মাদকজাতীয় পিল খেয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের, তদন্তে মাদক সরবরাহকারী
মাদকজাতীয় পিল খেয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের, তদন্তে মাদক সরবরাহকারী
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পরিধি এখন লস এঞ্জেলেস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, মৃত্যুর আগে তিনি লস এঞ্জেলেসের কোনো মাদক সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া ওষুধ নিয়েছিলেন কি না।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের (ডিইএ) সদস্য ও স্থানীয় তদন্তকারীরা এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। বিশেষ করে, ১৬ আগস্ট দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে মৃত্যুর আগে প্যানেটিয়ার যে ওষুধ নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটির উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, ওই অভিনেত্রী নকল অক্সিকোডোন জাতীয় কোনো বড়ি গ্রহণ করে থাকতে পারেন। এ ধরনের নকল বড়িতে প্রায়ই ফেন্টানিল মেশানো থাকে। অল্প পরিমাণ ফেন্টানিলও প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে প্যানেটিয়ারের মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
গ্রিনভিল কাউন্টির করোনার কার্যালয় জানিয়েছে, তার বিষতাত্ত্বিক পরীক্ষার ফল এখনো বাকি রয়েছে। তাই মৃত্যুর কারণ বা ধরন সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, প্যানেটিয়ারকে হৃদ্যন্ত্র বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। জরুরি সেবার যোগাযোগের অডিও রেকর্ডে সম্ভাব্য অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ এবং ঘটনাস্থলে সিপিআর দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। তাকে বাঁচাতে নারকান দেওয়া হয় এবং প্যারামেডিকরা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্যানেটিয়ারের দীর্ঘদিনের প্রেমিক ব্রায়ান হিকারসনও ঘটনাস্থলে ছিলেন। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ওষুধভর্তি একটি ব্যাগ তুলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্যানেটিয়ার লস এঞ্জেলেসে থাকতেন, আর হিকারসন দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলের বাসিন্দা।
হিকারসনের আইনজীবী স্লোন এলিস এক বিবৃতিতে বলেন, হেইডেনের মৃত্যুর তদন্ত এখনো চলছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার জন্য সময় দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়নি। তাই তদন্ত চলাকালে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।
প্যানেটিয়ারের মৃত্যু নিয়ে চলমান তদন্তের সঙ্গে অভিনেতা ম্যাথিউ পেরি ও র্যাপার ম্যাক মিলারের মৃত্যুর তদন্তের কিছুটা মিল রয়েছে। ওই দুই ঘটনায় তাদের মাদক সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি মামলা হয়েছিল।
ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর ঘটনায় তাকে কেটামিন সরবরাহের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে ম্যাক মিলারের মৃত্যুর ঘটনায় তাকে কোকেন ও ফেন্টানিল মেশানো অক্সিকোডোন বড়ি সরবরাহের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্ত শেষে এসব ঘটনায় মাদক সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
শৈশব থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হেইডেন প্যানেটিয়ার। তবে ২০০৬ সালে এনবিসির জনপ্রিয় সায়েন্স-ফিকশন সিরিজ ‘হিরোস’-এ চিয়ারলিডার ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এই চরিত্র তাকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
এরপর ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রচারিত মিউজিক্যাল-ড্রামা সিরিজ ‘ন্যাশভিল’-এ জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় করেন প্যানেটিয়ার। অভিনয়ের পাশাপাশি এই সিরিজে গানও করেন তিনি। চরিত্রটির জন্য গোল্ডেন গ্লোবসহ বিভিন্ন পুরস্কারের মনোনয়নও পান।
বড় পর্দাতেও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে তার। ২০০৯ সালের রোমান্টিক কমেডি ‘আই লাভ ইউ, বেথ কুপার’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ২০১১ সালের হরর সিনেমা ‘স্ক্রিম ৪’-এ কির্বি রিড চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকদের নজর কাড়েন।
এ ছাড়া ‘রেসিং স্ট্রাইপস’, ‘অ্যালফা অ্যান্ড ওমেগা’ এবং ‘দ্য ফরজার’-এর মতো সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন প্যানেটিয়ার। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ভিডিও গেম এবং অ্যানিমেশনেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনেও দীর্ঘদিন নানা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন প্যানেটিয়ার। মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গে তার লড়াইয়ের কথা তিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের স্মৃতিকথাতেও লিখেছেন তিনি।
তবে হেইডেন প্যানেটিয়ারের মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তকারীরা তার মৃত্যুর আগে নেওয়া ওষুধ এবং সেগুলোর উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিষতাত্ত্বিক পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন