ শুরুর পর এক মাসে সর্বোচ্চ। বর্তমান পরিস্থিতিও প্রায় একই গতিতে এগোচ্ছে।
বুধবার রাতে কাতারের উত্তরে একটি জাহাজে দুটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও। বৃহস্পতিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, দুটি ট্যাংকার সামুদ্রিক মা ইনে আঘাত পেয়েছে এবং আরেকটি জাহাজে আ গুন লেগেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সাধারণত বাণিজ্যিক জাহাজে হা মলার কথা স্বীকার করে না। তবে তাদের দাবি, তেহরানের সম্মতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল নিরাপদ নয়।
বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকারের কোনো মনোভাব থাকা উচিত নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, ইরানের প্রতি দেশটির বৈরী অবস্থান বজায় থাকবে।
ট্রাম্পের নতুন হা মলার আশঙ্কা
যু দ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অ স্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই হা মলা চালানো হয়েছে। যু দ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি বারবার এই যুক্তি তুলে ধরেছেন।
হোয়াইট হাউসের এক উপদেষ্টা রয়টার্সকে জানান, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ভ্যান্সের বক্তব্যকে প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে প্রকাশ্য মতপার্থক্য হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, যু দ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও ওই বক্তব্যে স্বীকার করা হয়েছে।
তবে রয়টার্সকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
একটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প হা মলার পরিকল্পনা করছেন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা স্থগিত রেখেছিলেন। সূত্রটি বলে, “তিনি ইরানে বো মা হা মলার পরিকল্পনা করছেন। তার কথায় বিশ্বাস করবেন না। আমরা তাকে নির্বাচনের আগে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম।”
অন্য সূত্রটির মতে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের রাজনৈতিকভাবে হারানোর মতো তেমন কিছু আর নেই।
শান্তি আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অব রোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ সপ্তাহে বলেছেন, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।
কাতার মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও যু দ্ধ বন্ধের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন