৩৩টি গবেষণায় উঠে এল পু রুষাঙ্গের গড় আকার, দৈর্ঘ্য ও পরিধি নিয়ে বাস্তব তথ্য
ধর্ষণ ও যৌন হা মলার মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ড ধর্ষণ ও যৌন হা মলার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দুই দশকেরও বেশি আগে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন। সোমবার তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে। বিচারক জোয়েল বেনাথান জানিয়েছেন, ব্র্যান্ডের উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে। জামিনে থাকা ব্র্যান্ডকে রায়ের পর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
৫১ বছর বয়সী ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে চার নারীর ঘটনায় একটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন হা মলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ এবং একটি শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ব্র্যান্ড সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তরুণ বয়সে যৌনতার প্রতি তাঁর অতিরিক্ত আসক্তি ছিল এবং একসময় তিনি বহু সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তবে কারও অনিচ্ছার বিরুদ্ধে কখনো কিছু করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ব্র্যান্ডকে পরিকল্পিত ও কৌশলী যৌন অপরাধী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ডি ফার্ফি বলেন, অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসা নারীদের সাহস, মানসিক দৃঢ়তা ও সংকল্পের কারণেই এই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা সম্ভব হয়েছে।
ফার্ফির ভাষ্য, ব্র্যান্ড তাঁর প্রভাব, পরিচিতি ও খ্যাতি ব্যবহার করে নারীদের শোষণ করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ করেছেন। তাঁর পরিচিতি যত বেড়েছে, ততই নিজের অধিকারবোধও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের আটজন পুরুষ ও চারজন নারী বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত জুরি দুই দিনে আট ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা করে রায় দেন।
রাসেল ব্র্যান্ড ২০০০-এর দশকের শুরুতে অশালীন কৌতুক পরিবেশনা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও বিবিসির রেডিও শো উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পান। হলিউডের ‘ফরগেটিং সারাহ মার্শাল’ ও ‘গেট হিম টু দ্য গ্রিক’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পপ তারকা ক্যাটি পেরির সঙ্গে তাঁর স্বল্পস্থায়ী বিয়েও ব্যাপক আলোচনায় ছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূলধারার গণমাধ্যম থেকে দূরে সরে ফ্লোরিডায় বসবাস শুরু করেন ব্র্যান্ড। অনলাইনে তাঁর বড় অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি সুস্থতা, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন।
ব্র্যান্ড বলেছেন, এই ফৌজদারি মামলাটি তাঁর জীবন ও পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, অভিযোগ ও এসব ঘটনা তাঁর পুরো জীবনকে গ্রাস করেছে।
ব্র্যান্ডের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, অভিযোগকারীরা ঘটনার বহু বছর পর পুলিশের কাছে গিয়েছেন এবং ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বেনামে অভিযোগ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রচারের পর অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের মতে, এ বিষয়গুলো অভিযোগকারীদের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ব্র্যান্ড আদালতে আরও বলেন, তাঁর বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা তাঁকে ছেড়ে গেছেন। তাঁর স্ত্রী লরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিরক্ষার পক্ষে চরিত্র সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন। তবে ব্র্যান্ডের দাবি, তাঁর পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য দিতে সক্ষম কেউ সাক্ষ্য দিতে রাজি হননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন