ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের
সাশ্রয়ী আবাসনের খোঁজে রিভারসাইডে বসতি, নিত্যসঙ্গী দীর্ঘ যানজট
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দা এখন নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন পূরণে সান দিয়েগো কাউন্টির বাইরে রিভারসাইড কাউন্টিতে চলে যাচ্ছেন। সেখানে তুলনামূলক কম দামে বড় বাড়ি পাওয়া গেলেও এর বিনিময়ে তাদের প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাতায়াতের ভোগান্তি।
এমনই একজন যাত্রী মো হুসেইন। সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার জন্য তিনি সান দিয়েগোর ওশেনসাইড ছেড়ে রিভারসাইড কাউন্টির মুরিয়েটায় বসবাস শুরু করেন। তার ভাষায়, অর্থনৈতিক দিক থেকে সিদ্ধান্তটি সঠিক হলেও প্রতিদিনের যাতায়াত এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হুসেইন বলেন, “সান দিয়েগোতে যে দামে একটি বাড়ি পাওয়া যায়, রিভারসাইড কাউন্টিতে সেই একই দামে প্রায় দ্বিগুণ বড় বাড়ি কেনা সম্ভব।”
তবে বাড়ি কেনার সুবিধার পাশাপাশি বেড়েছে যানজটের দুর্ভোগ। আগে যেখানে কর্মস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগত, এখন নিয়মিতই দেড় ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। আর মাঝপথে সামান্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রার সময় দুই ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সান দিয়েগো ও টেমেকুলা কিংবা মুরিয়েটার মধ্যে যাতায়াতের জন্য ইন্টারস্টেট-১৫ (I-15) মহাসড়কের বিকল্প কোনো বড় সড়ক নেই। ফলে যানজট তৈরি হলে চালকদের হাতে অন্য কোনো কার্যকর পথও থাকে না।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মো হুসেইন একটি অনলাইন স্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। তার দাবি, I-15 মহাসড়কে কারপুল ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে এক্সপ্রেস লেন চালু করা হোক। ইতোমধ্যে তার এই দাবির পক্ষে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।
হুসেইনের মতে, “আমি একা এই সমস্যায় ভুগছি না। প্রতিদিন হাজারো মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।”
তার বিশ্বাস, কারপুল যানবাহনের জন্য বিশেষ লেন চালু হলে আরও বেশি মানুষ একসঙ্গে যাতায়াতে আগ্রহী হবেন। এতে যানজট কমবে, যাতায়াতের সময় কমবে এবং জ্বালানি খরচও হ্রাস পাবে।
এদিকে, আঞ্চলিক পরিবহন পরিকল্পনার দায়িত্বে থাকা সান দিয়েগো অ্যাসোসিয়েশন অব গভর্নমেন্টস (SANDAG)-ও স্বীকার করেছে যে I-15 মহাসড়কের এই অংশে যানজট দিন দিন বাড়ছে।
সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসকনডিডো থেকে রিভারসাইড কাউন্টির সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়কের দুটি সাধারণ লেন ভবিষ্যতে এক্সপ্রেস লেনে রূপান্তর করা হবে। তবে প্রকল্পটি শেষ হতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
SANDAG জানিয়েছে, প্রকল্পটির ব্যয় ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের দাবি, এত দীর্ঘ অপেক্ষা সম্ভব নয়। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মো হুসেইন বলেন, “মানুষ এখন ভীষণ হতাশ। কারপুল লেন চালু হলে শুধু সময়ই বাঁচবে না, আমাদের যাতায়াতের খরচও অনেক কমে আসবে।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন