মাদকজাতীয় পিল খেয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের, তদন্তে মাদক সরবরাহকারী
এল নিনোর পর নতুন বিপদ, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
এল নিনোর কারণে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় উপকূলীয় বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কা এমনিতেই বাড়ছে। এর মধ্যেই আবহাওয়াবিদরা সমুদ্রের আরেকটি কম পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনা নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর প্রভাবে চলতি বছর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ভয়াবহ বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
‘কেলভিন ওয়েভ’ নামে পরিচিত এই সামুদ্রিক ঢেউ বর্তমানে মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের কাছে তৈরি হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে এগিয়ে আসছে। জলবায়ুবিদদের মতে, এগুলো সমুদ্রের পানির উঁচু অংশ, যা ধীর গতিতে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয় এবং সেখানে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, এল নিনোর সময় বিষুবরেখা বরাবর সাধারণত পশ্চিমমুখী বাতাস দুর্বল হয়ে যায় এবং মাঝে মাঝে বিপরীত দিকেও প্রবাহিত হয়। এ ধরনের বাতাসের প্রবাহ সমুদ্রের মধ্যে কেলভিন ওয়েভ তৈরি করতে পারে, যা বিষুবরেখা বরাবর পূর্ব দিকে এগিয়ে যায়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার জলবায়ুবিদ ড্যানিয়েল সোয়াইনের মতে, কেলভিন ওয়েভ খুব বড় হয় না। এগুলোর উচ্চতা সাধারণত ৬ থেকে ১৮ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। তবে কখন এগুলো উপকূলে পৌঁছাবে, সেটিই বড় উদ্বেগের কারণ।
সোয়াইন বলেন, এসব ঢেউ কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক কেলভিন ওয়েভ এলে প্রথম ঢেউয়ের প্রভাব পুরোপুরি কমে যাওয়ার আগেই দ্বিতীয় ঢেউ এসে পৌঁছাতে পারে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হতে পারে যদি কেলভিন ওয়েভের সঙ্গে ঝড়ের জলোচ্ছ্বাস এবং বছরের সবচেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ার একই সময়ে মিলে যায়। তখন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে তিনটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি একসঙ্গে তৈরি হতে পারে।
সোয়াইনের ভাষ্য, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এল নিনোর কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সর্বোচ্চ জোয়ার এবং শক্তিশালী ঝড় একই সময়ে ঘটতে পারে। এমন হলে চলতি বছর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ উপকূলীয় বন্যা দেখা দিতে পারে।
সম্প্রতি হারিকেন ম্যারির প্রভাবে উপকূলীয় ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতি এবং ভাঙনের ঘটনাও এল নিনোর সঙ্গে পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত ছিল বলে জানিয়েছেন সোয়াইন। পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে এল নিনোর সম্পর্ক রয়েছে।
ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সোয়াইন সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে, তা সামনে আসতে যাওয়া পরিস্থিতির কেবল একটি আভাস।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন