যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ২০ অগাস্ট, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 02:59pm

|   লন্ডন - 09:59am

|   নিউইয়র্ক - 04:59am

  সর্বশেষ :

  স্তন্যপান করিয়ে বিপন্ন শিশুকে বাঁচালেন আর্জেন্টিনার পুলিশ কর্মকর্তা   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু   সরকার কোনো আন্দোলনকে দানা বেঁধে উঠতে দেবে না : এরশাদ   বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক   ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার আন্দোলনে নিহত ১৬৬   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান   ফাইনালে পারল না বাংলাদেশি মেয়েরা   মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে : নাসিম   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই   সবচেয়ে বেশি আয় স্কারলেট জোহানসনের   শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি ড. কামালের   ছাত্র আন্দোলনে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে কফিশপের মালিক ফারিয়া রিমান্ডে   এবার ট্রাম্পের পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ   যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন!   হ্যান্ডশেক না করা সেই সুইডিশ তরুণী মামলায় জিতলেন

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

বিএনপির বিশাল সমাবেশ : নির্বাচনে যেতে তিন শর্ত

আ.লীগ ‘পাবে’ ২০ আসন

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২০ ১০:২১:১৩

নিউজ ডেস্ক: তিনটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, ভোট সুষ্ঠু হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী ২০টি আসনও পাবে না।

বিএনপি মহাসচিবের শর্ত তিনটি হলো: ১. দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেয়া, ২. নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং ৩. ভোটে সেনা মোতায়েন।

শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে নির্বাচন হতে না দেয়ার ঘোষণা দেন ফখরুল। বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধি, তাকে জেলে রেখে এ দেশে কোন নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না।’

খালেদা জিয়াসহ সব ‘রাজবন্দীদের’ মুক্তি এবং বিএনপি নেত্রীর ‘সুচিকিৎসার’ দাবিতে রাজধানীতে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।

বিকাল তিনটায় এ সমাবেশ শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসেন। কিছু শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি পেলেও সময় স্বল্পতার কারণে মঞ্চ তৈরির সুযোগ পায়নি বিএনপি। ফলে খোলা ট্রাকের মঞ্চ থেকে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। কার্যালয়ের আশপাশে রাখা হয় জলকামানও।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আনতে কোনো উদ্যোগ না নেয়ার কথা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। তবে এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের পুরনো দাবি আবার তুললেন ফখরুল।


দুই দফা আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফেরা বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের ঘোষণা দেয় সমাবেশে। আর এবার আন্দোলনে নামার আগে জাতীয় ঐক্য গড়ার ওপরও জোর দেয়া হয়।

বিএনপি নেতার দাবি, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ ২০টি আসনও পাবে না। বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দুর্নীতি, গুম, খুনসহ সারা দেশে একটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’

সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পান বলেই তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। বলেন, ‘তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখন দেশে নির্বাচনের নামে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশের সর্বত্র একটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’

বাম জোটকে অভিনন্দন, জাতীয় ঐক্যে আহ্বান

বামপন্থী আটটি দলের নতুন জোটকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ‘জাতীয় ঐক্যে’ তাদেরকেও শামিল হওয়ার আহ্বান জানান ফখরুল।

বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অন্যান্য সব দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

‘গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সমস্ত দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বর্তমান সরকারের দুঃশাসন যেভাবে বুকে চেপে আছে, তার থেকে মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

‘এই অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে রক্ষার জন্য, আমাদের ওপর যে দুঃশাসনের পাথরের মতো বসে আছে তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে।’

সরকারের কঠোর সমালোচনা, কথা বলতে না দেয়ার অভিযোগ
সমাবেশে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন বিএনপির শীর্ষ নেতরা। তবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে এখন কেউ কথা বলতে পারছেন না। এই অবস্থার পরিবর্তন চাই।’

‘আমরা এমপি মন্ত্রী হওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না, এ দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পেতে আন্দোলন করছি। কিন্তু সেই আন্দোলন করতে আপনারা দেবে না, দিলে সত্য বেরিয়ে আসবে। তখন আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না।’

৭৮ হাজার মামলায় বিএনপির ১৮ লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করা, প্রায় ৫০০ নেতাকে গুম করার অভিযোগও তুলে ধরেন ফখরুল। মাদকবিরোধী অভিযানের গুলি করারও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘দেশে এখন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে, ত্রাসের ভয়ের রাজত্ব তৈরি হয়েছে। দেশে এখন প্রত্যেক মানুষ অনিরাপদ।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের সমস্ত ব্যাংক লুট করা হয়েছে, এমনকি বাংলাদেশে ব্যাংকে আসল সোনাকে নকল সোনায় রূপান্তরিত করছে।’

‘দেশে কোন বিদেশি বিনিয়োগ নাই, চাকরি নাই। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির চরম খারাপ অবস্থা এখন। সরকারের সে দিকে নজর নাই, নজর হলো যারাই বিরোধিতা করবে তারকেই জেলে ভরতে হবে। জামিন পাওয়ার কথা, জামিন নাই, উল্টো অন্যান্য মিথ্যা মামলায় আটক করা হচ্ছে নেতাকর্মীদেরকে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অঙ্গীকার ভঙ্গের অভিযোগ
সরকারি চাকরিতে কোটা তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে কথা না রাখারও সমালোচনা করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদে বললেন কোটাই থাকবে না, এটা বাতিল করা হবে। পরে দেখা গেল উল্টো আন্দোলনকারীদের মিথ্যা মামলায়, গুম করে, মাথা মুড়ে বাড়িতে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ অবস্থায় গেছে, বিদেশি দূতাবাসও এগুলো বন্ধ করতে বলছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৬৪৭ বার

আপনার মন্তব্য