রেকর্ড ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্রেডিট কার্ড ঋণে জর্জরিত মার্কিনরা, বাড়ছে বকেয়া বিল
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বৈঠক শেষে কোনো চুক্তি বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প কয়েকটি শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে পেতে রাখা সব নৌ-মাইন ধ্বংস করতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতা কাঠামোতে পৌঁছেছিল। এতে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব ছিল। তবে এটি কার্যকর করতে ট্রাম্প এবং ইরানের নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তিই করবেন না যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে না। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।”
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি দেখা যায়নি।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা অপসারণ ও ধ্বংস করা যায়। তবে এ বিষয়ে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের বক্তব্যকে “সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ” বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করার কোনো শর্ত ছিল না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধের সমাপ্তি। পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা চলছে না।”
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করার এবং বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এসব উপাদান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
এদিকে সিঙ্গাপুরে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এ ধরনের অভিযানের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার বলেন, আলোচনায় এখনো কয়েকটি ভাষাগত বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্নে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
অন্যদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, “আমরা কোনো প্রতিশ্রুতি বা কথার ওপর বিশ্বাস করি না, আমরা বিশ্বাস করি কার্যকর পদক্ষেপে। অন্য পক্ষ আগে পদক্ষেপ না নিলে আমরাও কোনো পদক্ষেপ নেব না।”
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে ইরানের বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসে আগের হামলাগুলো পরিচালিত হয়েছিল।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির “গুরুতর লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন