আপডেট :

        বুলিং ও অর্থ ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা চাইলেন ইউসিএলএ কর্মকর্তা

        সংকটে থাকা সংবাদমাধ্যমকে সহায়তায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐতিহাসিক আইন

        শুক্রবার থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় শুরু হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহ

        দুই মরদেহ উদ্ধারের পর ল্যানকাস্টারে আরও মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি

        মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এক ঘণ্টা আগে আদালতে থামল ক্রিস্টা পাইকের শাস্তি

        যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে বড় কাটছাঁট আনছেন হেগসেথ

        আমেরিকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের কাছে যাচ্ছে ৫০০ ডলারের চেক

        ককপিটে পাইলটদের সংঘর্ষের পর সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ ইসরায়েলগামী বিমানের

        ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে বাস-রামানের মতপার্থক্য, গাজা ইস্যুতে উত্তাপ

        আদালতের আদেশ অমান্য করে ৪ সন্তানকে নিয়ে মা নিখোঁজ, অ্যাম্বার অ্যালার্ট

        ওকল্যান্ডে ট্রাম্পের কয়লা টার্মিনাল নিয়ে নতুন তথ্য, বাড়ছে দূষণের আশঙ্কা

        এলএপিডিতে শ্বেতাঙ্গরা আর সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, তবু বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ

        দুই বছর পর কর্নেলের ভ্রাতৃসংঘে ওঠা যৌ ন নি পী ড়নের অভিযোগের তদন্ত শুরু

        গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, বাতিল হতে পারে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি

        গাড়ি তৈরির খরচ কমাতে মাইলেজের মান কমাল যুক্তরাষ্ট্র, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রভাব কতটা

        হারিকেন মেরির ধাক্কার পর এবার পোলো, ক্ষতির শঙ্কায় ক্যাপিস্ট্রানো বিচ

        লস এঞ্জেলেসের স্কুলের কাছে ডাস্টবিনে নবজাতক, পরে মৃ ত্যু

        আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘটনায় বিদেশি পক্ষের হাত রয়েছে, বললেন রুবিও

        হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রক্ত সঞ্চালন, প্যাসাডেনায় নতুন জরুরি চিকিৎসায় ইতিহাস

        ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে পাসপোর্ট রেকর্ড ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান যেভাবে ব্যর্থ হলো

তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান যেভাবে ব্যর্থ হলো

শুক্রবার রাতে যখন প্রথম তুরস্কে অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন কয়েক ঘণ্টা ধরে দেশটির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী সেনাদের হাতে বলেই মনে হচ্ছিল।

রাজধানী আংকারা আর সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলের প্রধান স্থাপনাগুলোতে ছিল তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দখল করে নেয় সেনাবাহিনী এবং তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।

এত ঘটনার মধ্যে কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের।

অভ্যুত্থানকারীদের সেই মুহূর্তে দরকার ছিল সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ অংশের এবং জনগণের সমর্থন।

কিন্তু অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলডিরিম তা প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু করেছেন। তবে তুরস্কের বেশিরভাগ মানুষ জানে, প্রকৃত ক্ষমতা আসলে প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের হাতে, এবং কিছু করতে হলে তাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অভ্যুত্থান সফল হতে হলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

যেভাবে পরিস্থিতি পাল্টে গেল

শুরুতে বোঝা যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কোথায় আছেন। কোন কোন খবরে বলা হচ্ছিল তিনি তুরস্কের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিমে এজিয়ান সাগর তীরের অবকাশ কেন্দ্র মারমারিসে আছেন।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে দেখা গেল সিএনএন এর তুর্কী ভাষার নিউজ চ্যানেলে। মোবাইল ফোনে ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান প্রতিহত করার ডাক দিলেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান যখন ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে এসে নামেন, হাওয়া পুরো ঘুরে গেলো।

সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কড়া ভাষায় অভ্যুত্থানকারীদের দেখে নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন। বললেন, তুরস্কের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই।

অনেকের কাছেই পরিস্কার হয়ে গেল যে, অভ্যুত্থানকারীরা ব্যর্থ হয়েছে, সিনিয়র সেনা অধিনায়করা সরকারের পক্ষেই আছে।

আংকারার নিয়ন্ত্রণ তখনো অভ্যুত্থানকারীদের হাতে। কিন্তু ইস্তাম্বুল তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ তখন ইস্তাম্বুল আর আংকারার রাস্তায় নেমে এসেছে। বিমানবন্দরে যে সেনারা অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ঘেরাও করে জনতা, পুরো বিমানবন্দর দখল করে নেয় তারা।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটি থেকে অভ্যুত্থানকারীরা বেশ কিছু ঘোষণা প্রচার করেছিল। তারা কারফিউ জারি করেছিল। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে তারা ব্যর্থ হয়।

অভ্যুত্থানকারীদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হতে থাকে।

কোন কোন খবরে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান যে হোটেলে ছিলেন সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ফলে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

অভ্যুত্থানের পক্ষে সমর্থন

অভ্যুত্থান সফল হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সমর্থনের দরকার ছিল। কয়েকটি বড় শহরে হয়তো অনেক সেনা সদস্য এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিল।

অভ্যুত্থানকারীরা রাস্তায় অনেক ট্যাংক নামাতে পেরেছিল। তারা ইস্তাম্বুলের বসফোরাস প্রণালীর ওপরের ব্রীজ বন্ধ করে দিতে পেরেছিল।

কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল গুল হুলুসি আকার এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিলেন না। সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলে ছিল যে সেনা ডিভিশন, তার অধিনায়কও এই অভ্যুত্থান সমর্থন করেননি। নৌবাহিনী প্রধান এবং বিশেষ বাহিনীর প্রধানও অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেন। এফ-সিক্সটিন জঙ্গী বিমান থেকে অভ্যুত্থানকারীদের অবস্থানে বিমান হামলাও চালানো হয়।

যুক্তরাজ্যের একটি থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের ফাদি হাকুরা বলেন, এই অভ্যুত্থান আসলে শুরু হওয়ার আগেই ব্যর্থ হয়। এদের পেছনে না ছিল রাজনৈতিক সমর্থন, না ছিল জনগণের সমর্থন।

তুরস্কের প্রধান দলগুলো শুরুতেই জানিয়ে দেয়া তারা এর সঙ্গে নেই। ধর্মনিরপেক্ষ সিএইচপি, জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি সবাই সরকারকে সমর্থন জানায়।

অভ্যুত্থানের পেছনে কারা

বলা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর একটি অংশ এই অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে। ইস্তাম্বুলেই মূলত তাদের ঘাঁটি।

ফাদি হাকুরা মনে করেন, এরা সেনাবাহিনীর বিরাট অংশের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের ব্যর্থতা এটাও প্রমাণ করে যে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের পক্ষে আর সমাজের বেশিরভাগ অংশের কোন সমর্থন নেই।

রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এর আগে বহুবার সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার সরকার সেনাবাহিনীর মধ্যে অনেক শুদ্ধি অভিযানও চালিয়েছে।

কে এই ফেতুল্লা গুলেন

অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত বলে যার দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে, তিনি হচ্ছে ফেতুল্লা গুলেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ফেতুল্লা গুলেন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি একজন ধর্মীয় নেতা। তার হিজমেত আন্দোলনের বিরাট সমর্থন আছে তুরস্কে। এরা নানা ধরণের স্কুল, কলেজ, এনজিও এবং ব্যবসা পরিচালনা করে। তাদের আছে অনেক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু ফেতুল্লা গুলেনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে কয়েক বছর আগে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কঠোর সব ব্যবস্থা নেন হিজমেত আন্দোলনের বিরুদ্ধে।

অভ্যুত্থানের পেছনে এদের হাত আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং তার দলের নেতারা। তবে ফেতুল্লা গুলেন জোর গলায় তা অস্বীকার করেছেন।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত