যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 11:20pm

|   লন্ডন - 06:20pm

|   নিউইয়র্ক - 01:20pm

  সর্বশেষ :

  জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন   আমেরিকারপ্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে   খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না: মওদুদ   তারেক-জোবাইদার ব্রিটেনের ৩ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিল ঢাকার আদালত   ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়তে পারে   নুসরাত হত্যা : আ.লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক   দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী   গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ   আল্লাহর রহমতে আ.লীগের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী   নতুন চমক নিয়ে আসছেন এআর রহমান   ইতালিতে বারবিকিউয়ের আগুন থেকে দাবানল, দুই শিক্ষার্থীকে ২৭ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা   দেশেই উৎপাদন হবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ গাড়ি   বিমানবন্দরে অস্ত্র গুলিসহ উপজেলা চেয়ারম্যান আটক   নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস   কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

৫১ বছরে পদ্মার গর্ভে বিলীন ৬৬ হাজার হেক্টর জমি : নাসা

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৪ ১৪:৩৮:৩৪

পদ্মার ভাঙনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হরিরামপুর অঞ্চল। ছবি: নাসা আর্থ অরজারভেটরি

নিউজ ডেস্ক: ১৯৬৭ সাল থেকে ৫১ বছরে পদ্মা নদীর ভাঙনে ৬৬ হাজার হেক্টরের (২৫৬ বর্গমাইল) বেশি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরগুলোর একটি শিকাগোর সমান।

চলতি বছরের আগস্টে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার আর্থ অরজারভেটরি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের প্রধান দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রাকৃতিক, মুক্ত প্রবাহিত নদী ও সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়ত, নদীর তীরে একটি বড় বালুচর রয়েছে, যা দ্রুতই ভেঙে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ছবিতে পদ্মা নদীর প্রস্থ, গভীরতা, গঠন ও সামগ্রিক আকার পার্থক্য উল্লেখ করে ভাঙন পরিমাপ করেন। নাসার ‘ভাঙনের আকৃতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক-রঙের স্যাটেলাইট ছবিগুলোর সঙ্গে ১৯৮৮ সাল থেকে পদ্মার আকৃতি ও প্রস্থের পরিবর্তনগুলো তুলনা করা হয়েছে।

অনেক বছর ধরে গবেষকরা নদীর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রত্যেক ‘টুইস্ট অ্যান্ড জিগজ্যাগ’ স্যাটেলাইট ছবি নদীর একটি ভিন্ন কাহিনি তুলে ধরছে।

নাসার ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবিগুলো শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নদীর নিচে পলি মাটি বিভিন্ন উৎস থেকে আসতে পারে। এক তত্ত্ব মতে, কিছু পলিমাটি ১৯৫০ সালে সৃষ্ট ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধসের অবশিষ্টাংশ।

গবেষকরা মনে করেন, এসব বালির মতো ক্ষুদ্র উপাদান নদীর মধ্য দিয়ে অর্ধ শতাব্দী ধরে সৃষ্টি হয়েছে।

নাসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দশক ধরে পদ্মা নদী তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ, সোজাসুজি অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঁকাবাঁকা হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়েছে।

১৯৯৮ সালে ভারতে ফারাক্কা বাঁধ উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বন্যা দেখা দেয়। সে সময় বাংলাদেশে আরও বেশি পানি ঢুকে পড়ে।

এর আগে, ‘চর জানাজাতের’ কাছে জায়গা-জমি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে নদীর রেখাচিত্র তীব্রভাবে বেঁকে যায়। বক্ররেখাটি ১৯৯২ সাল থেকে বিকশিত হতে শুরু করে, ২০০২ সালে পতন শুরু হয় এবং এরপর থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রতিবেদনটিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা এবং নদী ভাঙনের ফলে এটি কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে, সে দিকটিও উঠে এসেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে নদীর ভাঙন কিছু হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগের কথা রয়েছে।

কিছু গবেষক আশা করছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে জমি প্রকৃতপক্ষে স্থির হতে পারে এবং এটি শেষ হওয়ার পর নদী ভাঙন কমতে পারে।

প্রতিবেদনটির শেষে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পদ্মার ভাঙনের হার প্রকৃতপক্ষে কমেছে। নদীটি বক্ররেখার পরিবর্তে জমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এলাকাটি ভাঙন থেকে মুক্ত।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৭৬৭ বার

আপনার মন্তব্য