লস এঞ্জেলেস মেট্রোকে ভাড়ামুক্ত করার পরিকল্পনা মেয়র কারেন ব্যাসের
লস এঞ্জেলেস মেট্রোকে ভাড়ামুক্ত করার পরিকল্পনা মেয়র কারেন ব্যাসের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
লস এঞ্জেলেস শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা লস এঞ্জেলেস মেট্রো ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ ভাড়ামুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শহরের মেয়র কারেন ব্যাস। তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে যাত্রীরা কোনো ভাড়া ছাড়াই মেট্রো ব্যবহার করতে পারেন।
বুধবার ইউনিয়ন স্টেশনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘মেট্রো স্টেট অব দ্য এজেন্সি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ পরিকল্পনার কথা জানান কারেন ব্যাস।
তিনি বলেন, “বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে আমার চারটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো—নিরাপদ মেট্রো, সাশ্রয়ী মেট্রো, নির্ভরযোগ্য মেট্রো এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত মেট্রো।”
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য লস এঞ্জেলেস মেট্রো বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন কারেন ব্যাস। এর আগে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরেও তিনি একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মেট্রোকে আরও সাশ্রয়ী করতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য চালু থাকা LIFE (লো-ইনকাম ফেয়ার ইজ ইজি) কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই কর্মসূচির আওতায় আবেদন অনুমোদনের পর প্রথম ৯০ দিন যাত্রীরা বিনামূল্যে সীমাহীন ভ্রমণের সুযোগ পান। এরপর প্রতি মাসে ২০টি বিনামূল্যের যাত্রার সুবিধা দেওয়া হয়।
কারেন ব্যাস বলেন, “আমি চাই LIFE কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো হোক এবং এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে মেট্রো সম্পূর্ণ ভাড়ামুক্ত করা সম্ভব হয়।”
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ফ্রি সিটিজ সেন্টারের পরিচালক স্টিভেন গ্রিনহাটের মতে, অতীতে ওরেগনের পোর্টল্যান্ড এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া কিছু ভাড়ামুক্ত গণপরিবহন কর্মসূচি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
তিনি বলেন, গণপরিবহন সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত, তবে সেটি পুরোপুরি বিনামূল্যে করে দেওয়া ঠিক হবে না।
গ্রিনহাটের ভাষায়, “কিছু বাস কার্যত চলমান গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ছোট শহর বা পর্যটন এলাকায় ভাড়ামুক্ত ব্যবস্থা কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে, কিন্তু বড় শহরে এটি নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। মানুষ সাধারণত বিনা মূল্যের জিনিসের মূল্য কম দেয়।”
মেয়র ব্যাস জানান, বর্তমানে স্কুলের শিক্ষার্থী, কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও মেট্রোর সব সেবা চালু রাখা হয়েছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তবে গ্রিনহাটের মতে, শুধু পরিচ্ছন্নতায় নয়, পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা ও অপরাধ দমন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থ এমনভাবে ব্যয় করতে হবে, যাতে পুরো পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও উন্নত হয়।”
মেয়র কারেন ব্যাস জানান, গত বছর লস এঞ্জেলেস মেট্রোর বাস ও ট্রেনে ৩০ কোটিরও বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। এটি নিউইয়র্ক সিটির পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণপরিবহন ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, “নিরাপদ, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে লস এঞ্জেলেসের মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারবেন। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।”
২০২৮ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজন করবে লস এঞ্জেলেস। এ বিষয়ে মেয়র ব্যাস বলেন, শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তার ভাষায়, “বিশ্বকাপ আমাদের জন্য অলিম্পিকের প্রস্তুতির একটি মহড়া ছিল। আমরা অলিম্পিক আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন