নিউইয়র্কে লিজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাব, পানির কুলিং টাওয়ার পরীক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা চায় যুক্তরাষ্ট্র, ওমানে আজ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রকাশ্য অঙ্গীকার এবং প্রণালিটি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ইস্যুতে শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনা একটি ভুল ছিল। তবে তেহরানের দাবি, এ ঘটনার জন্য সরকার নয়, বরং নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী দায়ী।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের মতে, প্রণালিতে হামলার ঘটনা গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনেছে, বরং যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
গত জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান জানিয়েছে যে, কিছু কট্টরপন্থি সদস্য আলোচনা ভণ্ডুল করতে জাহাজে হামলা চালিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরে এসে স্বীকার করেছে যে তারা ভুল করেছে এবং আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।
শনিবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের। ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আর কোনো হামলা চালানো হবে না। একই সঙ্গে জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাকে ভুল হিসেবে স্বীকার করতেও চায় ওয়াশিংটন। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, "ইরান যদি এই ঘোষণা না দেয়, তাহলে তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।"
এদিকে উত্তেজনা কমাতে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান আবার আলোচনার অনুরোধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হয়ে গেছে।
শনিবার ভোরে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান যদি তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইসরায়েল সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে যে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করেছিল।
সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘর্ষে ওমানের জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশকৃত রুটে থাকা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা দিয়ে নির্ধারিত পথই একমাত্র নিরাপদ নৌপথ।
এদিকে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌসেবা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভবিষ্যতে ওমানের সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য সেবামূল্যও আরোপ করা হতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন