মুরিয়েটায় ‘ভলকানো’ দাবানল, বেশিরভাগ উচ্ছেদ আদেশ প্রত্যাহার
হিউস্টনে আইসিই অভিযানে গুলিতে নিহত মেক্সিকান নাগরিক, তদন্ত শুরু
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন অভিযান চলাকালে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক মেক্সিকান নাগরিক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কর্মকর্তারা তাকে থামার নির্দেশ দিলে তিনি তা অমান্য করেন এবং গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি একটি আইসিই গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং এক কর্মকর্তার দিকে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মকর্তা গুলি চালালে লরেঞ্জো গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির হিউস্টন শাখার মুখপাত্র কনর হ্যাগান জানান, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজও করা হয়েছে।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে অভিবাসনবিষয়ক অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জুনের শেষ দিকে মাত্র পাঁচ দিনে আইসিই ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে।
হিউস্টনেও গত বছর থেকে অভিবাসনবিরোধী অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। হিউস্টন সিটি কাউন্সিল একসময় আইসিইর সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব পাস করলেও পরে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জননিরাপত্তা খাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রাজ্য তহবিল বন্ধের হুমকি দিলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় পরিচালিত আইসিই অভিযানের সময়ই এই গুলির ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত। তার মতে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও, যোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ার এ ঘটনায় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, লিগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (লুলাক)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুয়ান প্রোয়ানো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিএইচএসের বক্তব্যই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না। তাই ঘটনার সব ভিডিও প্রকাশ করা উচিত।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরুর পর থেকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগেও অভিবাসন কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে পরে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের মিল না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসীকে গুলি করার ঘটনায় দুই ফেডারেল কর্মকর্তার শপথ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে অসত্য তথ্য থাকার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়।
এছাড়া গত বছর এক ট্রাফিক অভিযানের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ২৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রুবেন রে মার্টিনেজ নিহত হন। সে সময় ডিএইচএস দাবি করেছিল, চালক ইচ্ছাকৃতভাবে এক কর্মকর্তাকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরে প্রকাশিত ভিডিওতে সেই দাবি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুডও ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। তখনও ডিএইচএস দাবি করেছিল, তিনি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন