অ্যানাহেইমে ইনডোর মার্কেটে অবৈধ জ্যানাক্স বিক্রির অভিযোগ, ৫ জন গ্রেপ্তার
কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব ইইউর, স্বাগত জানালেন কার্নি
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ বা ‘অ্যাসোসিয়েট মেম্বার’ করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি কানাডা ও ইউরোপের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এর একদিন আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার সম্ভাবনার কথা জানান। তবে এই ধরনের সদস্যপদের কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো বর্তমানে ইইউতে নেই। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে এর আওতা ও শর্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কার্নি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কানাডা ও ইউরোপ একসঙ্গে কাজ করলে উভয় পক্ষই আরও শক্তিশালী হবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং বাণিজ্যকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য কোনো নতুন ক্ষমতাবলয় তৈরি করা নয়। বরং কানাডা ও ইউরোপ নিজেদের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চায়। তিনি বলেন, অন্যদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য এই অংশীদারত্ব নয়।
প্রস্তাবিত সম্পর্কের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছেন কার্নি। একই সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্য আরও সহজ করা এবং দুই অঞ্চলের তরুণদের পড়াশোনা, কাজ ও বসবাসের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
কার্নি আরও বলেন, কানাডা ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এবং হাইড্রোজেন সরবরাহ করতে পারে। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে ইউরোপের অভিজ্ঞতা থেকে কানাডা উপকৃত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
তবে কানাডা ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছে না বলে স্পষ্ট করেছেন কার্নি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা পূর্ণ সদস্যপদ থেকে আলাদা একটি কাঠামো হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কানাডার নিজস্ব প্রক্রিয়ার মধ্যেই নেওয়া হবে। প্রস্তাবটি নিয়ে কানাডার পার্লামেন্টে আলোচনা ও ভোটও হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বুধবার তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে কানাডার এমন সম্পর্ককে যদি তিনি ‘বৈরী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখেন, তাহলে ইউরোপের ওপর ‘খুব বড়’ শুল্ক আরোপ করতে পারেন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধের হুমকিও দেন। তিনি প্রস্তাবটিকে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে কার্নি বলেন, কানাডা-ইইউর এই ঘনিষ্ঠতা একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, কানাডার মানুষ কোন দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তি করবে, তা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যেই কানাডা ইউরোপের সঙ্গে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ইইউর প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন ধরনের এই সদস্যপদ চালু করতে হলে ২৭টি সদস্যদেশের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে কানাডার মন্ট্রিয়ালে কানাডা-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে প্রস্তাবটির বিস্তারিত কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন