দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা, সপ্তাহজুড়ে বাড়বে তাপমাত্রা
ব্যয় বেড়েছে, কাজেও বিলম্ব—লস এঞ্জেলেস বিমানবন্দরের পিপল মুভার প্রকল্প নিয়ে নতুন তদন্ত
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স)-এর বহু প্রতীক্ষিত অটোমেটেড পিপল মুভার (এপিএম) প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সিটি কাউন্সিল। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আগেই প্রকল্পটি চালু করার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় বিষয়টি এখন সিটি হলের বাড়তি নজরদারির মুখে পড়েছে।
সিটি কাউন্সিল সদস্য মনিকা রদ্রিগেজ উত্থাপিত এবং ট্রেসি পার্ক সমর্থিত এক প্রস্তাবে লস এঞ্জেলেস ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্টস (এলএডব্লিউএ)-কে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, বিলম্বের কারণ এবং ব্যয় বৃদ্ধির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রায় ২ দশমিক ২৫ মাইল দীর্ঘ স্বয়ংক্রিয় ট্রেনটি ২০২৩ সালে চালু হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারেনি।
এই প্রকল্পটি এলএএক্স বিমানবন্দরের যানজট কমানোর অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ট্রেনটি বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালকে মেট্রোর কে লাইন ও সি লাইন, পার্কিং সুবিধা এবং সমন্বিত ভাড়ার গাড়ি কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। কিন্তু প্রকল্প চালু না হওয়ায় বিমানবন্দরের সড়কপথের যানজট কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে ট্রেনগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করলেও সেগুলোতে কোনো যাত্রী বহন করা হচ্ছে না।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের অধিকাংশ নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনও নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা চলছে। যাত্রীসেবা চালুর আগে ট্রেনকে টানা ৩০ দিন কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়া চলতে হবে এবং চূড়ান্ত নিরাপত্তা অনুমোদন অর্জন করতে হবে।
প্রকল্পের বিলম্বের জন্য কোনো একক প্রযুক্তিগত সমস্যাকে দায়ী করা হচ্ছে না। বরং লস এঞ্জেলেস ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্টস (এলএডব্লিউএ) এবং প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এলএএক্স ইন্টিগ্রেটেড এক্সপ্রেস সল্যুশনস-এর মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব, পরীক্ষার শর্ত, ক্ষতিপূরণের দাবি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব বিরোধের কারণে পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ বারবার পিছিয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় শত শত মিলিয়ন ডলার বেড়েছে এবং উদ্বোধনের সময়সীমা ২০২৩ সাল থেকে পিছিয়ে এখন ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রকল্পের ব্যয়ও বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ওয়েস্টসাইড কারেন্ট-এর পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের একটি সমঝোতা চুক্তির পর প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রতি মাইল নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।
নতুন প্রস্তাবটি এখন সিটি কাউন্সিলের ট্রেড, ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে লস এঞ্জেলেস ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্টস (এলএডব্লিউএ) কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হতে পারে, কেন বিমানবন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আগেই চালু করা সম্ভব হলো না এবং চলতি বছরের মধ্যে এটি চালুর যে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত কি না।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন