ক্যালিফোর্নিয়া থেকে একাই নৌকা বেয়ে হাওয়াই পৌঁছে ইতিহাস গড়লেন মার্কিন নারী
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই পর্যন্ত একাই বৈঠা চালিয়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মার্কিন নারী কেলসি ফেন্ডলার। এই যাত্রার মাধ্যমে তিনি একাধিক রেকর্ড ভেঙেছেন।
শুক্রবার রাতে হাওয়াইয়ের হনলুলু বন্দরে পৌঁছালে শত শত মানুষ তাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বাগত জানান। প্রায় ৪৪ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে তিনি তার ২১ ফুট দীর্ঘ ‘লিলি’ নামের নৌকায় করে গন্তব্যে পৌঁছান।
কেলসি গত মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরে থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৪০০ মাইলেরও বেশি এই দীর্ঘ সমুদ্রপথ একাই পাড়ি দিয়ে প্রথম মার্কিন নারী, সর্বকনিষ্ঠ নারী এবং সবচেয়ে কম সময়ে এই কৃতিত্ব অর্জনকারী নারী হওয়া।
তার এই পুরো অভিযানের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত শেয়ার করা হয়। লাখো মানুষ তার ভিডিও দেখে সমুদ্রে একাকী জীবন, সংগ্রাম এবং সাহসিকতার গল্প অনুসরণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ওশান রোয়িং সোসাইটি–এর তথ্য অনুযায়ী, কেলসি শুধু নারীদের আগের সময়ের রেকর্ডই ভাঙেননি, পুরুষদের আগের দ্রুততম রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন। সংস্থাটির রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি যাত্রা শেষ করেছেন ৪৪ দিনেরও কম সময়ে। এর আগে নারীদের রেকর্ড ছিল ৮৬ দিন এবং পুরুষদের রেকর্ড ছিল ৫২ দিন।
সমুদ্রে থাকার সময় কেলসি নিয়মিত ভিডিও ডায়েরিতে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় বৈঠা চালানোর কারণে হাতে ফোসকা পড়ে যায়, প্রবল বাতাসের মধ্যে ঘুমাতে কষ্ট হতো এবং সাগরের স্রোত ও বাতাসের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে প্রতিনিয়ত।
এ ছাড়া তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে নৌকায় খাবার রান্না করেছেন, সূর্যের তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন, কাপড় ধুয়েছেন এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে পানির ব্যবস্থা করেছেন।
কখনো আবেগে কণ্ঠ ভারী হয়ে এসেছে, আবার কখনো নিজের কপালের রোদে পোড়া দাগ নিয়ে হাস্যরস করেছেন। এমনকি সমুদ্রে জেগে থাকার জন্য ব্যবহৃত ক্যাফেইন ট্যাবলেট নিয়েও মজা করেছেন।
কেলসির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি ১৮ বছর বয়স থেকে পেশাদার রাফটিং গাইড হিসেবে কাজ করছেন। গত আট বছর ধরে তিনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কলোরাডো নদীতে অভিযাত্রীদের নিয়ে নৌভ্রমণ পরিচালনা করছেন।
তিনি এক ভিডিওতে বলেন, “পৃথিবীর একেবারে নির্জন জায়গায় নৌকায় থাকতে আমার খুব ভালো লাগে।”
গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে কেলসি বলেন, তার এই অর্জন যদি অন্তত একজন মানুষকেও নিজের সামর্থ্যের ওপর নতুন করে বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করে, তাহলেই তার এই কঠিন যাত্রা সার্থক।
তিনি বলেন, “নিজের জীবনের বড়, কঠিন ও ভয়ঙ্কর লক্ষ্যটি খুঁজে বের করুন। হয়তো এখন মনে হবে আপনি সেটি শেষ করার মতো শক্ত নন। কিন্তু শুরু করার মতো শক্তি আপনার অবশ্যই আছে। পথ চলতে চলতেই বাকিটা খুঁজে পাবেন।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন