‘শত্রু আর কেউ নয়, আমরাই’, ট্রাম্প শিবিরের ভেতরের ব্যর্থতার চিত্র প্রকাশ্যে
৩৩টি গবেষণায় উঠে এল পু রুষাঙ্গের গড় আকার, দৈর্ঘ্য ও পরিধি নিয়ে বাস্তব তথ্য
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
পু রুষাঙ্গের আকার নিয়ে অনেক পুরুষের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের ভুল ধারণা। কেউ নিজের শারীরিক মাপ নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেন, আবার অনেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে অযথা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। তবে চিকিৎসকদের সরাসরি পরিমাপ এবং ৩৩টি গবেষণার পর্যালোচনায় উঠে এসেছে পু রুষাঙ্গের প্রকৃত গড় দৈর্ঘ্য ও পরিধির পরিসংখ্যান।
চিকিৎসকদের পরিমাপের ভিত্তিতে করা পর্যালোচনা অনুযায়ী, স্বাভাবিক অবস্থায় পু রুষাঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ৬৩ ইঞ্চি। এ সময় এর গড় পরিধি থাকে প্রায় ৩ দশমিক ৫৮ ইঞ্চি।
অন্যদিকে, উত্তেজিত অবস্থায় পু রুষাঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ দশমিক ৪৫ ইঞ্চি। তখন গড় পরিধি হয় প্রায় ৪ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের শারীরিক মাপ সম্পর্কে পুরুষদের দেওয়া তথ্য অনেক সময় বাস্তব পরিমাপের সঙ্গে মেলে না। বিশেষ করে নিজেরাই মাপ জানালে অনেকে প্রকৃত দৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি বলে থাকেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষেরা গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দাবি করতে পারেন।
যৌন ও দাম্পত্যবিষয়ক থেরাপিস্ট ভ্যানেসা কাশিং বলেন, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অনেক পুরুষের ধারণা, পু রুষাঙ্গের প্রকৃত গড় দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৫ থেকে ৭ ইঞ্চির কাছাকাছি। বাস্তবে চিকিৎসকদের পরিমাপের সঙ্গে এই ধারণার যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
তার মতে, সমাজে পু রুষাঙ্গের আকারের সঙ্গে পুরুষত্ব, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং সঙ্গীকে যৌ নসুখ দেওয়ার সক্ষমতাকে অনেক সময় এক করে দেখা হয়। এ কারণে অনেক পুরুষ নিজের শারীরিক মাপ নিয়ে অতিরঞ্জিত ধারণা তৈরি করেন।
কাশিং বলেন, পর্নো গ্রাফি, বন্ধুদের মধ্যে বড়াই এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা উপস্থাপন মানুষের প্রত্যাশাকে অবাস্তব করে তুলতে পারে। এসব মাধ্যমে সাধারণ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের বেশি দেখা যায়। ফলে অনেকে নিজের স্বাভাবিক শরীরকেও ত্রুটিপূর্ণ মনে করতে শুরু করেন।
আকার নিয়ে অসন্তুষ্টি ও মানসিক চাপ
পু রুষাঙ্গের আকার নিয়ে অসন্তুষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে খুব একটা বিরল নয়। ২০১৯ সালে ৪ হাজার ১০৯ জন পুরুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ নিজেদের শারীরিক মাপ নিয়ে সন্তুষ্ট নন।
২০১৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ হাজার ৫২১ জন পুরুষের ওপর পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৫৫ শতাংশ পুরুষ নিজেদের শারীরিক মাপ নিয়ে সন্তুষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসন্তুষ্টি শুধু আত্মবিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলে না, দাম্পত্য ও যৌ নবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পু রুষাঙ্গের আকার নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা পেনাইল ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যৌ ন সক্ষমতাজনিত সমস্যা এবং যৌ নমিলনে কম সন্তুষ্টির প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষেরা নিজেদের সঙ্গীর প্রত্যাশা সম্পর্কে অনেক সময় ভুল ধারণা পোষণ করেন। বিভিন্ন গবেষণায় প্রায় ৮৫ শতাংশ নারী সঙ্গীর পু রুষাঙ্গের আকার নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৪৫ শতাংশ পুরুষ নিজেদের শারীরিক মাপ আরও বড় হলে ভালো হতো বলে মনে করেন।
যৌ নসুখের জন্য শুধু দৈর্ঘ্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌ নসুখের ক্ষেত্রে পু রুষাঙ্গের দৈর্ঘ্যই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। যৌ ন উত্তেজনা, পারস্পরিক যোগাযোগ, মানসিক ঘনিষ্ঠতা এবং সঙ্গীর স্বাচ্ছন্দ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভ্যানেসা কাশিং জানান, যো নিপথের সংবেদনশীল স্নায়ুর অধিকাংশ এবং ক্লি টোরিসের অভ্যন্তরীণ অংশের সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ যো নিপথের প্রথম দুই থেকে তিন ইঞ্চির মধ্যে অবস্থিত। তাই যৌ নসুখের সঙ্গে শুধু দৈর্ঘ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তিনি পুরুষদের নিজেদের শরীর নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে যেসব গণমাধ্যম বা বিনোদনমূলক কনটেন্ট শরীর নিয়ে হীন ম্মন্যতা তৈরি করে, সেগুলো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তার মতে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কোনো শারীরিক পরীক্ষার মতো না দেখে পারস্পরিক অনুভূতি, স্পর্শ, যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ সুস্থ যৌ নবনের ভিত্তি শুধু শারীরিক মাপ নয়, বরং পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও মানসিক সংযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন