‘জুরাসিক পার্ক’খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
‘জুরাসিক পার্ক’, ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই। সোমবার ৭৮ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্যাম নিল। তার মৃত্যু ছিল আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত। তবে মৃত্যুর সময় তিনি ক্যান্সারমুক্ত ছিলেন।
১৯৪৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি টাইরোনের ওমাঘ শহরে তার জন্ম। জন্মের সময় তার নাম ছিল নাইজেল জন ডারমট নিল। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে চলে যান তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবারিতে পড়াশোনার সময় অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার।
১৯৭১ সালে নিউজিল্যান্ডের টেলিভিশন চলচ্চিত্র ‘দ্য সিটি অব নো’-এর মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন। এরপর একাধিক টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। ১৯৮১ সালে ‘ওমেন থ্রি: দ্য ফাইনাল কনফ্লিক্ট’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
তবে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘জুরাসিক পার্ক’ চলচ্চিত্রে ড. অ্যালান গ্রান্ট চরিত্রে অভিনয়ই তাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরে ‘জুরাসিক পার্ক থ্রি’ এবং ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: ডমিনিয়ন’-এও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে স্যাম নিল বলেছিলেন, ড. অ্যালান গ্রান্ট চরিত্রটি তার কাছে ‘আরামদায়ক পুরোনো একজোড়া জুতার মতো’, যা কখনোই ছেড়ে দিতে মন চায় না।
‘জুরাসিক পার্ক’ ছাড়াও তিনি ‘মার্লিন’, ‘দ্য টিউডরস’, ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’, ‘থর: র্যাগনারক’, ‘থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডার’, ‘বাইসেন্টেনিয়াল ম্যান’ এবং ‘ইভেন্ট হরাইজন’-এর মতো জনপ্রিয় প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন। এছাড়া অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘পিটার র্যাবিট’-এ টমি ব্রকের কণ্ঠও দিয়েছিলেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি বহু সম্মাননা অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই)’ উপাধিতে ভূষিত হন। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ড সরকার তাকে ‘নাইট কম্প্যানিয়ন অব দ্য নিউজিল্যান্ড অর্ডার অব মেরিট’ উপাধি প্রদান করে, যার মাধ্যমে তিনি ‘স্যার’ উপাধি লাভ করেন।
২০২২ সালে স্যাম নিলের শরীরে বিরল ধরনের রক্তের ক্যান্সার অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমা (AITL) ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তিনি ক্যান্সারমুক্ত হয়েছিলেন। তবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছিল।
ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি আত্মজীবনী ‘ডিড আই এভার টেল ইউ দিস?’ লিখেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বইটি লেখার কাজই তাকে কঠিন সময়ে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে স্যাম নিল দুই সন্তানের বাবা। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন