আপডেট :

        অ্যানাহেইমে ইনডোর মার্কেটে অবৈধ জ্যানাক্স বিক্রির অভিযোগ, ৫ জন গ্রেপ্তার

        ফেন্টানিলের চেয়েও শক্তিশালী নতুন মাদক, ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যুর পর সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ জন গ্রেপ্তার

        যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শতাংশের কাছাকাছি বন্ধকি ঋণের সুদ, বাড়ছে বাড়ি কেনার চাপ

        অরেঞ্জ কাউন্টিতে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ২

        বিনোদন কেন্দ্রের ক্যাবিনেটে আটকে পড়েছিল বিড়ালছানা, ফায়ারফাইটারদের উদ্ধারের ভিডিও ভাইরাল

        ১২ বছর আগে মার্কিন সাংবাদিককে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল আসাদ সরকার

        কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব ইইউর, স্বাগত জানালেন কার্নি

        ইরানে হামলায় যুদ্ধাপরাধের ‘যথেষ্ট ভিত্তি’ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ

        মাদকজাতীয় পিল খেয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের, তদন্তে মাদক সরবরাহকারী

        লস এঞ্জেলেস বন্দরে জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে গেল কয়েকটি কনটেইনার

        এল নিনোর পর নতুন বিপদ, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ে গেছে অন্তত একটি বাড়ি

        কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট পদে লড়লে ২০২৮-এ প্রার্থী হবেন না গ্যাভিন নিউসম! কেন এমন সিদ্ধান্ত?

        কিংবদন্তি পোশাক ডিজাইনার বব ম্যাকি মারা গেছেন

        শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে তিন মাস পর সিনেটে ফিরলেন মিচ ম্যাককনেল

        বোরিস জনসনসহ ইউরোপীয় কর্মকর্তারা স্টেশন ছাড়ার পর ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা

        তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পাচ্ছে লস এঞ্জেলেসসহ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

        ভয়াবহ ম্যাকলারেন দুর্ঘটনায় জনপ্রিয় কার ইনফ্লুয়েন্সারসহ নিহত ২

        জিজ্ঞাসাবাদের আগেই শিশু নির্যাতনের ছবি রাখার অভিযুক্ত দূতাবাসকর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো

        লেকে জরুরি অবতরণের পর সাঁতরে প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান

১২ বছর আগে মার্কিন সাংবাদিককে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল আসাদ সরকার

১২ বছর আগে মার্কিন সাংবাদিককে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল আসাদ সরকার

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

সিরিয়ায় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসকে অপহরণের ঘটনা আকস্মিক ছিল না। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা করে তাকে অপহরণ করেছিল বলে নতুন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে নিখোঁজ হন অস্টিন টাইস। তখন তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এর আগে মার্কিন মেরিন কোরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার এক মাসের বেশি সময় পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে চোখ বাঁধা ও আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়।

বছরের পর বছর ধারণা করা হয়েছিল, টাইসকে হয়তো কোনো সরকারি চেকপোস্টে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু বিবিসির দীর্ঘ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, তার অপহরণ ছিল পরিকল্পিত। টাইসকে যে গাড়িচালক নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি তার পরিচিত ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছিলেন এবং আগে থেকেই সিরীয় সরকারের হয়ে তথ্য সরবরাহ করতেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সিরিয়ার সাবেক সরকারের পতনের পর দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের গোপন নথিও পাওয়া যায়। শত শত পৃষ্ঠার এসব নথিতে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায় যে, টাইসকে সিরীয় সরকারই আটক করে রেখেছিল। তবে তাকে কীভাবে অপহরণ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা ছিল—এই প্রশ্নের উত্তর এতদিন স্পষ্ট ছিল না।

অনুসন্ধানে সাবেক ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সেসের (এনডিএফ) সদস্য আবু আলীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আসাদ সরকারের ঘনিষ্ঠ এই মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য দাবি করেন, টাইসের গাড়িচালক প্রথমে এনডিএফের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে তার বিষয়ে তথ্য দেন। ওই চালক জানিয়েছিলেন, টাইস বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ঘুরে যুদ্ধ ও বিরোধীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করছিলেন।

আবু আলীর দাবি, গাড়িচালকের দেওয়া তথ্য এনডিএফের প্রধান বাসাম আল-হাসানের কাছে পৌঁছায়। এরপর হাসান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আবু আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, আসাদ তখন টাইসকে ধরে আনার অনুমতি দেন। তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গে অপহরণ না করে আরও কিছুদিন নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

টাইস তখন সিরিয়ার এমন কিছু এলাকায় ঢুকে প্রতিবেদন করছিলেন, যেগুলোকে অনেক সাংবাদিকই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করতেন। তিনি ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন লিখছিলেন। কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলার সময় টাইস কখনো কখনো তাদের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়েও পরামর্শ দিতেন এবং অস্ত্র ব্যবহারের ভুল ধরিয়ে দিতেন।

এ কারণে তাকে সাংবাদিকের চেয়ে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কেউ বলে সন্দেহ করতে শুরু করেছিল তাকে নজরদারিতে রাখা ব্যক্তিরা। তবে টাইস সিআইএর কর্মকর্তা ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ বিবিসি পায়নি। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে কাজ করা সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাও তাকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন।

অপহরণের কয়েক দিন আগে টাইস বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তার ব্যাগটি গোপনে নিয়ে যান গাড়িচালক। ওই ব্যাগে তার ম্যাকবুক, স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত জিনিস ছিল। এসব সরঞ্জাম সিরীয় সরকারের লোকজন পরীক্ষা করে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

২০১২ সালের ১১ আগস্ট ৩১তম জন্মদিন পালন করেন টাইস। দামেস্কের পশ্চিম প্রান্তে বিদ্রোহীদের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে জন্মদিন উদযাপনের সময় তিনি সুইমিং পুল, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির যোদ্ধা, টেইলর সুইফটের গান ও হুইস্কির কথা উল্লেখ করে টুইট করেন। সেটিই পরে তার শেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট হয়ে ওঠে।

এরপর সিরিয়া ছাড়ার পরিকল্পনা করেন টাইস। বিভিন্নজনকে তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিনের জন্য লেবাননে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু অনুসন্ধান অনুযায়ী, তার গাড়ি তাকে লেবাননের পথে না নিয়ে দামেস্কের উপকণ্ঠের তাহুনেহ এলাকায় একটি সরকারি স্থাপনায় নিয়ে যায়। সেখানে এনডিএফের সদস্য আবু আলীসহ কয়েকজন অপেক্ষা করছিলেন।

আবু আলীর দাবি, গাড়িটি স্থাপনার ফটকে পৌঁছানোর পর চালক বন্দুক বের করেন। প্রথমে টাইস বিষয়টিকে রসিকতা মনে করে হাসছিলেন। পরে চালক তাকে জানান, তিনি সত্যিই তাকে অপহরণ করতে এসেছেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে টাইস তাকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং কত টাকা চান তা জানতে চান। এরপর এনডিএফের সদস্যরা তাকে ধরে চোখ বেঁধে ফেলেন।

আবু আলী আরও দাবি করেন, টাইসকে ধরে ফেলার পর এনডিএফের প্রধান হাসান প্রেসিডেন্ট আসাদকে ফোন করে জানান, তারা ওই মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে টাইসের গাড়িচালকের পরিচয়ও অজানা ছিল। বিবিসি ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তার পরিচয় অনুসন্ধান করে। শেষ পর্যন্ত তদন্তের সূত্র হোমস শহরের হামিদ আবু ওবেইদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়। একাধিক এনডিএফ সদস্যও নিশ্চিত করেছেন যে তিনিই টাইসকে গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তবে হামিদ আবু ওবেইদ এখন নিখোঁজ। তার পরিবার জানিয়েছে, তিনি কোথায় আছেন তা তারা জানে না এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের দাবি, টাইসের ঘটনায় হামিদের জড়িত থাকার কথা তারা আগে জানত না।

হামিদের ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা থেকে আসা ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছিল। সিরিয়ার আইনে তারা দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী ছিলেন না এবং নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও থাকতে হতো। টাইসকে ধরিয়ে দিলে হামিদকে পাসপোর্ট, সিরিয়ার নাগরিকত্ব, একটি বাড়ি ও অস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তবে অপহরণের পর তিনি শুধু একটি পিস্তল পেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

আসাদ সরকারের পতনের পর হামিদের স্ত্রী জানান, এক ব্যক্তি তার স্বামীকে ফোন করে টাইসের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা জানতেন বলে দাবি করেন এবং মার্কিন দূতাবাসকে বিষয়টি জানানোর হুমকি দেন। ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

এরপর হামিদ কিছু টাকা নিয়ে স্ত্রীকে জানান, তিনি কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। তিনি আত্মগোপনে আছেন, নাকি আটক বা নিহত হয়েছেন—তার স্ত্রী কিছুই জানেন না। পরে মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের কয়েকজন সামরিক পোশাক পরা ছিল, তাদের বাড়িতে গিয়ে হামিদের ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যায় বলেও তার স্ত্রী জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, টাইসের মা ডেবরা টাইসও এক যুগের বেশি সময় ধরে ছেলের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পরপর কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার খোঁজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিরিয়ার কারাগারগুলো থেকে আসাদ সরকারের পতনের পর হাজার হাজার বন্দি মুক্তি পেলেও টাইস তাদের মধ্যে ছিলেন না। তার মৃত্যুর দাবি আগেও উঠেছে। সিরিয়ার এক সাবেক কমান্ডার তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে এ দাবির বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত টাইসের কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

   

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত